4:01 pm, Wednesday, 18 March 2026

ঈদে নেই বাড়তি ভাড়া, স্বস্তিতে বাড়ি ফেরা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদের আনন্দ মানেই প্রিয়জনের কাছে ফেরা। সেই টানেই রাজধানী ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। তাদের ভিড়ে পঞ্চাশোর্ধ মাহবুব আলমও অপেক্ষায়। পেশায় দর্জি এই মানুষটি কাজ থেকে ১০ দিনের ফুসরত পেয়ে আপন ঠিকানায় ফেরার সময় গুনছেন বাস কাউন্টারে বসে। ঝামেলাবিহীন আর নির্ধারিত ভাড়ায় টিকিট পেয়ে মুখে ফুটেছে তার তৃপ্তির হাসি।

শুধু মাইবুবই নন, ঈদুল ফিতর ঘিরে বাড়তি ভাড়া না নেওয়ায় খুশি অন্য যাত্রীরাও। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে দেখা গেছে এমন চিত্র।

দুই নাতি নিয়ে নওগাঁয় যেতে বাসের টিকিট কেটেছেন মাহবুব আলম। বাস ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই কাউন্টারে এসে হাজির হন তিনি। কথা প্রসঙ্গে মাহবুব বলেন, আমি পেশায় দর্জি। অন্যের দোকানে কাজ করি। এবারের ঈদে ১০ দিন ছুটি পেয়েছি। এজন্য দুই নাতিকে নিয়ে বাড়ি ফিরছি।

তিনি বলেন, অন্যান্য ঈদে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়তি ভাড়া নেওয়া হতো। কিন্তু এবার ঠিকঠাক ভাড়াতেই টিকিট পেয়েছি। নির্ধারিত সময়ে গাড়ি ছাড়বে বলে আশাকরি।

সিলেটগামী যাত্রী সাব্বির আহমেদ। চাকরি করেন বেসরকারি একটি কোম্পানিতে। তিনি বলেন, আমি সবসময়ই এসি বাসে যাতায়াত করি। সেই হিসাবে ভাড়া নিয়েছে ৮৫০ টাকা। যা স্বাভাবিক সময়ে নেওয়া হয়। তবে ভোগান্তির আশঙ্কায় আগেভাগে কাউন্টারে এসেছি। কিন্তু তেমন কোনো চাপ পাইনি। সহজেই টিকিট পেয়েছি।

ঢাকা-সিলেটগামী বিলাস পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার জয় বলেন, অন্যান্যবারের তুলনায় এবার যাত্রীর চাপ কম। ভাড়াও বাড়ানো হয়নি। সরকার থেকে নির্ধারণ করা ভাড়াতেই আমরা টিকিট দিচ্ছি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আগেভাগে ছুটি দেওয়ায় এবার যাত্রীর চাপ কম বলে মনে করছেন বগুড়া-নওগাঁ রুটে চলাচল করা একতা ট্রান্সপোর্টের কাউন্টারে কর্মরত আসিফ। তিনি বলেন, ঈদের চাপ হিসেবে আজ তেমন নেই। কারণ চার-পাঁচদিন আগ থেকেই ঢাকা ছাড়া শুরু করেছেন লোকজন। কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগেভাগে ছুটি হওয়ায় অনেকেই পরিবারের সদস্যদের গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে, অতিরিক্ত ভাড়া ঠেকাতে বরাবরের মতোই তৎপর প্রশাসন। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দিনের পাশাপাশি রাতেও টহল দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ-র কর্মকর্তারাও। সবমিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক বলছেন যাত্রীরা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম

ঈদে নেই বাড়তি ভাড়া, স্বস্তিতে বাড়ি ফেরা

Update Time : 01:50:39 am, Wednesday, 18 March 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদের আনন্দ মানেই প্রিয়জনের কাছে ফেরা। সেই টানেই রাজধানী ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। তাদের ভিড়ে পঞ্চাশোর্ধ মাহবুব আলমও অপেক্ষায়। পেশায় দর্জি এই মানুষটি কাজ থেকে ১০ দিনের ফুসরত পেয়ে আপন ঠিকানায় ফেরার সময় গুনছেন বাস কাউন্টারে বসে। ঝামেলাবিহীন আর নির্ধারিত ভাড়ায় টিকিট পেয়ে মুখে ফুটেছে তার তৃপ্তির হাসি।

শুধু মাইবুবই নন, ঈদুল ফিতর ঘিরে বাড়তি ভাড়া না নেওয়ায় খুশি অন্য যাত্রীরাও। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে দেখা গেছে এমন চিত্র।

দুই নাতি নিয়ে নওগাঁয় যেতে বাসের টিকিট কেটেছেন মাহবুব আলম। বাস ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই কাউন্টারে এসে হাজির হন তিনি। কথা প্রসঙ্গে মাহবুব বলেন, আমি পেশায় দর্জি। অন্যের দোকানে কাজ করি। এবারের ঈদে ১০ দিন ছুটি পেয়েছি। এজন্য দুই নাতিকে নিয়ে বাড়ি ফিরছি।

তিনি বলেন, অন্যান্য ঈদে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়তি ভাড়া নেওয়া হতো। কিন্তু এবার ঠিকঠাক ভাড়াতেই টিকিট পেয়েছি। নির্ধারিত সময়ে গাড়ি ছাড়বে বলে আশাকরি।

সিলেটগামী যাত্রী সাব্বির আহমেদ। চাকরি করেন বেসরকারি একটি কোম্পানিতে। তিনি বলেন, আমি সবসময়ই এসি বাসে যাতায়াত করি। সেই হিসাবে ভাড়া নিয়েছে ৮৫০ টাকা। যা স্বাভাবিক সময়ে নেওয়া হয়। তবে ভোগান্তির আশঙ্কায় আগেভাগে কাউন্টারে এসেছি। কিন্তু তেমন কোনো চাপ পাইনি। সহজেই টিকিট পেয়েছি।

ঢাকা-সিলেটগামী বিলাস পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার জয় বলেন, অন্যান্যবারের তুলনায় এবার যাত্রীর চাপ কম। ভাড়াও বাড়ানো হয়নি। সরকার থেকে নির্ধারণ করা ভাড়াতেই আমরা টিকিট দিচ্ছি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আগেভাগে ছুটি দেওয়ায় এবার যাত্রীর চাপ কম বলে মনে করছেন বগুড়া-নওগাঁ রুটে চলাচল করা একতা ট্রান্সপোর্টের কাউন্টারে কর্মরত আসিফ। তিনি বলেন, ঈদের চাপ হিসেবে আজ তেমন নেই। কারণ চার-পাঁচদিন আগ থেকেই ঢাকা ছাড়া শুরু করেছেন লোকজন। কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগেভাগে ছুটি হওয়ায় অনেকেই পরিবারের সদস্যদের গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে, অতিরিক্ত ভাড়া ঠেকাতে বরাবরের মতোই তৎপর প্রশাসন। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দিনের পাশাপাশি রাতেও টহল দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ-র কর্মকর্তারাও। সবমিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক বলছেন যাত্রীরা।