11:58 am, Sunday, 17 May 2026

পশ্চিমাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠী

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

যুক্তরাষ্ট্রে হামলা পরিকল্পনার অভিযোগে এক ইরাকি নাগরিকের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে আনীত অভিযোগপত্র প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে দূরবর্তী পশ্চিমা স্বার্থে আঘাত হানতে ক্রমেই তাদের প্রক্সি বা মিত্র বাহিনীকে ব্যবহার করছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগেও ইরানের শক্তিশালী ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) আমেরিকার মাটিতে তাদের বিরোধীদের হত্যার চেষ্টা করেছিল। তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প থেকে শুরু করে নিউইয়র্কে নির্বাসিত ইরানি সরকারের সমালোচক মাসিহ আলিনেজাদও ছিলেন।

মোহাম্মদ আল-সাদি নামের ওই ইরাকি নাগরিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে তাকে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠী ‘কাতায়িব হিজবুল্লাহ’-এর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইউরোপে ধারাবাহিক কিছু হামলার সঙ্গে আল-সাদি জড়িত ছিলেন বলে প্রসিকিউটরদের দাবির পর এই উদ্বেগ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির বিশেষজ্ঞ অ্যারন ওয়াই জেলিন কাতায়িব হিজবুল্লাহর প্রসঙ্গে বলেন, ‘তারা এখন কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং প্রকৃত পশ্চিমা দেশগুলোতে তাদের পরিধি বিস্তার করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এর মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের বিস্তৃত ‘অক্ষশক্তি’ বা ‘প্রতিরোধের অক্ষ’-এর আরো বেশি শাখা এখন পশ্চিমে হামলায় জড়িয়ে পড়ছে।’

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে আল-সাদি ইউরোপ ও কানাডায় অন্তত ২০টি হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি ইহুদি প্রতিষ্ঠানসহ মার্কিন মাটিতেও হামলার ছক কষছিলেন।

আল-সাদির আইনজীবীর দেওয়া তথ্যমতে, সম্প্রতি সাদিকে তুরস্কে আটক করে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে তাকে হাজির করা হলেও তিনি কোনো স্বীকারোক্তি দেননি।

ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের সঙ্গে যুক্ত ইরাকি সংবাদমাধ্যম সাবেরিন নিউজ জানিয়েছে, আল-সাদি তুরস্ক হয়ে মস্কো যাওয়ার পথে তুর্কি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক হন।

বিষয়টি এখনো আদালতের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় অনেক কিছুই অস্পষ্ট। কাতায়িব হিজবুল্লাহ আল-সাদির গ্রেপ্তার বা পশ্চিমা দেশে হামলায় সমর্থনের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

আল-সাদিও কাতায়িব হিজবুল্লাহর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে কিছু বলেননি, তবে তার আইনজীবী আদালতে তাকে একজন ‘রাজনৈতিক বন্দি এবং যুদ্ধবন্দি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইরাকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তাসহ সাদিকে চেনেন এমন তিনজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ইরানি কর্মকর্তা ও ইরাকি মিলিশিয়াদের সঙ্গে সাদির যোগাযোগ থাকলেও তিনি কাতায়িব হিজবুল্লাহর সদস্য কি-না, তা তারা জানেন না।

তদন্তকারীরা আদালতে কিছু ফোন কলের অনুলিপি পেশ করেছেন, যেখানে সাদিকে ইহুদি উপাসনালয়সহ বিভিন্ন স্থানে হামলা এবং কর্মী সংগ্রহের পরিকল্পনা করতে শোনা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ২০২০ সালে মার্কিন হামলায় নিহত ইরানি কমান্ডার কাসেম সুলেমানির সঙ্গে সাদির ছবিও যুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বেলজিয়ামের একটি সিনাগগে (ইহুদি উপাসনালয়) অগ্নিসংযোগ এবং প্যারিসে ব্যাংক অব আমেরিকা ভবনে হামলার ঘটনা উল্লেখ রয়েছে। এসব হামলার অনেকগুলোই প্রথমে ‘হারাকাত আশহাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া’ নামের একটি অজানা গোষ্ঠী নিজেদের দাবি করেছিল। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এটি মূলত কাতায়িব হিজবুল্লাহরই একটি ছদ্মবেশী সংগঠন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আল-সাদি লস অ্যাঞ্জেলেস ও অ্যারিজোনায় ‘আমেরিকান ও ইহুদিদের’ হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং নিউইয়র্ক সিটির একটি সিনাগগে হামলার ছক কষতে শুরু করেছিলেন।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কাতায়িব হিজবুল্লাহ ইরাকে মার্কিন দূতাবাস এবং আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল স্থাপনায় হামলায় জড়িত ছিল। তবে তাদের ভূমিকা এতদিন অঞ্চলিক সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে মনে করা হতো। ইরানের সমর্থনে এই মিলিশিয়া গোষ্ঠীটি ইরাকে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তারা মার্কিন সেনাদের হত্যা, মার্কিন সাংবাদিক ও ইসরাইলি শিক্ষাবিদকে অপহরণ এবং সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারকে টিকিয়ে রাখতে লড়াই করেছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব নেতৃত্ব থাকলেও তারা আইআরজিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে কাজ করে। তেহরানের সবুজ সংকেত ছাড়া তারা এমন কোনো বৈদেশিক অভিযান পরিচালনা করবে না যা ইরানের ওপর উল্টো আঘাত হিসেবে আসতে পারে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং ইরান একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পালন করছে। যুদ্ধ অবসানের জন্য পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে। কারণ দুই পক্ষ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সীমাবদ্ধতার বিষয়ে একমত হতে পারছে না। এর মধ্যে ইরান পারস্য উপসাগরের কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যা বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। জবাবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোও ইরানি বন্দরে নিজস্ব অবরোধ জারি রেখেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের সামরিক বাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, পুনরায় পূর্ণ মাত্রায় যুদ্ধ শুরু হলে লড়াই করার মতো যথেষ্ট সামরিক সক্ষমতা এখনও ইরানের রয়েছে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম

পশ্চিমাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠী

Update Time : 09:31:49 am, Sunday, 17 May 2026

যুক্তরাষ্ট্রে হামলা পরিকল্পনার অভিযোগে এক ইরাকি নাগরিকের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে আনীত অভিযোগপত্র প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে দূরবর্তী পশ্চিমা স্বার্থে আঘাত হানতে ক্রমেই তাদের প্রক্সি বা মিত্র বাহিনীকে ব্যবহার করছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগেও ইরানের শক্তিশালী ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) আমেরিকার মাটিতে তাদের বিরোধীদের হত্যার চেষ্টা করেছিল। তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প থেকে শুরু করে নিউইয়র্কে নির্বাসিত ইরানি সরকারের সমালোচক মাসিহ আলিনেজাদও ছিলেন।

মোহাম্মদ আল-সাদি নামের ওই ইরাকি নাগরিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে তাকে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠী ‘কাতায়িব হিজবুল্লাহ’-এর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইউরোপে ধারাবাহিক কিছু হামলার সঙ্গে আল-সাদি জড়িত ছিলেন বলে প্রসিকিউটরদের দাবির পর এই উদ্বেগ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির বিশেষজ্ঞ অ্যারন ওয়াই জেলিন কাতায়িব হিজবুল্লাহর প্রসঙ্গে বলেন, ‘তারা এখন কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং প্রকৃত পশ্চিমা দেশগুলোতে তাদের পরিধি বিস্তার করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এর মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের বিস্তৃত ‘অক্ষশক্তি’ বা ‘প্রতিরোধের অক্ষ’-এর আরো বেশি শাখা এখন পশ্চিমে হামলায় জড়িয়ে পড়ছে।’

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে আল-সাদি ইউরোপ ও কানাডায় অন্তত ২০টি হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি ইহুদি প্রতিষ্ঠানসহ মার্কিন মাটিতেও হামলার ছক কষছিলেন।

আল-সাদির আইনজীবীর দেওয়া তথ্যমতে, সম্প্রতি সাদিকে তুরস্কে আটক করে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে তাকে হাজির করা হলেও তিনি কোনো স্বীকারোক্তি দেননি।

ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের সঙ্গে যুক্ত ইরাকি সংবাদমাধ্যম সাবেরিন নিউজ জানিয়েছে, আল-সাদি তুরস্ক হয়ে মস্কো যাওয়ার পথে তুর্কি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক হন।

বিষয়টি এখনো আদালতের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় অনেক কিছুই অস্পষ্ট। কাতায়িব হিজবুল্লাহ আল-সাদির গ্রেপ্তার বা পশ্চিমা দেশে হামলায় সমর্থনের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

আল-সাদিও কাতায়িব হিজবুল্লাহর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে কিছু বলেননি, তবে তার আইনজীবী আদালতে তাকে একজন ‘রাজনৈতিক বন্দি এবং যুদ্ধবন্দি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইরাকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তাসহ সাদিকে চেনেন এমন তিনজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ইরানি কর্মকর্তা ও ইরাকি মিলিশিয়াদের সঙ্গে সাদির যোগাযোগ থাকলেও তিনি কাতায়িব হিজবুল্লাহর সদস্য কি-না, তা তারা জানেন না।

তদন্তকারীরা আদালতে কিছু ফোন কলের অনুলিপি পেশ করেছেন, যেখানে সাদিকে ইহুদি উপাসনালয়সহ বিভিন্ন স্থানে হামলা এবং কর্মী সংগ্রহের পরিকল্পনা করতে শোনা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ২০২০ সালে মার্কিন হামলায় নিহত ইরানি কমান্ডার কাসেম সুলেমানির সঙ্গে সাদির ছবিও যুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বেলজিয়ামের একটি সিনাগগে (ইহুদি উপাসনালয়) অগ্নিসংযোগ এবং প্যারিসে ব্যাংক অব আমেরিকা ভবনে হামলার ঘটনা উল্লেখ রয়েছে। এসব হামলার অনেকগুলোই প্রথমে ‘হারাকাত আশহাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া’ নামের একটি অজানা গোষ্ঠী নিজেদের দাবি করেছিল। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এটি মূলত কাতায়িব হিজবুল্লাহরই একটি ছদ্মবেশী সংগঠন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আল-সাদি লস অ্যাঞ্জেলেস ও অ্যারিজোনায় ‘আমেরিকান ও ইহুদিদের’ হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং নিউইয়র্ক সিটির একটি সিনাগগে হামলার ছক কষতে শুরু করেছিলেন।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কাতায়িব হিজবুল্লাহ ইরাকে মার্কিন দূতাবাস এবং আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল স্থাপনায় হামলায় জড়িত ছিল। তবে তাদের ভূমিকা এতদিন অঞ্চলিক সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে মনে করা হতো। ইরানের সমর্থনে এই মিলিশিয়া গোষ্ঠীটি ইরাকে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তারা মার্কিন সেনাদের হত্যা, মার্কিন সাংবাদিক ও ইসরাইলি শিক্ষাবিদকে অপহরণ এবং সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারকে টিকিয়ে রাখতে লড়াই করেছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব নেতৃত্ব থাকলেও তারা আইআরজিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে কাজ করে। তেহরানের সবুজ সংকেত ছাড়া তারা এমন কোনো বৈদেশিক অভিযান পরিচালনা করবে না যা ইরানের ওপর উল্টো আঘাত হিসেবে আসতে পারে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং ইরান একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পালন করছে। যুদ্ধ অবসানের জন্য পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে। কারণ দুই পক্ষ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সীমাবদ্ধতার বিষয়ে একমত হতে পারছে না। এর মধ্যে ইরান পারস্য উপসাগরের কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যা বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। জবাবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোও ইরানি বন্দরে নিজস্ব অবরোধ জারি রেখেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের সামরিক বাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, পুনরায় পূর্ণ মাত্রায় যুদ্ধ শুরু হলে লড়াই করার মতো যথেষ্ট সামরিক সক্ষমতা এখনও ইরানের রয়েছে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস