3:45 am, Wednesday, 10 June 2026

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর ঘিরে নতুন আশার আলো দেখছেন প্রবাসীরা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ায় দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে আগামী ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে কুয়ালালামপুরে আসার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। এই সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে প্রবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন পরিসরে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

প্রবাসীদের প্রত্যাশা, দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশিদের বৈধতার সুযোগ সৃষ্টি এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রশ্নটি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে। একই সঙ্গে সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলেও মনে করছেন তারা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে স্বাগত জানিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন প্রবাসীরা। অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও জটিলতার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মালয়েশিয়া যুবদলের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, সরকারপ্রধানের এই সফর শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমাধানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা আশা করছি, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা ও সম্প্রসারণের ব্যাপারেও ইতিবাচক অগ্রগতি হবে। মালয়েশিয়া প্রবাসীরা অধীর আগ্রহে প্রধানমন্ত্রীর সফরের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

মালয়েশিয়া প্রবাসী কমিউনিটি নেতা ও এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, আমাদের রাষ্ট্রপ্রধানের এই সফরের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশিদের বৈধতার সুযোগ সৃষ্টি এবং সিন্ডিকেটমুক্ত, স্বচ্ছ ও কম খরচে কর্মীবান্ধব শ্রমবাজার গড়ে তোলার বিষয়ে ইতিবাচক কোনো ঘোষণা এলে তা হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য বড় সুখবর হবে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২১ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুর পৌঁছাবেন এবং ২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, অভিবাসন, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় স্থান পেতে পারে।

কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়া সরকার ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সফরের দ্বিতীয় দিনে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের সূচি প্রায় চূড়ান্ত। সবকিছু ঠিক থাকলে ২১ থেকে ২২ জুন তিনি মালয়েশিয়া সফর করবেন। এরপর ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফরেরও কর্মসূচি রয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি বেইজিং যাবেন নাকি আগে ঢাকায় ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবারের সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে অভিবাসন ও জনশক্তি রপ্তানি। প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে সফরটি প্রবাসীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, রাষ্ট্রপ্রধানদের সফর সাধারণত বড় কোনো কৌশলগত বা অর্থনৈতিক লক্ষ্যকে সামনে রেখেই অনুষ্ঠিত হয়। সে বিবেচনায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হতে পারে।

সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শ্রমবাজারটা খুলে যাবে। ১০ থেকে ১৫ দিন কিংবা এক মাসের মধ্যেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য মালয়েশিয়া সফর সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। নতুন কোনো সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম
Popular Post

পুশইন নিয়ে আবিদুলের পোস্ট ভাইরাল

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর ঘিরে নতুন আশার আলো দেখছেন প্রবাসীরা

Update Time : 08:36:09 am, Thursday, 4 June 2026

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ায় দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে আগামী ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে কুয়ালালামপুরে আসার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। এই সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে প্রবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন পরিসরে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

প্রবাসীদের প্রত্যাশা, দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশিদের বৈধতার সুযোগ সৃষ্টি এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রশ্নটি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে। একই সঙ্গে সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলেও মনে করছেন তারা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে স্বাগত জানিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন প্রবাসীরা। অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও জটিলতার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মালয়েশিয়া যুবদলের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, সরকারপ্রধানের এই সফর শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমাধানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা আশা করছি, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা ও সম্প্রসারণের ব্যাপারেও ইতিবাচক অগ্রগতি হবে। মালয়েশিয়া প্রবাসীরা অধীর আগ্রহে প্রধানমন্ত্রীর সফরের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

মালয়েশিয়া প্রবাসী কমিউনিটি নেতা ও এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, আমাদের রাষ্ট্রপ্রধানের এই সফরের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশিদের বৈধতার সুযোগ সৃষ্টি এবং সিন্ডিকেটমুক্ত, স্বচ্ছ ও কম খরচে কর্মীবান্ধব শ্রমবাজার গড়ে তোলার বিষয়ে ইতিবাচক কোনো ঘোষণা এলে তা হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য বড় সুখবর হবে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২১ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুর পৌঁছাবেন এবং ২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, অভিবাসন, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় স্থান পেতে পারে।

কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়া সরকার ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সফরের দ্বিতীয় দিনে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের সূচি প্রায় চূড়ান্ত। সবকিছু ঠিক থাকলে ২১ থেকে ২২ জুন তিনি মালয়েশিয়া সফর করবেন। এরপর ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফরেরও কর্মসূচি রয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি বেইজিং যাবেন নাকি আগে ঢাকায় ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবারের সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে অভিবাসন ও জনশক্তি রপ্তানি। প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে সফরটি প্রবাসীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, রাষ্ট্রপ্রধানদের সফর সাধারণত বড় কোনো কৌশলগত বা অর্থনৈতিক লক্ষ্যকে সামনে রেখেই অনুষ্ঠিত হয়। সে বিবেচনায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হতে পারে।

সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শ্রমবাজারটা খুলে যাবে। ১০ থেকে ১৫ দিন কিংবা এক মাসের মধ্যেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য মালয়েশিয়া সফর সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। নতুন কোনো সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।