3:45 am, Wednesday, 10 June 2026

পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, তালিকায় আরও ১৬ অঞ্চল

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বের ১৭টি অঞ্চল পৃথিবীর মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩২ থেকে ৮৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বিষয়টি অনেক নিচু দ্বীপরাষ্ট্র ও উপকূলীয় শহরের জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করবে। এ তালিকায় আছে বাংলাদেশও।

দ্য জেরুজালেম পোস্ট গবেষণাটির সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে। একনজরে দেখে নেওয়া যাক সংকটাপন্ন অঞ্চলগুলোর ব্যাপারে প্রতিবেদনটিতে কী বলা হয়েছে :

নিচু দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর অস্তিত্ব সংকট
মালদ্বীপ : বিশ্বের সর্বনিম্ন উচ্চতার এই দেশটিতে সমুদ্রের উচ্চতা বাড়লে ২০৫০ সালের মধ্যে এর ১,১০০টি দ্বীপের প্রায় ৮০ শতাংশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠতে পারে।

টুভালু ও কিরিবাতি : টুভালুর প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকা ২১০০ সালের মধ্যে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিরিবাতিতে সমুদ্রের উচ্চতা বিশ্বব্যাপী গড়ের চেয়ে চারগুণ দ্রুত বাড়ছে।

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জ : এই অঞ্চলের অনেক দ্বীপ ইতিমধ্যে সমুদ্রের নিচে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার ঝুঁকি

এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশ তার মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৭ শতাংশ হারাতে পারে। এর ফলে প্রায় ২০ মিলিয়ন (২ কোটি) মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়া লবণাক্ত পানি প্রবেশ এবং ঘন ঘন ঝড়ের কারণে কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে, যা মানুষকে অভিবাসনে বাধ্য করছে।

হুমকির মুখে ঐতিহাসিক শহর ও উন্নত দেশ

ভেনিস (ইতালি) : পর্যটকদের প্রিয় এই শহরটি প্রতি বছর ১-২ মিলিমিটার করে তলিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে শহরটি ১৮টি ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হয়েছে।

মিয়ামি (যুক্তরাষ্ট্র) : নিচু এলাকা এবং ছিদ্রযুক্ত চুনাপাথরের ওপর শহরটি গঠিত হওয়ায় নিচ থেকে পানি উঠে আসার মাধ্যমে এটি দীর্ঘমেয়াদী বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।

নেদারল্যান্ডস : উন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বেও এর চারভাগের একভাগ এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে এবং ৬০ শতাংশ মানুষ বন্যার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাস করে।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে নাউরু, টরেস প্রণালী দ্বীপপুঞ্জ, পালাউ, ভানুয়াতু, সেশেলস, সামোয়া, ফিজি, বাহামাস-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।

পর্যটন ও পরিবেশগত সতর্কতা

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলগুলো হারিয়ে গেলে গোটা পৃথিবীর জীববৈচিত্রে পরিবর্তন ঘটবে। পরিবেশের ক্ষতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে। সমুদ্রপৃষ্ঠের এই পরিবর্তন কেবল ভূরাজনীতিই বদলে দেবে না, বরং লাখ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপন্ন করে তুলবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম
Popular Post

পুশইন নিয়ে আবিদুলের পোস্ট ভাইরাল

পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, তালিকায় আরও ১৬ অঞ্চল

Update Time : 12:41:11 pm, Friday, 5 June 2026

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বের ১৭টি অঞ্চল পৃথিবীর মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩২ থেকে ৮৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বিষয়টি অনেক নিচু দ্বীপরাষ্ট্র ও উপকূলীয় শহরের জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করবে। এ তালিকায় আছে বাংলাদেশও।

দ্য জেরুজালেম পোস্ট গবেষণাটির সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে। একনজরে দেখে নেওয়া যাক সংকটাপন্ন অঞ্চলগুলোর ব্যাপারে প্রতিবেদনটিতে কী বলা হয়েছে :

নিচু দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর অস্তিত্ব সংকট
মালদ্বীপ : বিশ্বের সর্বনিম্ন উচ্চতার এই দেশটিতে সমুদ্রের উচ্চতা বাড়লে ২০৫০ সালের মধ্যে এর ১,১০০টি দ্বীপের প্রায় ৮০ শতাংশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠতে পারে।

টুভালু ও কিরিবাতি : টুভালুর প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকা ২১০০ সালের মধ্যে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিরিবাতিতে সমুদ্রের উচ্চতা বিশ্বব্যাপী গড়ের চেয়ে চারগুণ দ্রুত বাড়ছে।

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জ : এই অঞ্চলের অনেক দ্বীপ ইতিমধ্যে সমুদ্রের নিচে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার ঝুঁকি

এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশ তার মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৭ শতাংশ হারাতে পারে। এর ফলে প্রায় ২০ মিলিয়ন (২ কোটি) মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়া লবণাক্ত পানি প্রবেশ এবং ঘন ঘন ঝড়ের কারণে কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে, যা মানুষকে অভিবাসনে বাধ্য করছে।

হুমকির মুখে ঐতিহাসিক শহর ও উন্নত দেশ

ভেনিস (ইতালি) : পর্যটকদের প্রিয় এই শহরটি প্রতি বছর ১-২ মিলিমিটার করে তলিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে শহরটি ১৮টি ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হয়েছে।

মিয়ামি (যুক্তরাষ্ট্র) : নিচু এলাকা এবং ছিদ্রযুক্ত চুনাপাথরের ওপর শহরটি গঠিত হওয়ায় নিচ থেকে পানি উঠে আসার মাধ্যমে এটি দীর্ঘমেয়াদী বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।

নেদারল্যান্ডস : উন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বেও এর চারভাগের একভাগ এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে এবং ৬০ শতাংশ মানুষ বন্যার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাস করে।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে নাউরু, টরেস প্রণালী দ্বীপপুঞ্জ, পালাউ, ভানুয়াতু, সেশেলস, সামোয়া, ফিজি, বাহামাস-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।

পর্যটন ও পরিবেশগত সতর্কতা

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলগুলো হারিয়ে গেলে গোটা পৃথিবীর জীববৈচিত্রে পরিবর্তন ঘটবে। পরিবেশের ক্ষতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে। সমুদ্রপৃষ্ঠের এই পরিবর্তন কেবল ভূরাজনীতিই বদলে দেবে না, বরং লাখ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপন্ন করে তুলবে।