1:25 am, Wednesday, 10 June 2026

বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ কিংবা মূলধন সংকটে সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন ও সেবা দিতে পারছেনা এমন শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান আবার সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ নামে চালু হওয়া এ তহবিলের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় কিন্তু আর্থিক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বল্পসুদে অর্থায়ন দেওয়া হবে, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি ফিরে আসে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন ) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি)।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির স্বার্থে বহু সম্ভাবনাময় শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনা জরুরি। কিন্তু কার্যকরী মূলধনের ঘাটতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করেই নতুন এ তহবিল গঠন করা হয়েছে।

সার্কুলার অনুযায়ী, স্কিমটির আকার ২০ হাজার কোটি টাকা এবং এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত হবে। পুনঃচলমান (রিভলভিং) এ তহবিলের মেয়াদ প্রাথমিকভাবে তিন বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই স্কিমের আওতায় জাতীয় শিল্প নীতিমালা অনুযায়ী বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের এমন প্রতিষ্ঠান ঋণ সুবিধা পাবে, যারা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও প্রয়োজনীয় কার্যকরী মূলধন পেলে পুনরায় উৎপাদন বা সেবা কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান সচল থাকলেও মূলধনের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারছে না, তারাও এ সুবিধার আওতায় আসবে।

তবে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরা এ সুবিধা পাবে না।

ঋণের অর্থ কেবল কার্যকরী মূলধন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল, কাঁচামাল সংগ্রহ এবং উৎপাদন ও সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যয়ে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই পুরোনো ঋণ সমন্বয় বা পরিশোধে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের বেতন সরাসরি ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। নগদে বেতন বিতরণের সুযোগ থাকবে না। অর্থের ব্যবহার তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একটি এসক্রো বা রেভিনিউ অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে হবে, যার মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পন্ন হবে।

স্কিমের আওতায় কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবে। প্রতিটি ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ১ বছর। তবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সন্তোষজনক হলে এবং ব্যাংকের মূল্যায়নে উপযুক্ত বিবেচিত হলে তা নবায়ন করা যাবে।

গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করা যাবে। প্রথম ৬ মাস গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা থাকবে।

এ অর্থের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ হারে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেবে। এছাড়া প্রকৃত চার্জ ও ডিজিটাল নথিপত্র সংক্রান্ত ব্যয় ছাড়া গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো ফি বা চার্জ আদায় করা যাবে না।

ব্যাংকের দায়িত্ব:

ঋণ দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যাচাই, ঋণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এছাড়া ঋণের অনিয়ম বা অপব্যবহার হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এই তহবিলের মাধ্যমে বন্ধ শিল্প-কারখানা ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরে আসবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম
Popular Post

পুশইন নিয়ে আবিদুলের পোস্ট ভাইরাল

বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল

Update Time : 12:59:22 pm, Friday, 5 June 2026

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ কিংবা মূলধন সংকটে সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন ও সেবা দিতে পারছেনা এমন শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান আবার সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ নামে চালু হওয়া এ তহবিলের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় কিন্তু আর্থিক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বল্পসুদে অর্থায়ন দেওয়া হবে, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি ফিরে আসে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন ) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি)।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির স্বার্থে বহু সম্ভাবনাময় শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনা জরুরি। কিন্তু কার্যকরী মূলধনের ঘাটতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করেই নতুন এ তহবিল গঠন করা হয়েছে।

সার্কুলার অনুযায়ী, স্কিমটির আকার ২০ হাজার কোটি টাকা এবং এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত হবে। পুনঃচলমান (রিভলভিং) এ তহবিলের মেয়াদ প্রাথমিকভাবে তিন বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই স্কিমের আওতায় জাতীয় শিল্প নীতিমালা অনুযায়ী বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের এমন প্রতিষ্ঠান ঋণ সুবিধা পাবে, যারা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও প্রয়োজনীয় কার্যকরী মূলধন পেলে পুনরায় উৎপাদন বা সেবা কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান সচল থাকলেও মূলধনের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারছে না, তারাও এ সুবিধার আওতায় আসবে।

তবে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরা এ সুবিধা পাবে না।

ঋণের অর্থ কেবল কার্যকরী মূলধন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল, কাঁচামাল সংগ্রহ এবং উৎপাদন ও সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যয়ে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই পুরোনো ঋণ সমন্বয় বা পরিশোধে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের বেতন সরাসরি ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। নগদে বেতন বিতরণের সুযোগ থাকবে না। অর্থের ব্যবহার তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একটি এসক্রো বা রেভিনিউ অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে হবে, যার মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পন্ন হবে।

স্কিমের আওতায় কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবে। প্রতিটি ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ১ বছর। তবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সন্তোষজনক হলে এবং ব্যাংকের মূল্যায়নে উপযুক্ত বিবেচিত হলে তা নবায়ন করা যাবে।

গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করা যাবে। প্রথম ৬ মাস গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা থাকবে।

এ অর্থের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ হারে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেবে। এছাড়া প্রকৃত চার্জ ও ডিজিটাল নথিপত্র সংক্রান্ত ব্যয় ছাড়া গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো ফি বা চার্জ আদায় করা যাবে না।

ব্যাংকের দায়িত্ব:

ঋণ দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যাচাই, ঋণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এছাড়া ঋণের অনিয়ম বা অপব্যবহার হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এই তহবিলের মাধ্যমে বন্ধ শিল্প-কারখানা ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরে আসবে।