12:17 pm, Saturday, 25 July 2026

ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদির সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এখনই সময়: ট্রাম্প

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ নিয়ে সরব হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আব্রাহাম অ্যাকর্ডের অধীনে রিয়াদ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি না হলে তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আগাবেন না।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি করতে হলে সৌদি আরবকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের সদস্য হতে হবে। এটি ইতোমধ্যেই খুবই সফল হয়েছে। এখন তাদের এটি করার সময় এসেছে।’

এর আগে বুধবার ওয়াশিংটন ও রিয়াদ সৌদি আরবে একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এ ঘটনার এক দিন পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন একটি শর্ত ঘোষণা করে বলেন, সৌদি আরবকে প্রথমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। শুক্রবারও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তিনি জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেননি। তবে বিষয়টি সবসময়ই প্রকাশ্য ছিল। ক্রিস রাইট এবং সৌদি আরব উভয়ই এ বিষয়ে অবগত ছিল।

আল জাজিরা জানিয়েছে, পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টি যুক্ত করে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যের বিষয়ে সৌদি আরব এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

তবে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি সুস্পষ্ট পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না। অন্যদিকে, ইসরায়েলের বর্তমান সরকার এ অবস্থানের কঠোর বিরোধিতা করে আসছে।

ট্রাম্প প্রশাসন প্রাথমিকভাবে ইসরায়েলের নাম উল্লেখ না করেই পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব উভয় দেশের জন্যই উপকারী হিসেবে তুলে ধরেছিল।

বুধবার এক বিবৃতিতে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘এই চুক্তিগুলো মার্কিন-সৌদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা, দেশে সমৃদ্ধি আনা এবং বিদেশে আমাদের মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।’

ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তিকে ‘কয়েক দশকব্যাপী, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্ব’ বলে অভিহিত করেছে। চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য এখন কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশ করা হয়নি। তবে কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির ফলে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র থেকে পারমাণবিক জ্বালানি আমদানির পরিবর্তে নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে। তবে ট্রাম্প পরে বলেন, কোনো ধরনের উপাদান সমৃদ্ধকরণ করা হবে না।

নতুন পারমাণবিক চুক্তিটি ৩০ বছর মেয়াদি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশটিতে মার্কিন প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তর করা হবে।

সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলেছে, এই চুক্তি ‘দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার্থে জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের প্রচেষ্টাকে’ জোরদার করবে।

সূত্র: আল জাজিরা

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম

ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদির সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এখনই সময়: ট্রাম্প

Update Time : 10:29:37 am, Saturday, 25 July 2026

সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ নিয়ে সরব হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আব্রাহাম অ্যাকর্ডের অধীনে রিয়াদ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি না হলে তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আগাবেন না।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি করতে হলে সৌদি আরবকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের সদস্য হতে হবে। এটি ইতোমধ্যেই খুবই সফল হয়েছে। এখন তাদের এটি করার সময় এসেছে।’

এর আগে বুধবার ওয়াশিংটন ও রিয়াদ সৌদি আরবে একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এ ঘটনার এক দিন পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন একটি শর্ত ঘোষণা করে বলেন, সৌদি আরবকে প্রথমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। শুক্রবারও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তিনি জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেননি। তবে বিষয়টি সবসময়ই প্রকাশ্য ছিল। ক্রিস রাইট এবং সৌদি আরব উভয়ই এ বিষয়ে অবগত ছিল।

আল জাজিরা জানিয়েছে, পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টি যুক্ত করে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যের বিষয়ে সৌদি আরব এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

তবে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি সুস্পষ্ট পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না। অন্যদিকে, ইসরায়েলের বর্তমান সরকার এ অবস্থানের কঠোর বিরোধিতা করে আসছে।

ট্রাম্প প্রশাসন প্রাথমিকভাবে ইসরায়েলের নাম উল্লেখ না করেই পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব উভয় দেশের জন্যই উপকারী হিসেবে তুলে ধরেছিল।

বুধবার এক বিবৃতিতে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘এই চুক্তিগুলো মার্কিন-সৌদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা, দেশে সমৃদ্ধি আনা এবং বিদেশে আমাদের মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।’

ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তিকে ‘কয়েক দশকব্যাপী, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্ব’ বলে অভিহিত করেছে। চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য এখন কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশ করা হয়নি। তবে কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির ফলে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র থেকে পারমাণবিক জ্বালানি আমদানির পরিবর্তে নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে। তবে ট্রাম্প পরে বলেন, কোনো ধরনের উপাদান সমৃদ্ধকরণ করা হবে না।

নতুন পারমাণবিক চুক্তিটি ৩০ বছর মেয়াদি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশটিতে মার্কিন প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তর করা হবে।

সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলেছে, এই চুক্তি ‘দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার্থে জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের প্রচেষ্টাকে’ জোরদার করবে।

সূত্র: আল জাজিরা