12:55 pm, Monday, 27 July 2026

জুলাই অভ্যুত্থানের দিনগুলোই ইসলামী আন্দোলনের ভূমিকার জ্বলন্ত সাক্ষী

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

 

জুলাই অভ্যুত্থানের দিনগুলোই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভূমিকার জ্বলন্ত সাক্ষী বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলাম, দেশ ও মানবতার পক্ষের শক্তি হিসেবে কথা ও কাজের মিল রেখে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ‘নগর সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহমদ আবদুল কাইয়ূম।

চরমোনাই পীর বলেন, দেশে শতাধিক রাজনৈতিক দল থাকলেও জাতীয় সংকটের সময়ে অধিকাংশ দল দেশপ্রেমের বাস্তব প্রমাণ দিতে পারেনি। জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ও কেউ দলীয় ব্যানারে বা প্রকাশ্যভাবে আন্দোলনের নেতৃত্বে সামনে আসেনি। সে তুলনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরু থেকেই সক্রিয় ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, তাদের শাসনামলে দেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং জনগণকে বারবার আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করতে হয়েছে। দুর্নীতির কারণে বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মানুষ কোরআনের শাসন চায় এবং কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাবাধীন থাকতে চায় না।

সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পতন হয়েছে। এই আন্দোলনের শিক্ষা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিণতি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি দাবি করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি স্বৈরাচারী আচরণের দিকেই এগোচ্ছে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং দ্রুত উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) মাওলানা আরিফুল ইসলামসহ কেন্দ্র ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সম্মেলনের শেষ পর্বে চরমোনাই পীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। এতে শেখ ফজলুল করীম মারুফকে সভাপতি এবং কে এম শরীয়াতুল্লাহকে সেক্রেটারি মনোনীত করা হয়। এছাড়া জিএম রুহুল আমীন, আনোয়ার হোসেন, এমএইচ মোস্তফা, আব্দুল আউয়াল মজুমদার ও মাওলানা আব্দুর রাজ্জাককে সহ-সভাপতি করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম

জুলাই অভ্যুত্থানের দিনগুলোই ইসলামী আন্দোলনের ভূমিকার জ্বলন্ত সাক্ষী

Update Time : 09:37:01 am, Sunday, 26 July 2026

 

জুলাই অভ্যুত্থানের দিনগুলোই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভূমিকার জ্বলন্ত সাক্ষী বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলাম, দেশ ও মানবতার পক্ষের শক্তি হিসেবে কথা ও কাজের মিল রেখে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ‘নগর সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহমদ আবদুল কাইয়ূম।

চরমোনাই পীর বলেন, দেশে শতাধিক রাজনৈতিক দল থাকলেও জাতীয় সংকটের সময়ে অধিকাংশ দল দেশপ্রেমের বাস্তব প্রমাণ দিতে পারেনি। জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ও কেউ দলীয় ব্যানারে বা প্রকাশ্যভাবে আন্দোলনের নেতৃত্বে সামনে আসেনি। সে তুলনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরু থেকেই সক্রিয় ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, তাদের শাসনামলে দেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং জনগণকে বারবার আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করতে হয়েছে। দুর্নীতির কারণে বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মানুষ কোরআনের শাসন চায় এবং কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাবাধীন থাকতে চায় না।

সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পতন হয়েছে। এই আন্দোলনের শিক্ষা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিণতি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি দাবি করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি স্বৈরাচারী আচরণের দিকেই এগোচ্ছে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং দ্রুত উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) মাওলানা আরিফুল ইসলামসহ কেন্দ্র ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সম্মেলনের শেষ পর্বে চরমোনাই পীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। এতে শেখ ফজলুল করীম মারুফকে সভাপতি এবং কে এম শরীয়াতুল্লাহকে সেক্রেটারি মনোনীত করা হয়। এছাড়া জিএম রুহুল আমীন, আনোয়ার হোসেন, এমএইচ মোস্তফা, আব্দুল আউয়াল মজুমদার ও মাওলানা আব্দুর রাজ্জাককে সহ-সভাপতি করা হয়।