1:44 am, Tuesday, 15 September 2026

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনঘনিষ্ঠ ও যোগ্য প্রার্থী দিতে চায় বিএনপি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘ রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ও সাংবিধানিক সংস্কারের পর স্থানীয় পর্যায়ের এই নির্বাচনকে তৃণমূলে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে দলটি।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে কোনো পদে রাজনৈতিক দলগুলো যেকোনো প্রার্থীকে সমর্থন দিতে পারবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূলের চাওয়া-পাওয়াকে মূল্যায়ন করে যোগ্য ও জনঘনিষ্ঠ প্রার্থী নির্বাচনে মনোযোগী ক্ষমতাসীন দলটি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না। দল কোনো নির্দিষ্ট পদে একক কোনো ব্যক্তিকে সমর্থন বা আশীর্বাদ দিতে পারে। তবে দল যাকে সমর্থন করবে, তৃণমূলের সব নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার পক্ষে কাজ করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করতে হবে।

’ তিনি জানান, দলের হাইকমান্ড থেকে জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, যাতে স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির ভেতর কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা বিভেদ তৈরি না হয়। এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেখানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা থাকছে না।

ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বা চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মেয়র বা কাউন্সিলর— সব পদেই এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সাংবিধানিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হচ্ছে না। জাতীয় সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রেও সংবিধানে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নেই।

অনেক সমাজসেবক বা জননেতার প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকলেও তাদের নেতৃত্বগুণ, অভিজ্ঞতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকতে পারে। শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা থাকলে এমন অনেক যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হতে পারেন। এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রচলিত আইন, বিধিমালা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। ফলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা শিক্ষকতা পেশায় থেকে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, তা এখন কার্যত ইসির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আমরা গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করার প্রথম সোপান বলে মনে করি।

অতীতে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করে গ্রামীণ জনপদে যে অনৈক্য ও বিভেদ তৈরি করা হয়েছিল, তা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। দলীয় প্রতীকবিহীন নির্বাচনে স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য ও জনঘনিষ্ঠ প্রার্থীরা জয়ী হয়ে আসুন— এটাই আমাদের কাম্য। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা বা শিক্ষকদের অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি না হয়, সেদিকে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্টদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘আমাদের দল সবসময় অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পক্ষে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাধারণ মানুষ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন, তিনিই স্থানীয় উন্নয়নের নেতৃত্ব দেবেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা মানুষের জন্মগত বা সমাজসেবামূলক নেতৃত্বগুণের বিকল্প হতে পারে না।

তবে সরকারি সুযোগ-সুবিধাভোগী বা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক স্পষ্টতা থাকা জরুরি, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে পরবর্তীতে কোনো ধরনের প্রশ্ন বা বিতর্কের অবকাশ না থাকে। ’ বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হলে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সততা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।

অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতার ক্ষেত্রে ইসি কঠোর বিধিমালা করলে শিক্ষকতা ও নির্বাচনের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পুনর্গঠন, যোগ্য প্রার্থী বাছাই এবং দলীয় কোন্দল এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কৌশল নিয়েছে বিএনপি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছেন, যেকোনো মূল্যে দলীয় কোন্দল এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজেদের জনসমর্থন প্রমাণ করতে।

এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কী নীতিমালা ঘোষণা করে এবং রাজনৈতিক দলগুলো এই নির্বাচনি বৈতরণী কীভাবে পার হয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ছেঁড়ার তীব্র নিন্দা জানালেন সম্পাদক জুমা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনঘনিষ্ঠ ও যোগ্য প্রার্থী দিতে চায় বিএনপি

Update Time : 12:04:56 am, Tuesday, 15 September 2026

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘ রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ও সাংবিধানিক সংস্কারের পর স্থানীয় পর্যায়ের এই নির্বাচনকে তৃণমূলে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে দলটি।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে কোনো পদে রাজনৈতিক দলগুলো যেকোনো প্রার্থীকে সমর্থন দিতে পারবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূলের চাওয়া-পাওয়াকে মূল্যায়ন করে যোগ্য ও জনঘনিষ্ঠ প্রার্থী নির্বাচনে মনোযোগী ক্ষমতাসীন দলটি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না। দল কোনো নির্দিষ্ট পদে একক কোনো ব্যক্তিকে সমর্থন বা আশীর্বাদ দিতে পারে। তবে দল যাকে সমর্থন করবে, তৃণমূলের সব নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার পক্ষে কাজ করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করতে হবে।

’ তিনি জানান, দলের হাইকমান্ড থেকে জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, যাতে স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির ভেতর কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা বিভেদ তৈরি না হয়। এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেখানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা থাকছে না।

ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বা চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মেয়র বা কাউন্সিলর— সব পদেই এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সাংবিধানিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হচ্ছে না। জাতীয় সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রেও সংবিধানে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নেই।

অনেক সমাজসেবক বা জননেতার প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকলেও তাদের নেতৃত্বগুণ, অভিজ্ঞতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকতে পারে। শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা থাকলে এমন অনেক যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হতে পারেন। এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রচলিত আইন, বিধিমালা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। ফলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা শিক্ষকতা পেশায় থেকে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, তা এখন কার্যত ইসির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আমরা গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করার প্রথম সোপান বলে মনে করি।

অতীতে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করে গ্রামীণ জনপদে যে অনৈক্য ও বিভেদ তৈরি করা হয়েছিল, তা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। দলীয় প্রতীকবিহীন নির্বাচনে স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য ও জনঘনিষ্ঠ প্রার্থীরা জয়ী হয়ে আসুন— এটাই আমাদের কাম্য। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা বা শিক্ষকদের অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি না হয়, সেদিকে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্টদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘আমাদের দল সবসময় অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পক্ষে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাধারণ মানুষ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন, তিনিই স্থানীয় উন্নয়নের নেতৃত্ব দেবেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা মানুষের জন্মগত বা সমাজসেবামূলক নেতৃত্বগুণের বিকল্প হতে পারে না।

তবে সরকারি সুযোগ-সুবিধাভোগী বা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক স্পষ্টতা থাকা জরুরি, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে পরবর্তীতে কোনো ধরনের প্রশ্ন বা বিতর্কের অবকাশ না থাকে। ’ বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হলে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সততা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।

অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতার ক্ষেত্রে ইসি কঠোর বিধিমালা করলে শিক্ষকতা ও নির্বাচনের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পুনর্গঠন, যোগ্য প্রার্থী বাছাই এবং দলীয় কোন্দল এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কৌশল নিয়েছে বিএনপি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছেন, যেকোনো মূল্যে দলীয় কোন্দল এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজেদের জনসমর্থন প্রমাণ করতে।

এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কী নীতিমালা ঘোষণা করে এবং রাজনৈতিক দলগুলো এই নির্বাচনি বৈতরণী কীভাবে পার হয়।