5:34 am, Thursday, 21 May 2026

মসজিদে হামলায় শত প্রাণ বাঁচিয়ে আব্দুল্লাহ এখন ‘বীর’

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো শহরের একটি মসজিদে ভয়াবহ বন্দুক হামলার সময় নিজের জীবন বাজি রেখে শতাধিক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন নিরাপত্তারক্ষী আমিন আবদুল্লাহ। হামলায় নিহত হলেও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় ও পুলিশের কাছে তিনি এখন একজন ‘বীর’।

সোমবার সংঘটিত ওই হামলায় আমিন আবদুল্লাহসহ আরো দুই মুসল্লি নিহত হন। হামলাকারী ছিল দুই কিশোর, যারা পরে আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আমিন আবদুল্লাহ ছিলেন আট সন্তানের জনক এবং দীর্ঘদিন ধরে ইসলামিক সেন্টারে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল বলেন, তার কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে বীরত্বপূর্ণ ছিল।

তিনি বহু মানুষের জীবন রক্ষা করেছেন।পুলিশের তথ্যমতে, হামলাকারীরা মসজিদের প্রবেশমুখ দিয়ে দৌড়ে যাওয়ার সময় আবদুল্লাহ তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। তখনই তারা গুলি করতে থাকেন। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত লকডাউন কার্যক্রম চালু করেন, যার ফলে ইসলামিক সেন্টারের স্কুলে থাকা প্রায় ১৪০ শিশু নিরাপদে আশ্রয় নিতে সক্ষম হয়।

নিহত অন্য দুইজন হলেন–মনসুর কাজিহা ও নাদের আওয়াদ। পুলিশ জানায়, পার্কিং লটে হামলাকারীদের মনোযোগ আকর্ষণ করে তারা আরো প্রাণহানি ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন।

স্থানীয় মুসলিম সংগঠন আমেরিকান-ইসলামিক সম্পর্ক বিষয়ক কাউন্সিলের মুখপাত্র তাজহীন নিজাম বলেন, ‘আমিন ছিলেন সবার প্রিয় মানুষ। তিনি প্রতিদিন হাসিমুখে সবাইকে স্বাগত জানাতেন। তিনি একজন সত্যিকারের শহীদ ও নায়ক।মসজিদ কর্তৃপক্ষও এক বিবৃতিতে আবদুল্লাহকে ‘অন্যদের নিরাপত্তার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গকারী সাহসী মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

হামলার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক শোকসভায় আবদুল্লাহর মেয়ে হাওয়া আবদুল্লাহ বলেন, আমার বাবা চাইতেন আমাদের কমিউনিটি একসঙ্গে থাকুক। মানুষ যেন পরিচয় বা মতভেদ ভুলে আরো ভালো হয়।

পুলিশ জানায়, হামলার আগে এক হামলাকারীর মা পুলিশকে ফোন করে জানান যে তার ছেলে এক বন্ধুকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে এবং আত্মহত্যাপ্রবণ হতে পারে। কয়েক ঘণ্টা পর ইসলামিক সেন্টারের বাইরে গুলিবিদ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে কাছাকাছি একটি গাড়ির ভেতর দুই সন্দেহভাজনের মরদেহ পাওয়া যায়।ঘটনাটি ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল। তদন্তে হামলাকারীদের সংশ্লিষ্ট তিনটি বাড়ি থেকে ৩০টির বেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি ক্রসবো উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের কাছ থেকে ধর্মীয় ও বর্ণবাদী মতাদর্শসংবলিত লেখা ও একটি ম্যানিফেস্টোও উদ্ধার করা হয়েছে।

টড গ্লোরিয়া বলেন, এই হামলাকারীরা আমাদের শহরের প্রতিনিধিত্ব করে না। বরং নিহত এই তিন মুসলিম নাগরিকই আমাদের প্রকৃত পরিচয় বহন করেন।

অন্যদিকে, জেডি ভ্যান্স হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্রে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মতভেদ থাকলে আমাদের কথা বলতে হবে, গুলি চালাতে নয়।

সূত্র : বিবিসি

 

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম

মসজিদে হামলায় শত প্রাণ বাঁচিয়ে আব্দুল্লাহ এখন ‘বীর’

Update Time : 09:21:05 am, Wednesday, 20 May 2026

যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো শহরের একটি মসজিদে ভয়াবহ বন্দুক হামলার সময় নিজের জীবন বাজি রেখে শতাধিক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন নিরাপত্তারক্ষী আমিন আবদুল্লাহ। হামলায় নিহত হলেও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় ও পুলিশের কাছে তিনি এখন একজন ‘বীর’।

সোমবার সংঘটিত ওই হামলায় আমিন আবদুল্লাহসহ আরো দুই মুসল্লি নিহত হন। হামলাকারী ছিল দুই কিশোর, যারা পরে আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আমিন আবদুল্লাহ ছিলেন আট সন্তানের জনক এবং দীর্ঘদিন ধরে ইসলামিক সেন্টারে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল বলেন, তার কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে বীরত্বপূর্ণ ছিল।

তিনি বহু মানুষের জীবন রক্ষা করেছেন।পুলিশের তথ্যমতে, হামলাকারীরা মসজিদের প্রবেশমুখ দিয়ে দৌড়ে যাওয়ার সময় আবদুল্লাহ তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। তখনই তারা গুলি করতে থাকেন। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত লকডাউন কার্যক্রম চালু করেন, যার ফলে ইসলামিক সেন্টারের স্কুলে থাকা প্রায় ১৪০ শিশু নিরাপদে আশ্রয় নিতে সক্ষম হয়।

নিহত অন্য দুইজন হলেন–মনসুর কাজিহা ও নাদের আওয়াদ। পুলিশ জানায়, পার্কিং লটে হামলাকারীদের মনোযোগ আকর্ষণ করে তারা আরো প্রাণহানি ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন।

স্থানীয় মুসলিম সংগঠন আমেরিকান-ইসলামিক সম্পর্ক বিষয়ক কাউন্সিলের মুখপাত্র তাজহীন নিজাম বলেন, ‘আমিন ছিলেন সবার প্রিয় মানুষ। তিনি প্রতিদিন হাসিমুখে সবাইকে স্বাগত জানাতেন। তিনি একজন সত্যিকারের শহীদ ও নায়ক।মসজিদ কর্তৃপক্ষও এক বিবৃতিতে আবদুল্লাহকে ‘অন্যদের নিরাপত্তার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গকারী সাহসী মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

হামলার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক শোকসভায় আবদুল্লাহর মেয়ে হাওয়া আবদুল্লাহ বলেন, আমার বাবা চাইতেন আমাদের কমিউনিটি একসঙ্গে থাকুক। মানুষ যেন পরিচয় বা মতভেদ ভুলে আরো ভালো হয়।

পুলিশ জানায়, হামলার আগে এক হামলাকারীর মা পুলিশকে ফোন করে জানান যে তার ছেলে এক বন্ধুকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে এবং আত্মহত্যাপ্রবণ হতে পারে। কয়েক ঘণ্টা পর ইসলামিক সেন্টারের বাইরে গুলিবিদ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে কাছাকাছি একটি গাড়ির ভেতর দুই সন্দেহভাজনের মরদেহ পাওয়া যায়।ঘটনাটি ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল। তদন্তে হামলাকারীদের সংশ্লিষ্ট তিনটি বাড়ি থেকে ৩০টির বেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি ক্রসবো উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের কাছ থেকে ধর্মীয় ও বর্ণবাদী মতাদর্শসংবলিত লেখা ও একটি ম্যানিফেস্টোও উদ্ধার করা হয়েছে।

টড গ্লোরিয়া বলেন, এই হামলাকারীরা আমাদের শহরের প্রতিনিধিত্ব করে না। বরং নিহত এই তিন মুসলিম নাগরিকই আমাদের প্রকৃত পরিচয় বহন করেন।

অন্যদিকে, জেডি ভ্যান্স হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্রে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মতভেদ থাকলে আমাদের কথা বলতে হবে, গুলি চালাতে নয়।

সূত্র : বিবিসি