4:14 pm, Sunday, 19 July 2026

উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফের বন্যার শঙ্কা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

শ্রাবণের শুরুতেই দেশের আকাশে মেঘবলয় দেখা গেলেও সোমবার থেকে সারা দেশে বৃষ্টির তীব্রতা আরো বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সপ্তাহজুড়ে টানা মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। আর এই ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পানির ঢলে দেশের সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান আমার দেশকে জানান, গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টির পর কিছুটা বিরতি মিললেও ২০ বা ২১ জুলাই থেকে সারা দেশে আবারো বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে এবং তা কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এ ছাড়া শনিবার আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত জারি করা ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় বলা হয়, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।

এদিকে গতকাল থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলীয় বিভাগ রংপুর অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ আগের ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারীর ডিমলায় সর্বোচ্চ ১৩৭ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়। এছাড়া কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৬২, সিলেটে ৯৮ ও নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে ৪৮ মিলিমিটার হয়েছে। অপরদিকে, এদিন রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টি হলেও মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তায় বৃষ্টি আরো বাড়তে পারে।

গতকাল সারা দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় রাজশাহীতে; এ সময় রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গতকাল সন্ধ্যা ছয়টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরো বাড়তে পারে। একইসঙ্গে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদীগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ার বিরাজ করছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে, বর্তমানে সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান গতকাল বিকালে আমার দেশকে বলেন, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কিছু কিছু পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী পাঁচদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নৌবন্দরগুলোর জন্য জারি করা হয়েছে এক নম্বর সতর্কবার্তা। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলে থেকে সাবধানে চলাচল করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহজুড়ে দেশের সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি কেমন হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে বৃষ্টির পরিমাণ এবং ভারতীয় ঢলের পানির প্রবাহের ওপর। এ জন্য উত্তরাঞ্চলের নদী অববাহিকাগুলোর পরিস্থিতি এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম

আল্লাহ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন, ইচ্ছে করে সিজদা থেকে মাথা না তুলি: বাবর

উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফের বন্যার শঙ্কা

Update Time : 09:32:38 am, Sunday, 19 July 2026

শ্রাবণের শুরুতেই দেশের আকাশে মেঘবলয় দেখা গেলেও সোমবার থেকে সারা দেশে বৃষ্টির তীব্রতা আরো বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সপ্তাহজুড়ে টানা মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। আর এই ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পানির ঢলে দেশের সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান আমার দেশকে জানান, গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টির পর কিছুটা বিরতি মিললেও ২০ বা ২১ জুলাই থেকে সারা দেশে আবারো বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে এবং তা কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এ ছাড়া শনিবার আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত জারি করা ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় বলা হয়, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।

এদিকে গতকাল থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলীয় বিভাগ রংপুর অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ আগের ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারীর ডিমলায় সর্বোচ্চ ১৩৭ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়। এছাড়া কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৬২, সিলেটে ৯৮ ও নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে ৪৮ মিলিমিটার হয়েছে। অপরদিকে, এদিন রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টি হলেও মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তায় বৃষ্টি আরো বাড়তে পারে।

গতকাল সারা দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় রাজশাহীতে; এ সময় রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গতকাল সন্ধ্যা ছয়টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরো বাড়তে পারে। একইসঙ্গে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদীগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ার বিরাজ করছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে, বর্তমানে সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান গতকাল বিকালে আমার দেশকে বলেন, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কিছু কিছু পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী পাঁচদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নৌবন্দরগুলোর জন্য জারি করা হয়েছে এক নম্বর সতর্কবার্তা। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলে থেকে সাবধানে চলাচল করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহজুড়ে দেশের সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি কেমন হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে বৃষ্টির পরিমাণ এবং ভারতীয় ঢলের পানির প্রবাহের ওপর। এ জন্য উত্তরাঞ্চলের নদী অববাহিকাগুলোর পরিস্থিতি এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।