9:46 pm, Tuesday, 28 July 2026

মেয়েকে মানসিক রোগী দাবি করে ফেসবুক লাইভে ক্ষমা চাইলেন জামায়াত নেতা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

যশোরের ঝিকরগাছা ও চৌগাছা নিয়ে গঠিত যশোর-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গোলাম রসুলের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মাদরাসায় ঢুকে শিক্ষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো এবং মারধরের ঘটনার জেরে এলাকাবাসী এই হামলা চালায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে নিজের মেয়ের মানসিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এমপি গোলাম রসুল।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় এমপি গোলাম রসুলের বাসভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে এমপি গোলাম রসুল তার মেয়েকে মানসিক রোগী হিসেবে দাবি করেন। তিনি বলেন, ভারতের হায়দরাবাদ ও দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে তার মেয়ের চিকিৎসা করানো হয়েছে। উদ্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য তিনি গভীর মর্মাহত এবং এই ভুলের জন্য সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি জানান, তারা সবার সঙ্গে মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করতে চান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, পুলিশ সংসদ সদস্য ও তার পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা দিয়েছে। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এমপি গোলাম রসুলের বাসার ঠিক সামনেই ‘আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ’ ও একটি মসজিদ অবস্থিত। ওই মাদরাসায় যাতায়াতের একটি রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এমপির পরিবারের সঙ্গে মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৭ জুলাই) এমপির মেয়ে অনন্যা মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখান। বিষয়টি নিয়ে সেদিনই পুলিশের মধ্যস্থতায় একটি মীমাংসা হয়।

তবে বিরোধের এখানেই শেষ হয়নি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ে সশরীরে মাদরাসায় গিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে পুনরায় তর্কে ও বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে অনন্যা নামের ওই তরুণী রেকসোনা নামের স্থানীয় এক নারীর মাথা ফাটিয়ে দেন এবং নাসির উদ্দিন নামের আরেক অভিভাবকের ওপর চড়াও হন।

এই খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার সাধারণ মানুষ ও বিক্ষুব্ধ জনতা একত্র হয়ে এমপির বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে এমপি ও তার মেয়ে দ্রুত বাসভবনের মূল ফটক বন্ধ করে ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম

মেয়েকে মানসিক রোগী দাবি করে ফেসবুক লাইভে ক্ষমা চাইলেন জামায়াত নেতা

Update Time : 08:23:23 pm, Tuesday, 28 July 2026

যশোরের ঝিকরগাছা ও চৌগাছা নিয়ে গঠিত যশোর-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গোলাম রসুলের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মাদরাসায় ঢুকে শিক্ষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো এবং মারধরের ঘটনার জেরে এলাকাবাসী এই হামলা চালায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে নিজের মেয়ের মানসিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এমপি গোলাম রসুল।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় এমপি গোলাম রসুলের বাসভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে এমপি গোলাম রসুল তার মেয়েকে মানসিক রোগী হিসেবে দাবি করেন। তিনি বলেন, ভারতের হায়দরাবাদ ও দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে তার মেয়ের চিকিৎসা করানো হয়েছে। উদ্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য তিনি গভীর মর্মাহত এবং এই ভুলের জন্য সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি জানান, তারা সবার সঙ্গে মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করতে চান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, পুলিশ সংসদ সদস্য ও তার পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা দিয়েছে। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এমপি গোলাম রসুলের বাসার ঠিক সামনেই ‘আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ’ ও একটি মসজিদ অবস্থিত। ওই মাদরাসায় যাতায়াতের একটি রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এমপির পরিবারের সঙ্গে মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৭ জুলাই) এমপির মেয়ে অনন্যা মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখান। বিষয়টি নিয়ে সেদিনই পুলিশের মধ্যস্থতায় একটি মীমাংসা হয়।

তবে বিরোধের এখানেই শেষ হয়নি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ে সশরীরে মাদরাসায় গিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে পুনরায় তর্কে ও বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে অনন্যা নামের ওই তরুণী রেকসোনা নামের স্থানীয় এক নারীর মাথা ফাটিয়ে দেন এবং নাসির উদ্দিন নামের আরেক অভিভাবকের ওপর চড়াও হন।

এই খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার সাধারণ মানুষ ও বিক্ষুব্ধ জনতা একত্র হয়ে এমপির বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে এমপি ও তার মেয়ে দ্রুত বাসভবনের মূল ফটক বন্ধ করে ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।