1:38 pm, Wednesday, 29 July 2026

জাপানে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

গতকাল মঙ্গলবার জাপানে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুর কুমামোতো জেলা থেকে এ পর্যন্ত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ এখনও বিভিন্ন ভবনের ধ্বংস্তূপে অনুসন্ধান তৎপরতা জারি আছে।

মঙ্গলবার রাতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, “এমনকি এখনও বিভিন্ন ধ্বংস্তূপের তলায় আটকা পড়া লোকজন উদ্ধারের জন্য অপেক্ষা করছেন। আমাদের সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে, কারণ এখন প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। আটকা পড়া লোকজনকে উদ্ধারে আমরা আমাদের সমস্ত সক্ষমতা প্রয়োগ করব।”

গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ২৭ মিনিটে) জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুতে ঘটেছে ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে। দেশটির ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা জিএমএর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তি বা এপিসেন্টর ছিল কিউশুর কুমামোতো জেলার সাগর উপকূলের ২০ কিলোমিটার গভীরে।

সাগরের অগভীর অংশে ভূমিকম্প হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে এটির ব্যাপক কম্পন অনুভূত হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুমামোতো জেলা।ভূমিকম্পে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় এখনও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে জেলার ৩৬ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর। সড়কগুলোর অবস্থাও বেহাল। পুরো জেলায় এমন কোনো সড়ক প্রায় নেই, যেটিতে ফাটল দেখা দেয়নি।

ভূমিকম্পের অল্প সময় পরেই অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয় কুমামোতোর বিভিন্ন এলাকার ধ্বংসস্তূপগুলোতে। উদ্ধারকর্মীদের রাতভর প্রচেষ্টায় আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল পর্যন্ত এই ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর কুমামোতোর এক এলাকায় একটি শপিং মলে বিস্ফোরণ ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, ভবনটির গ্যাস সরবরাহ লাইনে লিকেজই বিস্ফোরণের কারণ। মলটির ধ্বংসস্তূপ থেকে ২০ বছর বয়সী দু’জন তরুণীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ আছেন অনেক মানুষ।

বড় মাত্রার ভূমিকম্পের পর ‘আফটারশক’- এর আশঙ্কা থাকে। এ কারণে শহরের অনেক বাসিন্দা এখনও ভূমিকম্প আশ্রয়কেন্দ্রে রয়ে গেছেন।

কুমামোতো কিউশুর বৃহত্তম জেলা শহর। প্রায় ৭ লাখ মানুষ বসবাস করেন শহরটিতে।

এদিকে হাজার হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা এবং তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রিতে পৌঁছানোয় শহরের বাসিন্দারা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিতে আছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে নগর কর্তৃপক্ষ।

সূত্র : রয়টার্স

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম

দেখতে চাই কত রক্ত ঝরাতে পারেন: প্রধানমন্ত্রীকে সারজিস

জাপানে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩

Update Time : 10:42:46 am, Wednesday, 29 July 2026

গতকাল মঙ্গলবার জাপানে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুর কুমামোতো জেলা থেকে এ পর্যন্ত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ এখনও বিভিন্ন ভবনের ধ্বংস্তূপে অনুসন্ধান তৎপরতা জারি আছে।

মঙ্গলবার রাতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, “এমনকি এখনও বিভিন্ন ধ্বংস্তূপের তলায় আটকা পড়া লোকজন উদ্ধারের জন্য অপেক্ষা করছেন। আমাদের সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে, কারণ এখন প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। আটকা পড়া লোকজনকে উদ্ধারে আমরা আমাদের সমস্ত সক্ষমতা প্রয়োগ করব।”

গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ২৭ মিনিটে) জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুতে ঘটেছে ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে। দেশটির ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা জিএমএর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তি বা এপিসেন্টর ছিল কিউশুর কুমামোতো জেলার সাগর উপকূলের ২০ কিলোমিটার গভীরে।

সাগরের অগভীর অংশে ভূমিকম্প হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে এটির ব্যাপক কম্পন অনুভূত হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুমামোতো জেলা।ভূমিকম্পে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় এখনও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে জেলার ৩৬ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর। সড়কগুলোর অবস্থাও বেহাল। পুরো জেলায় এমন কোনো সড়ক প্রায় নেই, যেটিতে ফাটল দেখা দেয়নি।

ভূমিকম্পের অল্প সময় পরেই অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয় কুমামোতোর বিভিন্ন এলাকার ধ্বংসস্তূপগুলোতে। উদ্ধারকর্মীদের রাতভর প্রচেষ্টায় আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল পর্যন্ত এই ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর কুমামোতোর এক এলাকায় একটি শপিং মলে বিস্ফোরণ ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, ভবনটির গ্যাস সরবরাহ লাইনে লিকেজই বিস্ফোরণের কারণ। মলটির ধ্বংসস্তূপ থেকে ২০ বছর বয়সী দু’জন তরুণীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ আছেন অনেক মানুষ।

বড় মাত্রার ভূমিকম্পের পর ‘আফটারশক’- এর আশঙ্কা থাকে। এ কারণে শহরের অনেক বাসিন্দা এখনও ভূমিকম্প আশ্রয়কেন্দ্রে রয়ে গেছেন।

কুমামোতো কিউশুর বৃহত্তম জেলা শহর। প্রায় ৭ লাখ মানুষ বসবাস করেন শহরটিতে।

এদিকে হাজার হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা এবং তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রিতে পৌঁছানোয় শহরের বাসিন্দারা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিতে আছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে নগর কর্তৃপক্ষ।

সূত্র : রয়টার্স