1:16 am, Friday, 19 June 2026

ইরানের অর্থ ফেরত দেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ইরানের জব্দ করা অর্থ যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত দিতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, ওই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নয়, বরং ইরানের। তার মতে, ইরানের অর্থ ফেরত না দিলে ডলারে কেউ বিনিয়োগ করবে না। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চললে দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পথও খুলে যেতে পারে।

বুধবার (১৭ জুন) জি-৭ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সে এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা বলেন। খবর আনাদোলুর।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ জব্দ করে রেখেছে এবং তা শেষ পর্যন্ত ফেরত দিতে হবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের অনেক অর্থ নিয়েছি এবং সেই অর্থ আমাদের কাছে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের অর্থ নয়, এটা তাদের অর্থ। আমরা একসময় এটি জব্দ করেছিলাম। আমার মনে হয়, আমাদের তা ফেরত দিতেই হবে। কারণ যদি আমরা তা ফেরত না দিই, তাহলে কেউ আর কখনোই ডলারে বিনিয়োগ করবে না।’

ইলেকট্রনিকভাবে সই হয়। এতে সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পথ তৈরি করা হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতায় ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা তৈরি করবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র দেবে না বলে স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প।তিনি বলেন, ‘আমরা কোনও অর্থ দিচ্ছি না। তারা সঠিকভাবে আচরণ করলেই কেবল এটি সম্ভব হবে। তারা যদি ঠিকভাবে চলে এবং কেউ বিনিয়োগ করতে চায়, তাহলে বিনিয়োগ করতে পারবে। এই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিলও সেই শর্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। সবকিছু নির্ভর করবে তারা কী করছে তার ওপর।’

ট্রাম্পের উপস্থিতিতে হোয়াইট হাউসে ড্রোন-স্নাইপার হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে— যখন আপনারা বিলিয়ন ডলারের কথা বলেন, তখন মনে রাখতে হবে তাদের এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষতি হয়েছে।’

ইরানের ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা সঠিক আচরণ শুরু করলেই কিছু না কিছু ঘটবে।’

যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবে ওয়াশিংটন।

এর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বোর্ড অব গভর্নরসের সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আরোপিত সব ধরনের প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম

ইরানের অর্থ ফেরত দেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

Update Time : 08:56:15 am, Thursday, 18 June 2026

ইরানের জব্দ করা অর্থ যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত দিতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, ওই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নয়, বরং ইরানের। তার মতে, ইরানের অর্থ ফেরত না দিলে ডলারে কেউ বিনিয়োগ করবে না। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চললে দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পথও খুলে যেতে পারে।

বুধবার (১৭ জুন) জি-৭ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সে এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা বলেন। খবর আনাদোলুর।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ জব্দ করে রেখেছে এবং তা শেষ পর্যন্ত ফেরত দিতে হবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের অনেক অর্থ নিয়েছি এবং সেই অর্থ আমাদের কাছে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের অর্থ নয়, এটা তাদের অর্থ। আমরা একসময় এটি জব্দ করেছিলাম। আমার মনে হয়, আমাদের তা ফেরত দিতেই হবে। কারণ যদি আমরা তা ফেরত না দিই, তাহলে কেউ আর কখনোই ডলারে বিনিয়োগ করবে না।’

ইলেকট্রনিকভাবে সই হয়। এতে সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পথ তৈরি করা হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতায় ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা তৈরি করবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র দেবে না বলে স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প।তিনি বলেন, ‘আমরা কোনও অর্থ দিচ্ছি না। তারা সঠিকভাবে আচরণ করলেই কেবল এটি সম্ভব হবে। তারা যদি ঠিকভাবে চলে এবং কেউ বিনিয়োগ করতে চায়, তাহলে বিনিয়োগ করতে পারবে। এই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিলও সেই শর্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। সবকিছু নির্ভর করবে তারা কী করছে তার ওপর।’

ট্রাম্পের উপস্থিতিতে হোয়াইট হাউসে ড্রোন-স্নাইপার হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে— যখন আপনারা বিলিয়ন ডলারের কথা বলেন, তখন মনে রাখতে হবে তাদের এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষতি হয়েছে।’

ইরানের ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা সঠিক আচরণ শুরু করলেই কিছু না কিছু ঘটবে।’

যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবে ওয়াশিংটন।

এর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বোর্ড অব গভর্নরসের সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আরোপিত সব ধরনের প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞা।