1:17 am, Saturday, 11 July 2026

টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৭ দশমিক ৩০ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। যা মৌসুমি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে সুনামগঞ্জে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ছাতক পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা ৮ দশমিক ৩৮ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ২১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ছাতকে একই সময়ে ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা ৭ দশমিক ২৮ মিটার, যা বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তবে এ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা ৪২ সেন্টিমিটার কমেছে। লাউড়েরগড় এলাকায় একই সময়ে ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সুরমা, কুশিয়ারা, জাদুকাটা, রক্তি ও বৌলাইসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা দেখা দেয়।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক বলেন, নদ-নদীর পানির উচ্চতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতে নদীর পানির প্রবণতা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মিনহাজুর রহমান বলেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলার ১১ উপজেলায় ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত, মেডিকেল টিম, স্বেচ্ছাসেবক, নৌযান ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে নদ-নদীর পানি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম
Popular Post

টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

Update Time : 11:39:27 am, Friday, 10 July 2026

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৭ দশমিক ৩০ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। যা মৌসুমি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে সুনামগঞ্জে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ছাতক পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা ৮ দশমিক ৩৮ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ২১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ছাতকে একই সময়ে ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা ৭ দশমিক ২৮ মিটার, যা বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তবে এ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা ৪২ সেন্টিমিটার কমেছে। লাউড়েরগড় এলাকায় একই সময়ে ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সুরমা, কুশিয়ারা, জাদুকাটা, রক্তি ও বৌলাইসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা দেখা দেয়।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক বলেন, নদ-নদীর পানির উচ্চতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতে নদীর পানির প্রবণতা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মিনহাজুর রহমান বলেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলার ১১ উপজেলায় ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত, মেডিকেল টিম, স্বেচ্ছাসেবক, নৌযান ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে নদ-নদীর পানি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।