আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতের দেড় বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও এখনো মানিকগঞ্জের নেতাদের প্রকাশ্যে দেখা যায় না। এর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ অনেক নেতাকর্মী মামলা থেকে জামিনে বের হয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। এ জেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নেই কোনো মিটিং, মিছিল, সভা, সমাবেশ। জেলা আওয়ামী লীগের অফিস এখন মোবাইলের দোকান, এছাড়াও উপজেলা অফিসগুলো রয়েছে ভাঙাচোরা অবস্থায় তালাবদ্ধ। অনেক জায়গায় অফিস তালাবদ্ধ থাকলেও অফিসের সামনে বিভিন্ন ছোট-ছোট দোকান রয়েছে।
তিনটি সংসদীয় আসন নিয়ে মানিকগঞ্জ জেলা। এই জেলার ১ আসনের (শিবালয়, ঘিওর, দৌলতপুর উপজেলা) আ.লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন সালাউদ্দিন মাহমুদ জাহিদ। তিনি এখন আত্মগোপনে রয়েছেন। এই আসনের সাবেক আ.লীগের সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয় কারাগারে।
মানিকগঞ্জ-২ আসনের (সিংগাইর, হরিরামপুর উপজেলা) সংসদ সদস্য দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলু (আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী) তিনিও আত্মগোপনে রয়েছেন। আ.লীগের আরেক সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম এখন কারাগারে।মানিকগঞ্জ-৩ আসনের (সদর-সাটুরিয়া উপজেলা) সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আত্মগোপনে রয়েছেন। এছাড়াও এই জেলার আ.লীগ ও অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ আরও অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে এই জেলার ৭টি থানায় ছাত্র-জনতাদের হত্যাসহ নাশকতা, বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মোট ২০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সদর থানায় ৪টি, সাটুরিয়া থানায় ১টি, সিংগাইর থানায় ৪টি, হরিরামপুর থানায় ১টি, শিবালয় থানায় ৩টি, ঘিওর থানায় ২টি ও দৌলতপুর থানায় ৫টি মামলা হয়। এসব মামলায় এ পর্যন্ত এজাহারনামীয় ১২১ জন এবং অজ্ঞাত ৭৬১ জন আসামি গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সদর উপজেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের মানিকগঞ্জ জেলা সভাপতি গোলাম মহীউদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতানুল আজম খান আপেল, জেলার যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুল রাজ্জাক রাজা, সদস্য সচিব মাহবুবুল আলম জনি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এম এ সিফাত কোরাইশ সুমন ও সাধারণ সম্পাদক রাজিদুল ইসলাম ৫ আগস্টের দিন বিকেলেই বাড়ি থেকে আত্মগোপনে চলে যান। ছাত্রজনতা তাদের অনেকের বাড়িতে গিয়ে খুঁজে পায়নি। এরপর থেকেই তাদের এই জেলায় আর দেখা যাচ্ছে না। তবে এর মধ্যে জেলা আ.লীগের সভাপতি গোলাম মহীউদ্দীন ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুল রাজ্জাক রাজা জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। এছাড়াও আ.লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক পৌর-মেয়র রমজান আলী এখন কারাগারে আছেন বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারলেও মধ্যম সারির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে সকলেই আত্মগোপনে রয়েছেন। এখন কারো সঙ্গে কারো যোগাযোগ হয় না। দল থেকেও কোনো নির্দেশনা নেই। সামনে পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূলে এলে দলের নির্দেশনা মোতাবেক কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই এই জেলার আ.লীগের শীর্ষ নেতাসহ উপজেলার নেতাকর্মীরাও আত্মগোপনে চলে যান। শুধুমাত্র ওয়ার্ড পর্যায়ের তৃণমূলের নিরীহ প্রকৃতির কিছু কর্মী ব্যতীত কাউকেই এলাকায় দেখা যায় না এখনো। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের মাসখানেক যেতে না যেতেই কিছু কিছু মাঝারি সারির নেতাকর্মীদের এলাকায় পদচারণা দেখা গেলেও এক সময় তারাও এলাকার বাইরে চলে যায়।
হরিরামপুর উপজেলা ২০২২ সালের ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খানম রিতার আন্ধারমানিক গ্রামের বাড়িতে দোয়া মাহফিলে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে রিতার ঘরবাড়ি ভাঙচুরসহ তিনজন নেতাকর্মী আহত হয়। এ ঘটনার প্রায় আড়াই বছর পরে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর হরিরামপুর থানায় মামলা করেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন খান ওরফে ভিপি দুলাল। সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমসহ ৮৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনকে আসামি করে হরিরামপুর থানায় একটি মামলা করা হয়। এ মামলায় অধিকাংশ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে এ মামলার আটককৃত অনেকেই জামিনে থাকলেও তারা এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা বসবাস করছেন বলে জানা যায়।
এ মামলার প্রধান আসামি সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে আটক আছেন। তিনি ঢাকা ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় ২০২৫ সালের ১২ মে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে আটক হন। তারপর তাকে ৬ দিনের রিমান্ডে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর ও সিঙ্গাইর থানায় রাখা হয়। রিমান্ড শেষে তাকে কাশিমপুর কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হরিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, আমাদের উপজেলার দলীয় লোকের মধ্যে যারা সম্মুখ নেতৃত্বে ছিলেন তারা অনেকেই এলাকায় নাই। মামলায় মূল দলসহ সহযোগী সংগঠনের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা জামিন পেলেও তারা বিভিন্ন স্থানে এখনো আত্মগোপনে থেকে কাজকর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বড় মাপের দুই একজন নেতা দেশের বাইরেও আছে। এখন ওয়ার্ড পর্যায়ের সাধারণ কর্মী যারা ছিলেন, তারাই এলাকায় আছেন।
চালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আব্দুল মজিদ জানান, বর্তমানে আমাদের রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ড নেই। কোনো শীর্ষ নেতার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নাই বা তারাও আমাদের খোঁজখবর রাখে না। আমরা এ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামী পন্থী ৮ জন নির্বাচিত চেয়ারম্যান আছি। ৮ জনই মামলার আসামি এবং বর্তমানে জামিনে আছি।
দৌলতপুর উপজেলা ৫ আগস্টের পরে এই উপজেলায় ৫টি মামলা হয়েছে। উপজেলার শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে রয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজিজুল হক জামিনে বের হলেও তিনি তার এলাকায় না থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক আছেন। এছাড়াও মধ্যম সারির কিছু নেতা জামিনে আছেন ও কিছু নেতা পলাতক আছেন। উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির শাওন জামিন পেয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। এছাড়াও উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আতোয়ার রহমান ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক আছেন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক রাজুও পলাতক রয়েছেন। দলীয় কার্যক্রম ৫ আগস্টের পর দেখা যায়নি এবং দলীয় অফিস বন্ধ আছে। আ.লীগের কোনো পদধারী নেতাকর্মী অন্য কোনো দলে যোগ দিতে দেখা যায়নি।
সাটুরিয়া উপজেলা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নাশকতা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। একই সঙ্গে ধারাবাহিক গ্রেপ্তার, অভিযান, আত্মগোপন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে।
সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম বাজার এলাকায় বিএনপির বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে দরগ্রাম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বিএনপি নেতা শাহিন খান বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় একটি মামলা করেন।
সাটুরিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় দেড় বছরে সাটুরিয়া থানায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলায় নামীয় ও অজ্ঞাতনামা মিলিয়ে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এরপর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান শুরু করে পুলিশ। বিশেষ করে তিল্লী, বালিয়াটি, ফুকুরহাটি, ধানকোড়া, দিঘুলিয়া ও হরগজ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়।
সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন মাস্টারকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে একটি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি জামিনে এসে আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের সাটুরিয়া উপজেলা সভাপতি ফজলুর রহমানের নামে কোনো মামলা না হলেও তিনিও বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।
বর্তমানে উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কিছুসংখ্যক নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা গেলেও বড় বড় পদধারী নেতারা বেশিরভাগই আত্মগোপনে রয়েছেন। কেউ কেউ উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন, আবার অনেকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকলেও নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
৫ আগস্টের পর থেকে সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। দলীয় কার্যালয়গুলো অনেকটাই নিস্তব্ধ। উপজেলাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটির কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। একসময় সাটুরিয়ায় আওয়ামী লীগের শক্তিশালী সাংগঠনিক অবস্থান থাকলেও বর্তমানে নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে। অনেকে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক পরিচয় দিতেও অনাগ্রহী।
সিংগাইর উপজেলা সাবেক সংসদ সদস্য ও সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ বেগমসহ এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান টুলু (আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী) এবং আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের অনেকের নামে ২০১৩ সালের হরতাল চলাকালীন হত্যার ঘটনায় মামলা হয় সিংগাইর থানায়। এছাড়াও সিংগাইর থানায় আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের লোকদের আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে আরও তিনটি মামলা করা হয়।
সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ বেগম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এই জেলার সাধারণ সম্পাদক শহীদুর রহমান শহীদ দীর্ঘদিন জেল খাটার পর জামিনে বের হওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অনেকে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত পেয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। এছাড়াও এখনও অনেক নেতাকর্মীরা ধরা না দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
ঘিওর উপজেলা গেল ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ওলটপালট হয়ে গেছে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা আওয়ামী লীগের চেনা সমীকরণ। যে রাজপথ একসময় মুখরিত থাকত নেতাকর্মীদের স্লোগানে, সেখানে এখন শুধুই নীরবতা।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আ.লীগের নেতাকর্মীদের নামে এই উপজেলায় দায়ের করা হয়েছে দুটি মামলা, যেখানে আসামি করা হয়েছে আ.লীগের নামে-বেনামে কয়েকশত নেতাকর্মীকে। ইতোমধ্যে ১৩৫ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যেই ২টি মামলায় আসামি থাকা অবস্থায় শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ঘিওর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল আলিম মিন্টু।
আইনি বেড়াজালে আটকা পড়েছেন দলটির শীর্ষ স্থানীয় অন্য নেতারাও। দুটি মামলায় টানা চার মাস কারাবরণ করার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আলাই। তবে কারামুক্ত হলেও রাজনৈতিক মাঠে এখনও নিষ্ক্রিয় তিনি।
সবচেয়ে বেকায়দায় আছেন এই উপজেলার বাসিন্দা, সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়। তার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে ৪টি রাজনৈতিক এবং ১টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা। রাজনৈতিক ৪টি মামলায় জামিন মিললেও দুদকের মামলায় বর্তমানে তিনি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। শীর্ষ নেতাদের এই আইনি বিপর্যয় আর গ্রেপ্তার আতঙ্কে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন তৃণমূলের কর্মীরাও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘিওর উপজেলার হাজারোধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার এড়াতে বাড়িছাড়া ও পলাতক রয়েছেন। যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের কোনো সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও এলাকায় প্রকাশ্যে দেখা মিলছে না।
শিবালয় উপজেলা শিবালয় থানায় একটি হত্যা মামলাসহ ৩টি মামলা হয়েছে। এই মামলাগুলোতে প্রায় কয়েকশত আ.লীগের নেতাকর্মীর নাম রয়েছে। এই উপজেলার আ.লীগের সভাপতি রেজাউর রহমান জানু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ আত্মগোপনে রয়েছেন। আ.লীগের নেতাদের রাস্তা বা বাজারে দেখা যায় না। নেই কোনো মিটিং, মিছিল, সভা কিংবা সমাবেশ।




























