11:46 pm, Tuesday, 16 June 2026

কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি শফিকুর রহমানের

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জাতীয় সংসদে ‘বগলদাবা’ কিংবা সংঘাতমুখী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবেন না বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় যৌক্তিক ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকাই পালন করবে তার দল।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিরোধী দলের উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহেরসহ জামায়াতে ইসলামীর অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, `অতীতে বাংলাদেশে দুই ধরনের বিরোধী দল দেখা গেছে। এক ধরনের বিরোধী দল ছিল সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন, আরেক ধরনের বিরোধী দল সংসদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দীর্ঘ সময় সংসদ বর্জন করত। জামায়াত এ দুই ধারার কোনোটিই অনুসরণ করবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা বগলদাবা বিরোধী দল হবো না, আবার এমন আচরণও করবো না যাতে জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়।’

তিনি বলেন, সংসদে তাদের অবস্থান প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট ‘উই উইল বি রিজনেবল অ্যান্ড লজিক্যাল’। জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়েই তারা সংসদে কথা বলবেন।

বিরোধী দলীয় নেতা জানান, সংসদে এখন পর্যন্ত তারা গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন, ব্যাংকিং খাতের সংকট, প্রবাসীদের সমস্যা এবং সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ ইস্যুসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশ দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে একটি সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি।

সীমান্তে পুশ-ইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টিকে ‘সংবেদনশীল’ উল্লেখ করে নোটিশ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হলেও তার দলের সংসদ সদস্য তা প্রত্যাখ্যান করতে চাননি। সংসদের পক্ষ থেকে একবার আলোচনার জন্য নির্ধারণ করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে কার্যসূচি ঠিক করা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিষয়টি সংসদে আলোচনার দাবি জানান তিনি।

বাজেট অধিবেশন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান সম্পূরক বাজেট উপস্থাপনের সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী মার্চে সম্পূরক বাজেট আনার কথা থাকলেও জুনের মাঝামাঝি সময়ে তা উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে জবাবদিহিতা দুর্বল হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধী দলীয় নেতা অভিযোগ করেন, অর্থবছরের শেষ দিকে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ তড়িঘড়ি করে ব্যয়ের ফলে অপচয় ও অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বর্ষাকালে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নেরও সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ সময় কাজের মান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ফিসকাল ইয়ার জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাব দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, এতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় অধিক কার্যকারিতা আসবে।

সংসদীয় আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ, দলীয় চরিত্রহনন বা অযথা প্রশংসা-স্তুতিতে সংসদের সময় নষ্ট করা উচিত নয়। ‘আমরা এখানে কারও প্রশংসা করতে আসিনি’, জনগণের পক্ষে কথা বলতে এসেছি, বলেন তিনি।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংসদকে ‘মিলমিশের সংসদ’ আখ্যা দেওয়ার ধারণা নাকচ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যৌক্তিক বিষয়ে সমর্থন দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে সরকারের সমালোচনা করাই একটি কার্যকর সংসদীয় বিরোধী দলের দায়িত্ব। কোনও বিষয়ে মতামত উপেক্ষা করা হলে তারা ওয়াকআউট করতে পারেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে সংসদ বর্জনের পথে যাবেন না।

সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের প্রস্তাব সম্পর্কে তিনি বলেন, জামায়াত সংবিধান সংশোধনের চেয়ে সংস্কারের পক্ষে। সংস্কারের জন্য কোনো কমিটি গঠনের প্রস্তাব এলে দলটি তা বিবেচনা করবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম

কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি শফিকুর রহমানের

Update Time : 08:39:09 pm, Tuesday, 16 June 2026

জাতীয় সংসদে ‘বগলদাবা’ কিংবা সংঘাতমুখী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবেন না বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় যৌক্তিক ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকাই পালন করবে তার দল।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিরোধী দলের উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহেরসহ জামায়াতে ইসলামীর অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, `অতীতে বাংলাদেশে দুই ধরনের বিরোধী দল দেখা গেছে। এক ধরনের বিরোধী দল ছিল সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন, আরেক ধরনের বিরোধী দল সংসদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দীর্ঘ সময় সংসদ বর্জন করত। জামায়াত এ দুই ধারার কোনোটিই অনুসরণ করবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা বগলদাবা বিরোধী দল হবো না, আবার এমন আচরণও করবো না যাতে জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়।’

তিনি বলেন, সংসদে তাদের অবস্থান প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট ‘উই উইল বি রিজনেবল অ্যান্ড লজিক্যাল’। জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়েই তারা সংসদে কথা বলবেন।

বিরোধী দলীয় নেতা জানান, সংসদে এখন পর্যন্ত তারা গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন, ব্যাংকিং খাতের সংকট, প্রবাসীদের সমস্যা এবং সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ ইস্যুসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশ দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে একটি সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি।

সীমান্তে পুশ-ইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টিকে ‘সংবেদনশীল’ উল্লেখ করে নোটিশ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হলেও তার দলের সংসদ সদস্য তা প্রত্যাখ্যান করতে চাননি। সংসদের পক্ষ থেকে একবার আলোচনার জন্য নির্ধারণ করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে কার্যসূচি ঠিক করা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিষয়টি সংসদে আলোচনার দাবি জানান তিনি।

বাজেট অধিবেশন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান সম্পূরক বাজেট উপস্থাপনের সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী মার্চে সম্পূরক বাজেট আনার কথা থাকলেও জুনের মাঝামাঝি সময়ে তা উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে জবাবদিহিতা দুর্বল হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধী দলীয় নেতা অভিযোগ করেন, অর্থবছরের শেষ দিকে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ তড়িঘড়ি করে ব্যয়ের ফলে অপচয় ও অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বর্ষাকালে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নেরও সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ সময় কাজের মান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ফিসকাল ইয়ার জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাব দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, এতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় অধিক কার্যকারিতা আসবে।

সংসদীয় আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ, দলীয় চরিত্রহনন বা অযথা প্রশংসা-স্তুতিতে সংসদের সময় নষ্ট করা উচিত নয়। ‘আমরা এখানে কারও প্রশংসা করতে আসিনি’, জনগণের পক্ষে কথা বলতে এসেছি, বলেন তিনি।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংসদকে ‘মিলমিশের সংসদ’ আখ্যা দেওয়ার ধারণা নাকচ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যৌক্তিক বিষয়ে সমর্থন দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে সরকারের সমালোচনা করাই একটি কার্যকর সংসদীয় বিরোধী দলের দায়িত্ব। কোনও বিষয়ে মতামত উপেক্ষা করা হলে তারা ওয়াকআউট করতে পারেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে সংসদ বর্জনের পথে যাবেন না।

সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের প্রস্তাব সম্পর্কে তিনি বলেন, জামায়াত সংবিধান সংশোধনের চেয়ে সংস্কারের পক্ষে। সংস্কারের জন্য কোনো কমিটি গঠনের প্রস্তাব এলে দলটি তা বিবেচনা করবে।