9:09 pm, Tuesday, 28 July 2026

জ্বালানি সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলো সরকার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বিকলের কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই গ্যাস সরবরাহ আংশিক স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এফএসআরইউতে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে শিল্প, বিদ্যুৎ, সিএনজি ও আবাসিক খাতে গ্যাসের চাপ কমে গিয়ে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউটি প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করত। কারিগরি ত্রুটির কারণে সেই সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সিএনজি স্টেশনগুলোতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দীর্ঘ লাইন ও জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, টার্মিনাল পরিচালনাকারী এক্সিলারেট এনার্জির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী সপ্তাহের শুরুতে দৈনিক ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করা সম্ভব হতে পারে। আর পরবর্তী সপ্তাহের শেষ নাগাদ এফএসআরইউ পুরোপুরি সচল হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে সরকার বিকল্প জ্বালানি উৎস ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী সাময়িক ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এফএসআরইউর কারিগরি সমস্যা সমাধান হলেই পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম

জ্বালানি সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলো সরকার

Update Time : 08:09:24 pm, Tuesday, 28 July 2026

ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বিকলের কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই গ্যাস সরবরাহ আংশিক স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এফএসআরইউতে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে শিল্প, বিদ্যুৎ, সিএনজি ও আবাসিক খাতে গ্যাসের চাপ কমে গিয়ে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউটি প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করত। কারিগরি ত্রুটির কারণে সেই সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সিএনজি স্টেশনগুলোতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দীর্ঘ লাইন ও জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, টার্মিনাল পরিচালনাকারী এক্সিলারেট এনার্জির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী সপ্তাহের শুরুতে দৈনিক ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করা সম্ভব হতে পারে। আর পরবর্তী সপ্তাহের শেষ নাগাদ এফএসআরইউ পুরোপুরি সচল হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে সরকার বিকল্প জ্বালানি উৎস ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী সাময়িক ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এফএসআরইউর কারিগরি সমস্যা সমাধান হলেই পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।