9:40 am, Friday, 25 September 2026

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় ৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান। নির্মাণের মাত্র ১০-১৫ বছরের মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ভবনগুলো। প্রতিটি ভবনের ছাদ, বিম ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ওপর ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফ্লোরও ধসে পড়েছে। এতে সরকারের প্রায় শতকোটি টাকা গচ্ছা গেছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাঈদা রুবায়াত জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের তালিকা এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। যেসব কক্ষ ক্লাসের অনুপযোগী সেসব শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে বিকল্প কক্ষে ক্লাস নিতে বলা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৌশল অধিদপ্তরের পার্সেন্টিজ বাণিজ্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও গাফিলতির কারণে এসব ভবন দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে গোবরা গ্রামের আজিজুল হক জানান, ভবনটিতে ঠিকমতো সিমেন্ট দেওয়া হলে এমন হতো না। আর যাই করেছিল যদি নিয়মিত পানি দিত তা হলে ভবনটি এত দ্রুত জরাজীর্ণ হয়ে এভাবে পলেস্তারা পড়ে যেত না।

পাছেরকান্দার আব্দুল হালিম জানান, ভবনগুলো নির্মাণের সময় প্রকৌশল বিভাগের গাফিলতির কারণেই ভেঙে পড়ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ৩৫টি বিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে গৌরীপুর পৌর মডেল, মাছুয়াকান্দা, গোলকপুর, জাগরণী, নূতন বাজার, পাছেরকান্দা, আহসানপুর, পানাটি, ভোলার আলগী, কলতাপাড়া, লক্ষ্মীপুর, গুজিখাঁ, বেতান্দর আদর্শ সংসদ, পশ্চিমপাড়া, সহনাটী, ভালুকাপুর, টেঙ্গাপাড়া, লাটুরপায়ার, শাহাবাজপুর, বহেড়াতলা, নিজমাওহা, চড়াকোনা, সিংরাউন্দ, শাহগঞ্জ, ধারাকান্দি, কিল্লাতাজপুর, চল্লিশা কড়েহা, কাশিয়ারচর, লংক্ষাখোলা, মরিচালী, গোবরা, মহিশ্বরণ, বারুয়ামারী, বেরাটি আজমত আলী ও শেখ খমির উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এত ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে বিস্তারিত আমার জানা নেই। তবে ওই সময়ের অধিকাংশ ভবন ছিল ব্রিক্সের। যে কারণে ভবনগুলো দ্রুত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

Update Time : 07:13:54 am, Friday, 25 September 2026

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় ৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান। নির্মাণের মাত্র ১০-১৫ বছরের মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ভবনগুলো। প্রতিটি ভবনের ছাদ, বিম ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ওপর ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফ্লোরও ধসে পড়েছে। এতে সরকারের প্রায় শতকোটি টাকা গচ্ছা গেছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাঈদা রুবায়াত জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের তালিকা এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। যেসব কক্ষ ক্লাসের অনুপযোগী সেসব শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে বিকল্প কক্ষে ক্লাস নিতে বলা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৌশল অধিদপ্তরের পার্সেন্টিজ বাণিজ্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও গাফিলতির কারণে এসব ভবন দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে গোবরা গ্রামের আজিজুল হক জানান, ভবনটিতে ঠিকমতো সিমেন্ট দেওয়া হলে এমন হতো না। আর যাই করেছিল যদি নিয়মিত পানি দিত তা হলে ভবনটি এত দ্রুত জরাজীর্ণ হয়ে এভাবে পলেস্তারা পড়ে যেত না।

পাছেরকান্দার আব্দুল হালিম জানান, ভবনগুলো নির্মাণের সময় প্রকৌশল বিভাগের গাফিলতির কারণেই ভেঙে পড়ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ৩৫টি বিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে গৌরীপুর পৌর মডেল, মাছুয়াকান্দা, গোলকপুর, জাগরণী, নূতন বাজার, পাছেরকান্দা, আহসানপুর, পানাটি, ভোলার আলগী, কলতাপাড়া, লক্ষ্মীপুর, গুজিখাঁ, বেতান্দর আদর্শ সংসদ, পশ্চিমপাড়া, সহনাটী, ভালুকাপুর, টেঙ্গাপাড়া, লাটুরপায়ার, শাহাবাজপুর, বহেড়াতলা, নিজমাওহা, চড়াকোনা, সিংরাউন্দ, শাহগঞ্জ, ধারাকান্দি, কিল্লাতাজপুর, চল্লিশা কড়েহা, কাশিয়ারচর, লংক্ষাখোলা, মরিচালী, গোবরা, মহিশ্বরণ, বারুয়ামারী, বেরাটি আজমত আলী ও শেখ খমির উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এত ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে বিস্তারিত আমার জানা নেই। তবে ওই সময়ের অধিকাংশ ভবন ছিল ব্রিক্সের। যে কারণে ভবনগুলো দ্রুত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।