মনোহরদীতে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রামীণ সড়ক সংস্কারে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শুধু মাটির মধ্যে সদ্য কার্পেটিং করা সড়কে হাতের ঘষায়ই উঠে আসছে পিচের আস্তরণ। আবার কোথাও কোথাও পা দিয়ে চাপ দিলেও কার্পেটিং আলগা হয়ে যাচ্ছে।
নির্মাণের এক দিনের মধ্যেই এ জালিয়াতির ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারের সঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর যোগসাজশে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কারণেই সড়কটির এমন দশা। জানা গেছে, খিদিরপুর ইউনিয়নের বৈরাগীরচর, কালিরচর, ভাওয়ালিয়াপাড়া হয়ে মনতলা বাজার পর্যন্ত এক হাজার ৪শ মিটার সড়কের প্রায় এক হাজার মিটার অংশের কার্পেটিংয়ের কাজ গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মরিয়ম এন্টার প্রাইজ।
বাকি রয়েছে মাত্র ৪শ মিটার। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার মাত্র এক দিনের মাথায় সব সড়কের কার্পেটিং উঠে আসার অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। গত ২৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয়রা সরেজমিনে গিয়ে দেখেন বালু-খোয়া ছাড়াই শুধু মাটিতে পিচের কার্পেটিং দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। শুধু পায়ের হালকা চাপেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। পরে তারা হাত দিয়ে সড়কের অধিকাংশ স্থানের কার্পেটিং তুলে ফেলেন।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পর সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের টনক নড়ে। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয়দের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গ্রামীণ সড়ক প্রকল্পের আওতায় সড়কটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কালিরচর এলাকায় সদ্য কার্পেটিং করা সড়কের বিভিন্নস্থানে সামান্য ঘষায় কার্পেটিংয়ের স্তর উঠে আসছে। স্থানীয়রা জানায়, নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশা ও উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা ঠিকাদারের সঙ্গে আতাত করে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে ঠিকাদারকে এ কাজটি করার জন্য অনুমতি দেন। এতে করে ঠিকাদার হাছান এ কাজটি করতে সাহস পেয়েছেন।
এদিকে খবর পেয়ে ইউএনও মাহমুদুল হাসান সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় সংস্কারের নির্দেশ দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ইট, খোয়া, বালু ও পাথর ঠিকমতো দেওয়া হয়নি। মাটির লেভেল করার পর ইট, খোয়া, বালু ও পাথরের স্তর যথাযথভাবে প্রস্তুত না করেই শুধু মাটির ওপর কার্পেটিং করা হয়েছে।
এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে এ কাজ দেখভালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোন তদারকি ছিল না। সড়কের কার্পেটিং উঠে আসায় পুরো প্রকল্পের মান নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, সরকারি অর্থে নির্মিত্ত একটি সড়ক যদি নির্মাণের পরপরই নষ্ট হয়ে যায় তা হলে সড়কটি পুনরায় সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে। এতে জনগণের দুর্ভোগের পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয় হবে।
এ বিষয়ে মেসার্স মরিয়ম এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার হাসান মিয়া বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশা ও উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহার নির্দেশ অনুযায়ী কাজটি করেছি। এতে কার্পেটিং উঠে গেলে কি করার আছে। আরও কিছু বলার থাকলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা বলেন, সড়কের অনিয়মের বিষয়ে অবগত আছি।
সরেজমিনে তদন্তও করা হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশা জানান, বিষয়টি নজরে এসেছে। তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এর একটা সমাধান করে দেওয়া হবে। এলাকাবাসী পুরো কাজের কারিগরি পরীক্ষা, ব্যবহৃত নির্মাণ সামগ্রীর মান যাচাই, কাজের গুরুত্ব এবং প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী বাস্তবায়ন হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।













