বৃষ্টির কারণে ম্যাচটা না হওয়ার আশঙ্কা ছিল গতকাল থেকেই। শেষ পর্যন্ত সে আশঙ্কাই সত্যি হলো। এশিয়ান গেমসে ছেলেদের ক্রিকেটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামা হলো না বাংলাদেশ দলের। কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি কোনো বল হওয়ার আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
একইভাবে গতকাল অপর কোয়ার্টার ফাইনালে শ্রীলঙ্কা-নেপাল ম্যাচও পরিত্যক্ত হয়। টস হওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা আগেই খবরটি জানানো হয় ক্রিকইনফোর লাইভে। নিশিনে কোরোগি স্পোর্টস পার্কে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে এ নিয়ে টানা ষষ্ঠ ম্যাচ পরিত্যক্ত হলো এবং এর মধ্যে পাঁচটি ম্যাচে একটি বলও হয়নি। চারটি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচই ভেসে গেল বৃষ্টিতে। ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় লিটন দাসের দলের অবশ্য কোনো ক্ষতি হয়নি।
উল্টো মাঠে না নেমেই সেমিফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার বাংলাদেশের সামনে ছিল মালয়েশিয়া। ম্যাচটিও বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। টস হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে ম্যাচ বাতিল করা হয়। দুই দলকে আগেই বলে দেওয়া হয়েছিল, তারা যেন মাঠে না আসে। সিডিংয়ে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশ সেমিফাইনালে জায়গা পেয়েছে। এই টুর্নামেন্টে র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে চারটি দলকে শীর্ষ সিড দেওয়া হয়েছে।
সেগুলো হলো ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। এই সিডিংই এখন বাংলাদেশকে শেষ চারে এনেছে। এবার বড় প্রশ্ন হলো, সেমিফাইনালও যদি বৃষ্টিতে ভেসে যায়, তাহলে বাংলাদেশ কী পাবে? নিয়ম অনুযায়ী যে উত্তরটি আসছে, সেটা বাংলাদেশের জন্য ভালো নয় আদৌ। ম্যাচ বাতিল হলে র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দল ফাইনালে যাবে। আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তান আছে ছয়ে।
বাংলাদেশ আছে আটে। তাই বৃষ্টিতে ম্যাচ না হলে পাকিস্তানই ফাইনালে উঠবে। অন্য সেমিফাইনালেও একই নিয়ম চলবে। ভারত র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে আছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ বাতিল হলে ভারত ফাইনালে যাবে। তখন ফাইনালে ভারত ও পাকিস্তানের দেখা হতে পারে। ফাইনালও বৃষ্টিতে ভেসে গেলে সে ক্ষেত্রে সোনা জিতবে ভারত, পাকিস্তান জিতবে রুপা। ওদিকে ব্রোঞ্জ ফাইনালে যদি বৃষ্টি হানা দেয়, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ ও শ্রীলঙ্কা ফিরবে খালি হাতে।
২০১৪ সালেও বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে। তবে সবচেয়ে ভালো সাফল্য এসেছে ২০১০ সালে। সেবার আফগানিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশ সোনা জিতেছিল। এখন বাংলাদেশের সমর্থকদের একটাই আশা। সেমিফাইনালের দিন বৃষ্টি যেন থেমে থাকে। কারণ বৃষ্টি চললে র‍্যাঙ্কিংয়ের নিয়মে বাংলাদেশ আর সামনে এগোতে পারবে না।













