1:25 am, Wednesday, 10 June 2026

মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে : যুবদল সভাপতি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাংলাদেশে মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল শ্রেণি রাজনীতিতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না।

তিনি বলেন, চতুর কথাবার্তা বলে রাজনীতিতে বেশি দিন টিকে থাকা যায় না। মবসন্ত্রাস করে পজিশন নেওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ ভালোভাবে নেবে না। আপনারা রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলুন, সাংগঠনিক কাজ করুন। বেফাঁস বক্তব্য-মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন।

সোমবার (৮ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে হোটেল ভিক্টরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যের শুরুতে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন যুবদল সভাপতি।

মোনায়েম মুন্না বলেন, প্রত্যেক নেতাকর্মীদের রাজপথের ত্যাগ ও সংগ্রামকে আমরা মূল্যায়ন করেছি। আগের কমিটির প্রায় ১১৪ জনকে আমরা এই কমিটিতে রেখেছি। আমরা তাদের রাজপথের লড়াই ও অবদানকে স্বীকার করেছি, বিবেচনায় নিয়েছি। আরও কয়েকজন ত্যাগী নেতাদের আমরা জায়গায় দিতে পারিনি।

তিনি বলেন, হাইকমান্ডের নির্দেশনা মেনে আমরা যাচাই বাছাই করে ১৫১ সদস্যের কমিটি গঠন করেছি। এরপর যাদের কমিটিতে রাখতে পারেনি, তাদের জন্য চেষ্টা করর। আরও অন্তত ১০০ জনকে কমিটির সংযুক্ত করার চেষ্টা করব। সেখানে হয়ত তাদের মূল্যায়ন করার চেষ্টা করব। সুতরাং কারও হতাশ হওয়ার কারণ নেই।

যুবদল সভাপতি বলেন, সিনিয়র-জুনিয়র দেখে কমিটিতে কাউকে স্থান দেওয়া হয়নি। আন্দোলন সংগ্রামে প্রত্যেকের অবদান দেখা হয়েছে। অতীতে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে যুবদলের নেতাকর্মী সামাজিক কর্মসূচি সেভাবে পালন করতে পারেনি। আগামী বড় পরিসরে পালন করা হবে।

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন সময় অভিযোগের ভিত্তিতে অনেক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং শোকজ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বানও জানানো হয়েছে। এসব নেতাকর্মীর অনেকেই আমাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। দলের জন্য তাদের অবদান ছিল, আন্দোলন-সংগ্রামেও ভূমিকা ছিল। তারপরও দলের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় দলের সুনাম নষ্ট করলে কাউকে ক্ষমা করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের যে পদ দেওয়া হয়েছে, তার অপব্যবহার করবেন না। এটি দলের আমানত। এমন কাজ করুন, যাতে যুবদলের সুনাম বৃদ্ধি পায়। যে কাজগুলো যুবদলের দুর্নাম ডেকে আনতে পারে, সেসব কাজ থেকে বিরত থাকুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন— যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল কবীর পল, সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল (দপ্তরের দায়িত্বে), সহ-সভাপতি সাইদ ইকবাল টিটো, প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান জুয়েল, সহ সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রাজীব আহসান চৌধুরী পাপ্পু, মাহবুবুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম
Popular Post

পুশইন নিয়ে আবিদুলের পোস্ট ভাইরাল

মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে : যুবদল সভাপতি

Update Time : 09:23:10 am, Tuesday, 9 June 2026

বাংলাদেশে মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল শ্রেণি রাজনীতিতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না।

তিনি বলেন, চতুর কথাবার্তা বলে রাজনীতিতে বেশি দিন টিকে থাকা যায় না। মবসন্ত্রাস করে পজিশন নেওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ ভালোভাবে নেবে না। আপনারা রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলুন, সাংগঠনিক কাজ করুন। বেফাঁস বক্তব্য-মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন।

সোমবার (৮ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে হোটেল ভিক্টরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যের শুরুতে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন যুবদল সভাপতি।

মোনায়েম মুন্না বলেন, প্রত্যেক নেতাকর্মীদের রাজপথের ত্যাগ ও সংগ্রামকে আমরা মূল্যায়ন করেছি। আগের কমিটির প্রায় ১১৪ জনকে আমরা এই কমিটিতে রেখেছি। আমরা তাদের রাজপথের লড়াই ও অবদানকে স্বীকার করেছি, বিবেচনায় নিয়েছি। আরও কয়েকজন ত্যাগী নেতাদের আমরা জায়গায় দিতে পারিনি।

তিনি বলেন, হাইকমান্ডের নির্দেশনা মেনে আমরা যাচাই বাছাই করে ১৫১ সদস্যের কমিটি গঠন করেছি। এরপর যাদের কমিটিতে রাখতে পারেনি, তাদের জন্য চেষ্টা করর। আরও অন্তত ১০০ জনকে কমিটির সংযুক্ত করার চেষ্টা করব। সেখানে হয়ত তাদের মূল্যায়ন করার চেষ্টা করব। সুতরাং কারও হতাশ হওয়ার কারণ নেই।

যুবদল সভাপতি বলেন, সিনিয়র-জুনিয়র দেখে কমিটিতে কাউকে স্থান দেওয়া হয়নি। আন্দোলন সংগ্রামে প্রত্যেকের অবদান দেখা হয়েছে। অতীতে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে যুবদলের নেতাকর্মী সামাজিক কর্মসূচি সেভাবে পালন করতে পারেনি। আগামী বড় পরিসরে পালন করা হবে।

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন সময় অভিযোগের ভিত্তিতে অনেক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং শোকজ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বানও জানানো হয়েছে। এসব নেতাকর্মীর অনেকেই আমাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। দলের জন্য তাদের অবদান ছিল, আন্দোলন-সংগ্রামেও ভূমিকা ছিল। তারপরও দলের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় দলের সুনাম নষ্ট করলে কাউকে ক্ষমা করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের যে পদ দেওয়া হয়েছে, তার অপব্যবহার করবেন না। এটি দলের আমানত। এমন কাজ করুন, যাতে যুবদলের সুনাম বৃদ্ধি পায়। যে কাজগুলো যুবদলের দুর্নাম ডেকে আনতে পারে, সেসব কাজ থেকে বিরত থাকুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন— যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল কবীর পল, সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল (দপ্তরের দায়িত্বে), সহ-সভাপতি সাইদ ইকবাল টিটো, প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান জুয়েল, সহ সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রাজীব আহসান চৌধুরী পাপ্পু, মাহবুবুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।