1:20 am, Sunday, 28 June 2026

চাঁদপুর মাছঘাটে নেই ইলিশ, হতাশ ক্রেতা-বিক্রেতা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

মৌসুম শুরু হলেও রুপালি ‘ইলিশের বাড়ি’ খ্যাত চাঁদপুরে নেই ইলিশ। দেশের অন্যতম বৃহৎ ইলিশ অবতরণকেন্দ্র চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটের আড়তগুলো এখন অনেকটাই ফাঁকা। ইলিশের আমদানি কম থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। স্বল্প সংখ্যক মাছ আমদানি হলেও দাম অনেক চড়া। যা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চাঁদপুর মাছঘাটের অধিকাংশ আড়তে এখন সুনসান নীরবতা। সাগর ও উপকূলীয় নদ-নদীর ইলিশও তেমন আসছে না। তা ছাড়া, মেঘনা ও পদ্মা নদী থেকে জেলেরা ফিরছেন খালি হাতে। ঘাট-পন্টুন পুরোটাই ফাঁকা। মাছের নৌকা বা ফিশিং বোট তেমন নেই। আড়তগুলোর লেবাররা পন্টুনে অলস সময় কাটাচ্ছেন। ইলিশের টুকরিগুলো স্তূপ করে রাখা। ক্রেতা, মৎস্য ব্যবসায়ীর সংখ্যাও খুব কম। মাত্র কয়েকটি আড়তে বসে আছেন কর্মচারীরা। সামনে অল্প মাছ নিয়ে বিক্রির জন্য বসে আছেন খুচরা বিক্রেতারা। তবে মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, বৃষ্টি বাড়লেই ধরা পড়বে ইলিশ।

ব্যবসায়ীরা জানান, এক কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রতি কেজি ১ হাজার ৮০০ টাকা। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি কেজি ২৫০০ টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২৮০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মতলব উত্তর উপজেলা থেকে আসা ক্রেতা আরিফ বলেন, মাছের মৌসুম শুরু হয়েছে। আমি ঘাটে এসেছি ইলিশ নেওয়ার জন্য। এর আগে, গত বছর ঠিক একই সময়ে এসেছি এখানে মাছ ক্রয় করেছি। তখন ইলিশের দাম কম ছিল। সেই তুলনায় এ বছর মাছের দাম ডাবল। ওই সময় মাছ ক্রয় করেছি ২০ কেজি। দাম বেশি হওয়ায় আজ ১ কেজি ক্রয় করেছি।

চাঁদপুর মাছ ঘাটে আসা ক্রেতা হাসান বলেন, ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার মাছ খুব সুস্বাদু। তাই আমরা চাঁদপুর মাছঘাটে এসেছি মাছ কিনতে। কিন্তু মাছের দাম বেশি থাকায় মাছ কিনতে পারলাম না।

আরেক ক্রেতা জহিরুল ইসলাম বলেন, মাছ কিনতে এসে হতাশ হয়েছি। দাম অনেক চড়া।

ইলিশের আড়তদার সম্্রাট বেপারী বলেন, ঘাটে মাছ কম থাকার কারণে দাম একটু বেশি। তবে গত দুই দিন আগে কিছুটা কম ছিল। যদি মাছের সরবরাহ বাড়ে তাহলে দাম কমবে।

আরেক ইলিশের আড়তদার নূরে আলম বলেন, ইলিশের মৌসুম শুরু হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার ইলিশ অনেক কম, তাই দাম একটু বেশি। গত বছর এই সময়ে প্রতিকেজি ইলিশ বিক্রি করেছি ২২০০ টাকা করে। আর এখন বিক্রিয় করতে হচ্ছে প্রতি কেজি ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকা করে। যদি মাছের সরবরাহ বাড়ে তাহলে দাম করে যাবে।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত সরকার বলেন, মৌসুমের শুরুতে চাঁদপুরে ইলিশ মাছ অনেক কম। এখন মাছঘাট ফাঁকা, আজ সারা দিনে ঘাটে ৫-৭ মণ ইলিশ সরবরাহ হয়েছে। এগুলো চাঁদপুরের স্থানীয় নদীর মাছ। সাগরেও মাছ নেই। জেলেরা ফিসিংবোট নিয়ে ঘুরেও মাছ পাচ্ছে না। এর মূল কারণ হচ্ছে বৃষ্টি হওয়ায়, জড়-তুফান না থাকায়। তিনি দাবি করেন বৃষ্টি, বন্যা, জড় তুফান হলে নদী ও সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা গত অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। আমাদের প্রত্যাশা এ বছর ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। কিন্তু এবার বৃষ্টি অনেক কম, তাই ইলিশ ধরা পড়ছে না। বৃষ্টি হলে ইলিশ পাবে।

তিনি আরও বলেন, মেঘনার মোহনায় বালুচর বেড়ে যাওয়ায় ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। পানি দূষণ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে নদীর পানির গুণগত মান এবং অক্সিজেন লেভেল কমে যাচ্ছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ইলিশের প্রজনন ও বৃদ্ধির জন্য প্রতিকূল। উজানে বাঁধ ও ব্যারাজের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও লবণাক্ততার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যা ইলিশের পরিযাণকে বাধাগ্রস্ত করছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম

বিএনপি সার্বভৌমত্বের পক্ষে থাকলে এনসিপি তাদের সঙ্গে থাকবে: সারজিস আলম

চাঁদপুর মাছঘাটে নেই ইলিশ, হতাশ ক্রেতা-বিক্রেতা

Update Time : 10:59:30 am, Saturday, 27 June 2026

মৌসুম শুরু হলেও রুপালি ‘ইলিশের বাড়ি’ খ্যাত চাঁদপুরে নেই ইলিশ। দেশের অন্যতম বৃহৎ ইলিশ অবতরণকেন্দ্র চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটের আড়তগুলো এখন অনেকটাই ফাঁকা। ইলিশের আমদানি কম থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। স্বল্প সংখ্যক মাছ আমদানি হলেও দাম অনেক চড়া। যা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চাঁদপুর মাছঘাটের অধিকাংশ আড়তে এখন সুনসান নীরবতা। সাগর ও উপকূলীয় নদ-নদীর ইলিশও তেমন আসছে না। তা ছাড়া, মেঘনা ও পদ্মা নদী থেকে জেলেরা ফিরছেন খালি হাতে। ঘাট-পন্টুন পুরোটাই ফাঁকা। মাছের নৌকা বা ফিশিং বোট তেমন নেই। আড়তগুলোর লেবাররা পন্টুনে অলস সময় কাটাচ্ছেন। ইলিশের টুকরিগুলো স্তূপ করে রাখা। ক্রেতা, মৎস্য ব্যবসায়ীর সংখ্যাও খুব কম। মাত্র কয়েকটি আড়তে বসে আছেন কর্মচারীরা। সামনে অল্প মাছ নিয়ে বিক্রির জন্য বসে আছেন খুচরা বিক্রেতারা। তবে মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, বৃষ্টি বাড়লেই ধরা পড়বে ইলিশ।

ব্যবসায়ীরা জানান, এক কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রতি কেজি ১ হাজার ৮০০ টাকা। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি কেজি ২৫০০ টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২৮০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মতলব উত্তর উপজেলা থেকে আসা ক্রেতা আরিফ বলেন, মাছের মৌসুম শুরু হয়েছে। আমি ঘাটে এসেছি ইলিশ নেওয়ার জন্য। এর আগে, গত বছর ঠিক একই সময়ে এসেছি এখানে মাছ ক্রয় করেছি। তখন ইলিশের দাম কম ছিল। সেই তুলনায় এ বছর মাছের দাম ডাবল। ওই সময় মাছ ক্রয় করেছি ২০ কেজি। দাম বেশি হওয়ায় আজ ১ কেজি ক্রয় করেছি।

চাঁদপুর মাছ ঘাটে আসা ক্রেতা হাসান বলেন, ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার মাছ খুব সুস্বাদু। তাই আমরা চাঁদপুর মাছঘাটে এসেছি মাছ কিনতে। কিন্তু মাছের দাম বেশি থাকায় মাছ কিনতে পারলাম না।

আরেক ক্রেতা জহিরুল ইসলাম বলেন, মাছ কিনতে এসে হতাশ হয়েছি। দাম অনেক চড়া।

ইলিশের আড়তদার সম্্রাট বেপারী বলেন, ঘাটে মাছ কম থাকার কারণে দাম একটু বেশি। তবে গত দুই দিন আগে কিছুটা কম ছিল। যদি মাছের সরবরাহ বাড়ে তাহলে দাম কমবে।

আরেক ইলিশের আড়তদার নূরে আলম বলেন, ইলিশের মৌসুম শুরু হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার ইলিশ অনেক কম, তাই দাম একটু বেশি। গত বছর এই সময়ে প্রতিকেজি ইলিশ বিক্রি করেছি ২২০০ টাকা করে। আর এখন বিক্রিয় করতে হচ্ছে প্রতি কেজি ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকা করে। যদি মাছের সরবরাহ বাড়ে তাহলে দাম করে যাবে।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত সরকার বলেন, মৌসুমের শুরুতে চাঁদপুরে ইলিশ মাছ অনেক কম। এখন মাছঘাট ফাঁকা, আজ সারা দিনে ঘাটে ৫-৭ মণ ইলিশ সরবরাহ হয়েছে। এগুলো চাঁদপুরের স্থানীয় নদীর মাছ। সাগরেও মাছ নেই। জেলেরা ফিসিংবোট নিয়ে ঘুরেও মাছ পাচ্ছে না। এর মূল কারণ হচ্ছে বৃষ্টি হওয়ায়, জড়-তুফান না থাকায়। তিনি দাবি করেন বৃষ্টি, বন্যা, জড় তুফান হলে নদী ও সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা গত অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। আমাদের প্রত্যাশা এ বছর ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। কিন্তু এবার বৃষ্টি অনেক কম, তাই ইলিশ ধরা পড়ছে না। বৃষ্টি হলে ইলিশ পাবে।

তিনি আরও বলেন, মেঘনার মোহনায় বালুচর বেড়ে যাওয়ায় ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। পানি দূষণ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে নদীর পানির গুণগত মান এবং অক্সিজেন লেভেল কমে যাচ্ছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ইলিশের প্রজনন ও বৃদ্ধির জন্য প্রতিকূল। উজানে বাঁধ ও ব্যারাজের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও লবণাক্ততার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যা ইলিশের পরিযাণকে বাধাগ্রস্ত করছে।