মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি। প্রতিদিন রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল ছেঁকে বের করা, শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা এবং প্রয়োজনীয় খনিজের মাত্রা ঠিক রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে এটি।
তবে কিডনি রোগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগ শনাক্ত হওয়ার আগেই কিডনির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়ে যায়। তাই কিডনিকে সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন জীবনযাপনে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
কিডনির প্রধান শত্রু কী?
বিশ্বজুড়ে কিডনি রোগের হার বাড়ার পেছনে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বড় ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির সবচেয়ে বড় ক্ষতির জন্য মূলত তিনটি কারণ দায়ী।
১. অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ
কিডনির সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে ধরা হয় অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপকে। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একইভাবে দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কিডনির ছাঁকনি বা ফিল্টারিং ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা ধীরে ধীরে কিডনিকে দুর্বল করে দেয়।
২. অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ সেবন
সামান্য ব্যথা বা অস্বস্তিতেই অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ খান। দীর্ঘদিন এ ধরনের ওষুধ অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে, এমনকি কিডনি বিকলের ঝুঁকিও তৈরি হয়।
৩. প্রয়োজন ছাড়া সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ
ইচ্ছেমতো প্রোটিন পাউডার, হারবাল পণ্য বা বিভিন্ন ফুড সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার প্রবণতাও কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই যেকোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।কিডনি ভালো রাখতে যা করবেন
কিডনি সুস্থ রাখতে জীবনযাপনে বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। কয়েকটি সহজ অভ্যাস অনুসরণ করলেই অনেকটাই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
পরিমিত পানি পান করুন
অনেকে মনে করেন বেশি পানি পান করলেই কিডনি বেশি ভালো থাকবে। তবে এ ধারণা সঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী—সাধারণভাবে দিনে প্রায় ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করাই যথেষ্ট। প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি কিডনির ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আবার পর্যাপ্ত পানি পান করলে কিডনি সহজে বর্জ্য অপসারণ করতে পারে এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও কমে।
রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে রক্তচাপ ও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। পাশাপাশি সুষম খাদ্য গ্রহণ, লবণ কম খাওয়া, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা কিডনি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিজে থেকে ওষুধ খাবেন না
শরীর খারাপ হলেই নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করুন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন কোনো ওষুধ বা খাদ্য-পরিপূরক গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কিডনি সুস্থ রাখা খুব জটিল কোনো বিষয় নয়। প্রতিদিনের কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলেই এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব। তাই সচেতন থাকুন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন এবং কিডনির যত্ন নিন।





















