দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ছয় বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনই নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে চারজন সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের এবং একজন পাশের বক্তাবলী ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপর নিহত ব্যক্তি মুন্সিগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত প্রায় ৩টার দিকে ইস্টার্ন কেপের কুইন্সটাউন এলাকায় একটি দোকানে আগুন লাগে। ওই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ছয় বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।
পরে মঙ্গলবার প্রিটোরিয়ার বাংলাদেশ হাই কমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রওশন আলী জানান, নিহত ছয়জনের মধ্যে চারজন তার ইউনিয়নের বাসিন্দা। অন্য দুজনের মধ্যে একজন বক্তাবলী ইউনিয়নের এবং একজন মুন্সিগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকার। তারা সবাই পরস্পরের আত্মীয়।
তিনি বলেন, খবরটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নিহতরা সবাই একে অপরের আত্মীয়। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রশাসনের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান।
এদিকে হাইকমিশন জানায়, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হাই কমিশনার শাহ আহমেদ শফী আজ দুপুরে সমো টাউন, কুইন্সটাউনের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। সফরকালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন, নিহত ও আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এ ছাড়া, তিনি সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। বৈঠকে তিনি ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি, তদন্তের অগ্রগতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে আলোচনা করবেন।
























