10:35 am, Tuesday, 19 May 2026

৬ ব্যাংক থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) পাশাপাশি রপ্তানি প্রবাহ বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনা শুরু করেছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (১৮ মে) ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এই ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ৫৯৮ কোটি মার্কিন ডলার (৫.৯৮ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে ডলারের দাম কমে গেলে রপ্তানিকারক ও রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীরা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়তে পারেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ মূলত বাজারে ডলারের দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নামতে না দেওয়ার ইঙ্গিত।

গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী ডলার কেনা-বেচা করছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে বড় অঙ্কের ডলার বিক্রি করলেও চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ধীরে ধীরে ক্রয়ের মাধ্যমে রিজার্ভের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। আজকের এই ডলার ক্রয়ের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমপিএ পদ্ধতিতে ডলার কেনা-বেচার ফলে একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক দাম নির্ধারণ সম্ভব হয়, যা ব্যাংকগুলোর জন্যও ইতিবাচক। তবে, তারা মনে করছেন, ডলার বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে শুধু আমদানি নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর না করে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়ানো দরকার।

রিজার্ভের চাপ ও বৈদেশিক লেনদেন ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন মুদ্রা বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। তাই ডলারের দাম ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ধরনের হস্তক্ষেপ বাজারে আস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম

৬ ব্যাংক থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

Update Time : 09:09:26 am, Tuesday, 19 May 2026

প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) পাশাপাশি রপ্তানি প্রবাহ বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনা শুরু করেছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (১৮ মে) ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এই ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ৫৯৮ কোটি মার্কিন ডলার (৫.৯৮ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে ডলারের দাম কমে গেলে রপ্তানিকারক ও রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীরা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়তে পারেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ মূলত বাজারে ডলারের দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নামতে না দেওয়ার ইঙ্গিত।

গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী ডলার কেনা-বেচা করছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে বড় অঙ্কের ডলার বিক্রি করলেও চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ধীরে ধীরে ক্রয়ের মাধ্যমে রিজার্ভের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। আজকের এই ডলার ক্রয়ের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমপিএ পদ্ধতিতে ডলার কেনা-বেচার ফলে একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক দাম নির্ধারণ সম্ভব হয়, যা ব্যাংকগুলোর জন্যও ইতিবাচক। তবে, তারা মনে করছেন, ডলার বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে শুধু আমদানি নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর না করে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়ানো দরকার।

রিজার্ভের চাপ ও বৈদেশিক লেনদেন ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন মুদ্রা বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। তাই ডলারের দাম ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ধরনের হস্তক্ষেপ বাজারে আস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।