12:30 am, Wednesday, 24 June 2026

প্রাণঘাতী ডেঙ্গু মোকাবিলায় সৈন্য মোতায়েন করছে শ্রীলঙ্কা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দেশজুড়ে প্রাণঘাতী ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। যে কারণে ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। মঙ্গলবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়েকের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে গঠিত একটি বিশেষ ইউনিটে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।

এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের শরীরে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, পেশিতে ব্যথা এবং সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রে রক্তপাতের ঘটনাও ঘটে। এই রোগে আক্রান্তদের অনেকেই সঠিক চিকিৎসার অভাবে মারা যান।শ্রীলঙ্কায় চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া এতে প্রাণ গেছে অন্তত ২৯ জনের। দেশটিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও প্রাণহানির ২০১৭ সালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের তুলনায় চলতি বছরের ওই পরিসংখ্যান অনেক কম। ওই বছর দেশটিতে ১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ৪৪০ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।

ডেঙ্গু ছড়ানো কালো এবং সাদা ডোরাকাটা পায়ের এডিস মশা জমে থাকা স্থির পানিতে বংশবৃদ্ধি করে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশেষ সামরিক ইউনিট গঠনের পাশাপাশি যাদের আঙিনায় মশার বংশবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে; তাদের বিরুদ্ধেও আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।

মশার প্রজননস্থলগুলো পরিষ্কার করার জন্য আগামী বুধবার দেশব্যাপী অভিযান শুরু করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গু এবং মশা বাহিত অন্যান্য ভাইরাস আরও দ্রুত এবং বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চলতি সপ্তাহে মাত্র এক দিনেই এক হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সরকারের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিট আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়লে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো তা সামাল দিতে সক্ষম নাও হতে পারে।

কলম্বোয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই ইউনিটের প্রধান কপিলা কান্নাঙ্গারা বলেন, হাসপাতালগুলোতে ইতোমধ্যে ডেঙ্গু রোগীদের প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে। আমরা ২০১৭ সালে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম, তেমন কোনও অবস্থার পুনরাবৃত্তি চাই না। মৌসুমী বৃষ্টিপাত, সাম্প্রতিক বন্যার কারণে জমে থাকা পানি এবং যত্রতত্র ফেলা বর্জ্য মশার দ্রুত বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে।

সূত্র: এএফপি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম

প্রাণঘাতী ডেঙ্গু মোকাবিলায় সৈন্য মোতায়েন করছে শ্রীলঙ্কা

Update Time : 07:12:05 pm, Tuesday, 23 June 2026

দেশজুড়ে প্রাণঘাতী ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। যে কারণে ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। মঙ্গলবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়েকের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে গঠিত একটি বিশেষ ইউনিটে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।

এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের শরীরে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, পেশিতে ব্যথা এবং সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রে রক্তপাতের ঘটনাও ঘটে। এই রোগে আক্রান্তদের অনেকেই সঠিক চিকিৎসার অভাবে মারা যান।শ্রীলঙ্কায় চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া এতে প্রাণ গেছে অন্তত ২৯ জনের। দেশটিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও প্রাণহানির ২০১৭ সালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের তুলনায় চলতি বছরের ওই পরিসংখ্যান অনেক কম। ওই বছর দেশটিতে ১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ৪৪০ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।

ডেঙ্গু ছড়ানো কালো এবং সাদা ডোরাকাটা পায়ের এডিস মশা জমে থাকা স্থির পানিতে বংশবৃদ্ধি করে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশেষ সামরিক ইউনিট গঠনের পাশাপাশি যাদের আঙিনায় মশার বংশবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে; তাদের বিরুদ্ধেও আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।

মশার প্রজননস্থলগুলো পরিষ্কার করার জন্য আগামী বুধবার দেশব্যাপী অভিযান শুরু করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গু এবং মশা বাহিত অন্যান্য ভাইরাস আরও দ্রুত এবং বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চলতি সপ্তাহে মাত্র এক দিনেই এক হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সরকারের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিট আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়লে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো তা সামাল দিতে সক্ষম নাও হতে পারে।

কলম্বোয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই ইউনিটের প্রধান কপিলা কান্নাঙ্গারা বলেন, হাসপাতালগুলোতে ইতোমধ্যে ডেঙ্গু রোগীদের প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে। আমরা ২০১৭ সালে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম, তেমন কোনও অবস্থার পুনরাবৃত্তি চাই না। মৌসুমী বৃষ্টিপাত, সাম্প্রতিক বন্যার কারণে জমে থাকা পানি এবং যত্রতত্র ফেলা বর্জ্য মশার দ্রুত বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে।

সূত্র: এএফপি।