12:31 am, Wednesday, 24 June 2026

যেসব ভুলে চুল পড়ে, জেনে নিন সমাধান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

আপনার গোছা গোছা চুলপড়ার পেছনে জিনগত কারণ কিংবা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ছাড়াও আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ ভুল বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। আপনি যদি ইদানীং চুলপড়া নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কে ভুগে থাকেন, তবে খেয়াল করুন— অবহেলায় কিংবা আপনার অজান্তেই কিছু ভুল হচ্ছে কিনা।আপনার মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস, যাপন, জিন ইত্যাদি চুলের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে থাকে। কিন্তু আপনারও কিছু ভুলে চুল ঝরেপড়ার পরিমাণ বেড়ে চলেছে। ভাবছেন চুলের যত্ন নিচ্ছেন অথচ অতি আদরের চুল বেহাল হচ্ছে কেন? আপনি নিজেকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন প্রসাধনী, জিন এবং নিজের খাওয়াদাওয়াকে। কিন্তু তারপরও আপনারই কিছু ভুলে চুল ঝরেপড়ার পরিমাণ বেড়ে চলেছে। তাই আগে নিজের বদভ্যাসগুলো কাটিয়ে বের হতে হবে, তবেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন ৫ কারণে চুলপড়ার পরিমাণ বেড়েই চলেছে—

চুল বাঁধা

গরম ও ঘাম থেকে নিজেকে রক্ষা করতে উঁচু করে চুল বাঁধছেন। চারদিকে ক্লিপ আটকাচ্ছেন, যাতে এক–দুই গোছাও মুখে না পড়ে। আবার কেউ কেউ টান টান কেশসজ্জা পছন্দ করেন। তাই এভাবে চুল বাঁধেন অনেকেই। কিন্তু এভাবে আঁটসাঁট করে বাঁধলে চুলের গোড়ায় টান পড়ে যায়। ফলিকলগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। ভাঙন ধরে চুলে। এর ফলে আরও বেশি করে চুল পড়তে পারে। তাই টান টান করে চুল বাঁধলেও খেয়াল রাখবেন যাতে গোড়ায় টান না পড়ে। একই কারণে রাবারের ব্যান্ড ব্যবহার না করে সিল্কের স্ক্রাঞ্চি ব্যবহার করুন।

শ্যাম্পু করা

মাথা ধোয়ায় আলসেমি। আজ নয় কাল করতে করতে মাথায় জমতে থাকে ঘাম, ধুলোময়লা, অতিরিক্ত তেল ও মৃত ত্বকের কোষ। তাতে দুর্বল হতে থাকে আপনার চুলের স্বাস্থ্য। মাথার ত্বকে নানা প্রকার সমস্যা দেখা দিতে থাকে। এতে চুলের ফলিকল বন্ধ হয়ে গিয়ে প্রদাহ বাড়তে থাকে। তাই সপ্তাহে একাধিকবার শ্যাম্পু করার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে এমন ভ্যাপসা আবহাওয়ায়।

ভেজা চুল

মাথা ধোয়ার পর চুল স্পর্শকাতর হয়ে থাকে। আপনার চুলের বাইরের আবরণ, কিউটিকল— সবই দুর্বল হয়ে থাকে। তখন গামছা বা তোয়ালে দিয়ে জোরে জোরে মাথা ঘষলে চুল ছিঁড়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি তৈরি হয়। এতে আগাও ফেটে যায়। আর ভেজা চুল জোরে জোরে আঁচড়ানোর চেষ্টা করলে বা জট ছাড়াতে থাকলে একই ঘটনা ঘটে। তাই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। চুল শুকানোর জন্য আলতো করে গামছা দিয়ে চাপ দিতে হবে, আর চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে ধীরে ধীরে চুল আঁচড়াতে হবে। কারণ আঁচড়ানোর সময়ে গোড়া থেকে নয়, নিচের দিকটি আগে আঁচড়ে জট ছাড়িয়ে নিতে হবে।

তাপ প্রয়োগ

মাথা ধুয়েছেন, গামছা দিয়ে পানি ঝরিয়েছেন, চুল দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু তা়ড়ার চোটে এমন সময়েই অনেকে চুল স্ট্রেট করতে বসেন। সিক্ত মাথায় তাপ প্রয়োগ করলে চুলে ভাঙন ধরে। এর ফলে চুলের পানি স্ট্রেটনারের তাপ পেয়ে ফুটে ওঠে। একে বলা হয় ‘বাবল হেয়ার’। চুলের কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এ বদভ্যাসের ফলে। চুল শুকিয়ে নেওয়ার আগে যদি তাপ প্রয়োগ করা হয়, তাহলে চুল ঝরেপড়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

তেল মাখা

অনেকেই মাথায় জবজবে করে তেল মেখে ঘুমাতে যেতে পছন্দ করেন। কারণ তাতে রাতভর পুষ্টি পাবে চুল ভেবে। তারপর পরদিন সকালে মাথা ধুয়ে ফেলেন। কিন্তু গরমের সময়ে খুব ভারি তেল মেখে শুলে ঘাম ও ময়লা জমে থাকে চুলের গোড়ায়। তাতে আবার একই সমস্যা হতে পারে। চুলের ফলিকল বন্ধ হয়ে যায়। সেখান থেকে ব্যাক্টেরিয়ার বৃদ্ধি হতে পারে। হয় হালকা তেল মেখে ঘুমাতে যান, নয়তো শ্যাম্পু করার ১-২ ঘণ্টা আগে মেখে নিন। এতে চুলে ভাঙন ধরার ঝুঁকি কমে যায়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম

যেসব ভুলে চুল পড়ে, জেনে নিন সমাধান

Update Time : 07:21:10 pm, Tuesday, 23 June 2026

আপনার গোছা গোছা চুলপড়ার পেছনে জিনগত কারণ কিংবা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ছাড়াও আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ ভুল বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। আপনি যদি ইদানীং চুলপড়া নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কে ভুগে থাকেন, তবে খেয়াল করুন— অবহেলায় কিংবা আপনার অজান্তেই কিছু ভুল হচ্ছে কিনা।আপনার মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস, যাপন, জিন ইত্যাদি চুলের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে থাকে। কিন্তু আপনারও কিছু ভুলে চুল ঝরেপড়ার পরিমাণ বেড়ে চলেছে। ভাবছেন চুলের যত্ন নিচ্ছেন অথচ অতি আদরের চুল বেহাল হচ্ছে কেন? আপনি নিজেকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন প্রসাধনী, জিন এবং নিজের খাওয়াদাওয়াকে। কিন্তু তারপরও আপনারই কিছু ভুলে চুল ঝরেপড়ার পরিমাণ বেড়ে চলেছে। তাই আগে নিজের বদভ্যাসগুলো কাটিয়ে বের হতে হবে, তবেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন ৫ কারণে চুলপড়ার পরিমাণ বেড়েই চলেছে—

চুল বাঁধা

গরম ও ঘাম থেকে নিজেকে রক্ষা করতে উঁচু করে চুল বাঁধছেন। চারদিকে ক্লিপ আটকাচ্ছেন, যাতে এক–দুই গোছাও মুখে না পড়ে। আবার কেউ কেউ টান টান কেশসজ্জা পছন্দ করেন। তাই এভাবে চুল বাঁধেন অনেকেই। কিন্তু এভাবে আঁটসাঁট করে বাঁধলে চুলের গোড়ায় টান পড়ে যায়। ফলিকলগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। ভাঙন ধরে চুলে। এর ফলে আরও বেশি করে চুল পড়তে পারে। তাই টান টান করে চুল বাঁধলেও খেয়াল রাখবেন যাতে গোড়ায় টান না পড়ে। একই কারণে রাবারের ব্যান্ড ব্যবহার না করে সিল্কের স্ক্রাঞ্চি ব্যবহার করুন।

শ্যাম্পু করা

মাথা ধোয়ায় আলসেমি। আজ নয় কাল করতে করতে মাথায় জমতে থাকে ঘাম, ধুলোময়লা, অতিরিক্ত তেল ও মৃত ত্বকের কোষ। তাতে দুর্বল হতে থাকে আপনার চুলের স্বাস্থ্য। মাথার ত্বকে নানা প্রকার সমস্যা দেখা দিতে থাকে। এতে চুলের ফলিকল বন্ধ হয়ে গিয়ে প্রদাহ বাড়তে থাকে। তাই সপ্তাহে একাধিকবার শ্যাম্পু করার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে এমন ভ্যাপসা আবহাওয়ায়।

ভেজা চুল

মাথা ধোয়ার পর চুল স্পর্শকাতর হয়ে থাকে। আপনার চুলের বাইরের আবরণ, কিউটিকল— সবই দুর্বল হয়ে থাকে। তখন গামছা বা তোয়ালে দিয়ে জোরে জোরে মাথা ঘষলে চুল ছিঁড়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি তৈরি হয়। এতে আগাও ফেটে যায়। আর ভেজা চুল জোরে জোরে আঁচড়ানোর চেষ্টা করলে বা জট ছাড়াতে থাকলে একই ঘটনা ঘটে। তাই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। চুল শুকানোর জন্য আলতো করে গামছা দিয়ে চাপ দিতে হবে, আর চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে ধীরে ধীরে চুল আঁচড়াতে হবে। কারণ আঁচড়ানোর সময়ে গোড়া থেকে নয়, নিচের দিকটি আগে আঁচড়ে জট ছাড়িয়ে নিতে হবে।

তাপ প্রয়োগ

মাথা ধুয়েছেন, গামছা দিয়ে পানি ঝরিয়েছেন, চুল দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু তা়ড়ার চোটে এমন সময়েই অনেকে চুল স্ট্রেট করতে বসেন। সিক্ত মাথায় তাপ প্রয়োগ করলে চুলে ভাঙন ধরে। এর ফলে চুলের পানি স্ট্রেটনারের তাপ পেয়ে ফুটে ওঠে। একে বলা হয় ‘বাবল হেয়ার’। চুলের কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এ বদভ্যাসের ফলে। চুল শুকিয়ে নেওয়ার আগে যদি তাপ প্রয়োগ করা হয়, তাহলে চুল ঝরেপড়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

তেল মাখা

অনেকেই মাথায় জবজবে করে তেল মেখে ঘুমাতে যেতে পছন্দ করেন। কারণ তাতে রাতভর পুষ্টি পাবে চুল ভেবে। তারপর পরদিন সকালে মাথা ধুয়ে ফেলেন। কিন্তু গরমের সময়ে খুব ভারি তেল মেখে শুলে ঘাম ও ময়লা জমে থাকে চুলের গোড়ায়। তাতে আবার একই সমস্যা হতে পারে। চুলের ফলিকল বন্ধ হয়ে যায়। সেখান থেকে ব্যাক্টেরিয়ার বৃদ্ধি হতে পারে। হয় হালকা তেল মেখে ঘুমাতে যান, নয়তো শ্যাম্পু করার ১-২ ঘণ্টা আগে মেখে নিন। এতে চুলে ভাঙন ধরার ঝুঁকি কমে যায়।