11:27 am, Saturday, 1 August 2026

ইরানের বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: প্রতিবেদন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ইরানের জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের যৌথ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সপ্তাহান্তজুড়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ইসরায়েলকে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করছে। তবে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেন, পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর কোনো সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তারা অবগত নন এবং ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার অনুরোধও এখনো পাননি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৩১ জুলাই) ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের কথা বিবেচনা করে এ ধরনের হামলার বিরোধিতা করেন বলেও জানা গেছে।

সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানব। একসময় তারা বলবে, আর সহ্য করা সম্ভব নয়।” কূটনৈতিক উদ্যোগ পুনরায় শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা জিততে চাই।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হতে পারে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেল শোধনাগার এবং অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামো। এছাড়া তেহরানের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তার প্রশাসনের অধীনে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, প্রেসিডেন্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে কোনো মন্তব্য করবে না প্রতিরক্ষা বিভাগ। তবে প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানকে ঘিরে তিনটি সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, যার একটি ছিল স্থলপথে সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা চালানো।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম
Popular Post

ডিপ স্টেট নির্মূল না হলে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: জাহিদুল ইসলাম

ইরানের বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: প্রতিবেদন

Update Time : 10:07:37 am, Saturday, 1 August 2026

ইরানের জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের যৌথ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সপ্তাহান্তজুড়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ইসরায়েলকে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করছে। তবে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেন, পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর কোনো সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তারা অবগত নন এবং ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার অনুরোধও এখনো পাননি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৩১ জুলাই) ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের কথা বিবেচনা করে এ ধরনের হামলার বিরোধিতা করেন বলেও জানা গেছে।

সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানব। একসময় তারা বলবে, আর সহ্য করা সম্ভব নয়।” কূটনৈতিক উদ্যোগ পুনরায় শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা জিততে চাই।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হতে পারে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেল শোধনাগার এবং অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামো। এছাড়া তেহরানের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তার প্রশাসনের অধীনে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, প্রেসিডেন্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে কোনো মন্তব্য করবে না প্রতিরক্ষা বিভাগ। তবে প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানকে ঘিরে তিনটি সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, যার একটি ছিল স্থলপথে সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা চালানো।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে।