12:04 pm, Saturday, 8 August 2026

জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণ সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জ্বালানি খাতকে বেসরকারিকরণ এবং আমদানিনির্ভর করার উদ্যোগ বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, জনগণের অর্থে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রীয় সম্পদ করপোরেট গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহকারী রাষ্ট্রীয় ছয়টি কোম্পানিকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের আলোচনা উদ্বেগজনক। একইসঙ্গে দেশকে ক্রমেই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিনির্ভর করে তোলার নীতি জ্বালানি নিরাপত্তাকে দুর্বল করছে। তার দাবি, গত এক দশকে দেশে এলএনজির ব্যবহার প্রায় ৬-৭ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দেশীয় জ্বালানি সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, সরকার মিয়ানমার থেকে এলএনজি আমদানির কথাও বলছে। কিন্তু প্রায় ১৭ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখনো অমীমাংসিত। এমন পরিস্থিতিতে একটি অনিশ্চিত প্রতিবেশী দেশের ওপর জ্বালানি নির্ভরতা বিচক্ষণ রাষ্ট্রনীতির পরিচায়ক হতে পারে না।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে জনগণের অর্থ অপচয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এখন একইভাবে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারিকরণের মাধ্যমে জাতীয় সম্পদ করপোরেট গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে যথাযথ বিনিয়োগ না করে বিদেশ নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো এবং বঙ্গোপসাগরের গ্যাস ব্লকগুলোতে অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাপেক্সকে শক্তিশালী করা এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে জ্বালানি নীতি প্রণয়নই বর্তমান সংকট উত্তরণের পথ। একইসঙ্গে জনগণের স্বার্থবিরোধী জ্বালানি নীতির বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলা এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। এছাড়া বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি এবং এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম
Popular Post

অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় সারির দলের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণ সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

Update Time : 10:03:11 am, Saturday, 8 August 2026

জ্বালানি খাতকে বেসরকারিকরণ এবং আমদানিনির্ভর করার উদ্যোগ বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, জনগণের অর্থে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রীয় সম্পদ করপোরেট গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহকারী রাষ্ট্রীয় ছয়টি কোম্পানিকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের আলোচনা উদ্বেগজনক। একইসঙ্গে দেশকে ক্রমেই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিনির্ভর করে তোলার নীতি জ্বালানি নিরাপত্তাকে দুর্বল করছে। তার দাবি, গত এক দশকে দেশে এলএনজির ব্যবহার প্রায় ৬-৭ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দেশীয় জ্বালানি সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, সরকার মিয়ানমার থেকে এলএনজি আমদানির কথাও বলছে। কিন্তু প্রায় ১৭ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখনো অমীমাংসিত। এমন পরিস্থিতিতে একটি অনিশ্চিত প্রতিবেশী দেশের ওপর জ্বালানি নির্ভরতা বিচক্ষণ রাষ্ট্রনীতির পরিচায়ক হতে পারে না।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে জনগণের অর্থ অপচয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এখন একইভাবে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারিকরণের মাধ্যমে জাতীয় সম্পদ করপোরেট গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে যথাযথ বিনিয়োগ না করে বিদেশ নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো এবং বঙ্গোপসাগরের গ্যাস ব্লকগুলোতে অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাপেক্সকে শক্তিশালী করা এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে জ্বালানি নীতি প্রণয়নই বর্তমান সংকট উত্তরণের পথ। একইসঙ্গে জনগণের স্বার্থবিরোধী জ্বালানি নীতির বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলা এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। এছাড়া বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি এবং এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ।