প্রায় দেড়শ বছর আগে ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ চার্লস ডারউইন ধারণা দিয়েছিলেন, কিছু উদ্ভিদ হয়তো পোকামাকড় থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করতে পারে। এবার আধুনিক গবেষণায় সেই ধারণারই শক্ত প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
চীনের দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চভূমিতে জন্মানো একটি ফুলগাছ পোকামাকড় আকর্ষণ, ফাঁদে আটকানো এবং পরে সেগুলো হজম করে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। উদ্ভিদটির নাম স্যাক্সিফ্রাগা ক্যান্ডেলাব্রাম। চিংহাই-তিব্বত মালভূমি এবং ইউনান ও সিচুয়ান প্রদেশের হেংডুয়ান পর্বতমালায় আড়াই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার মিটার উচ্চতায় এর দেখা মেলে।
পাথুরে, শুষ্ক ও পুষ্টি-স্বল্প মাটিতেই সাধারণত এই উদ্ভিদ জন্মায়। গবেষণায় দেখা যায়, উদ্ভিদটি বিশেষ গন্ধের মাধ্যমে ছোট মশার মতো পোকামাকড়কে আকৃষ্ট করে। এরপর পাতার আঠালো লোমে আটকে যাওয়া পোকাগুলোকে ফসফাটেজ নামের একধরনের হজমকারী এনজাইমের সাহায্যে ভেঙে ফেলে। বিজ্ঞানীরা বিশেষ চিহ্নযুক্ত নাইট্রোজেন ব্যবহার করে দেখেছেন, পোকামাকড়ের শরীর থেকে নাইট্রোজেন উদ্ভিদের দেহে পৌঁছাচ্ছে; অর্থাৎ শুধু পোকা আটকে রাখা নয়, সেগুলো হজম করে পুষ্টিও গ্রহণ করছে উদ্ভিদটি।
মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পূর্ণবয়স্ক একটি উদ্ভিদে কয়েক ডজন পোকামাকড় আটকে থাকতে পারে। কোনো কোনো গাছে ৭০টি পর্যন্ত ছোট পোকা পাওয়া গেছে। তবে ফুলের পরাগায়নে ভূমিকা রাখা বড় মাছিগুলো এসব লোমে আটকে পড়েনি। এতে ধারণা করা হচ্ছে, পরাগায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পোকামাকড়কে এড়িয়ে অপ্রয়োজনীয় পোকাই মূলত ফাঁদে পড়ে। গবেষকদের মতে, পোকামাকড়ের শরীরে থাকা প্রচুর নাইট্রোজেন এমন পরিবেশে উদ্ভিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস হতে পারে।
সাধারণত জলাভূমিতে জন্মানো পোকাখেকো উদ্ভিদ বেশি পরিচিত হলেও স্যাক্সিফ্রাগা ক্যান্ডেলাব্রামের মতো পাহাড়ি উদ্ভিদের ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জিনগত বিশ্লেষণেও অন্যান্য আঠালো পোকাখেকো উদ্ভিদের সঙ্গে এর মিল পাওয়া গেছে। ফলে ডারউইনের বহু পুরোনো ধারণা এবার আধুনিক রাসায়নিক, জিনগত ও মাঠপর্যায়ের গবেষণায় আরও শক্ত ভিত্তি পেল।















