ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় চা-দোকানি রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে রবি (৫৫) হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত রবিউলের ভাতিজা নাজমুল শেখ বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. সোহেল সারোয়ার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, উপজেলার বড়বাগ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা (হুকুমের আসামি) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্যান্য আসামিরাও একই এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত রবিউল বড়ভাগ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা সদর বাজারে চা বিক্রি করতেন। ঘটনার রাতে দোকান বন্ধ করে তিনি নিজ গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ওঁৎ পেতে থাকা হোসাইন শেখের নেতৃত্বে একদল হামলাকারী দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ঘটনাস্থলেই রবিউল মারা যান এবং তার সঙ্গে থাকা অপর তিনজন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’টি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জেরে চলতি বছরের গত ২৬ জুন সুমন শেখ (৩০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত রবিউল ছিলেন সম্পর্কে সুমনের চাচা। সুমন হত্যা মামলারও প্রধান হুকুমের আসামি এই হোসাইন শেখ। পূর্বের মামলায় আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে সাত সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়ে এলাকায় আসার পরই নতুন করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. সোহেল সারোয়ার জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়ে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের জোর তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।













