10:27 am, Friday, 18 September 2026

নওগাঁর ধামইরহাটে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নওগাঁর ধামইরহাটে তিন মাসের অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে সরকারি হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স সেবা। চালকের সংকটসহ নানা অনিয়মের কারণে এই সেবা ব্যাহত হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনেরা।

বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বেসরকারি বা ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে গিয়ে দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রায় ২ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা সরকারি এই অ্যাম্বুলেন্স-সেবা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে থাকা অ্যাম্বুলেন্সটি গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে রোগী পরিবহন থেকে বিরত রয়েছে।

এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সরকারি নিয়োগকৃত চালকের শূন্যতা। পূর্বে অ্যাম্বুলেন্সটির চালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মনোয়ার হোসেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, চালক মনোয়ার বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাতেন এবং মাদকাসক্ত ছিলেন, যার ফলে বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনার শিকার হয় অ্যাম্বুলেন্সটি। বিষয়টি জানাজানি হলে নিরাপত্তার খাতিরে কর্তৃপক্ষ তাকে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়ে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে।

এরপর থেকেই চালকের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতালের জরুরি এই সেবা। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত চিকিৎসার সীমাবদ্ধতার কারণে জটিল রোগীদের প্রায়শই জেলা সদর বা পার্শ্ববর্তী জেলায় স্থানান্তর করতে হয়। ধামইরহাট থেকে পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলা সদর হাসপাতালের দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে এই দূরত্বের নির্ধারিত ভাড়া মাত্র ৭০০ টাকা হলেও ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্সে রোগীদের গুনতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার টাকা।

জরুরি মুহূর্তে সামর্থ্যবানেরা অতিরিক্ত এই ভাড়া দিতে পারলেও চরম আর্থিক সংকটে পড়ছেন নি¤œ আয়ের মানুষ। এ বিষয়ে ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্সের মালিক মিলন হোসেন বলেন, ‘আমাদের গ্যাস ও অন্যান্য খরচ বেশি থাকায় এই ভাড়া নেওয়া হয়। তবে অনেক সময় দরিদ্র রোগীর স্বজনেরা পূর্ণ ভাড়া দিতে না পারলে আমরা সেটাও মেনে নিই, পাশাপাশি আমাদের ব্যাবসায়িক লভ্যাংশেরও বিষয় থাকে।

’ চালকের সংকটের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফুল ইসলাম জানান, চালক না থাকার কারণে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স-সেবা বন্ধ থাকাটা দুঃখজনক। তবে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত চালক না আসা অবধি খ-কালীন চালক দিয়ে সেবাটি চালু করা যায় কি না, সেই চেষ্টা চলছে। আশা করি, খুব দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব। সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ধামইরহাটসহ জেলার আরও কয়েকটি উপজেলার সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে চালকের সংকট রয়েছে।

বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী চালক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে কবে নাগাদ এই সংকট নিরসন হবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

নওগাঁর ধামইরহাটে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা

Update Time : 09:15:43 am, Friday, 18 September 2026

নওগাঁর ধামইরহাটে তিন মাসের অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে সরকারি হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স সেবা। চালকের সংকটসহ নানা অনিয়মের কারণে এই সেবা ব্যাহত হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনেরা।

বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বেসরকারি বা ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে গিয়ে দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রায় ২ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা সরকারি এই অ্যাম্বুলেন্স-সেবা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে থাকা অ্যাম্বুলেন্সটি গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে রোগী পরিবহন থেকে বিরত রয়েছে।

এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সরকারি নিয়োগকৃত চালকের শূন্যতা। পূর্বে অ্যাম্বুলেন্সটির চালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মনোয়ার হোসেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, চালক মনোয়ার বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাতেন এবং মাদকাসক্ত ছিলেন, যার ফলে বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনার শিকার হয় অ্যাম্বুলেন্সটি। বিষয়টি জানাজানি হলে নিরাপত্তার খাতিরে কর্তৃপক্ষ তাকে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়ে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে।

এরপর থেকেই চালকের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতালের জরুরি এই সেবা। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত চিকিৎসার সীমাবদ্ধতার কারণে জটিল রোগীদের প্রায়শই জেলা সদর বা পার্শ্ববর্তী জেলায় স্থানান্তর করতে হয়। ধামইরহাট থেকে পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলা সদর হাসপাতালের দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে এই দূরত্বের নির্ধারিত ভাড়া মাত্র ৭০০ টাকা হলেও ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্সে রোগীদের গুনতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার টাকা।

জরুরি মুহূর্তে সামর্থ্যবানেরা অতিরিক্ত এই ভাড়া দিতে পারলেও চরম আর্থিক সংকটে পড়ছেন নি¤œ আয়ের মানুষ। এ বিষয়ে ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্সের মালিক মিলন হোসেন বলেন, ‘আমাদের গ্যাস ও অন্যান্য খরচ বেশি থাকায় এই ভাড়া নেওয়া হয়। তবে অনেক সময় দরিদ্র রোগীর স্বজনেরা পূর্ণ ভাড়া দিতে না পারলে আমরা সেটাও মেনে নিই, পাশাপাশি আমাদের ব্যাবসায়িক লভ্যাংশেরও বিষয় থাকে।

’ চালকের সংকটের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফুল ইসলাম জানান, চালক না থাকার কারণে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স-সেবা বন্ধ থাকাটা দুঃখজনক। তবে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত চালক না আসা অবধি খ-কালীন চালক দিয়ে সেবাটি চালু করা যায় কি না, সেই চেষ্টা চলছে। আশা করি, খুব দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব। সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ধামইরহাটসহ জেলার আরও কয়েকটি উপজেলার সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে চালকের সংকট রয়েছে।

বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী চালক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে কবে নাগাদ এই সংকট নিরসন হবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি।