9:39 am, Friday, 25 September 2026

পদ্মায় পানি হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাঘার চকরাজাপুর ইউনিয়নে পদ্মার পানি কমলেও দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। এরই মধ্যে বিলীন হয়েছে বসতভিটা, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন গাছপালা। ঝুঁকি এড়াতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে কয়েকটি পরিবার।

নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে গড়গড়ি ইউনিয়নের করারী নওশারা গ্রামে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় দেড়শ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে নদী পাড় এলাকা থেকে বিদ্যুতের ১৭টি খুঁটি সরিয়ে নেয়ো হয়েছে। ভাঙনে চকরাজাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীনগর গ্রামে কামরুল মোল্লার বসতভিটা ও ভাঙন রোধে দেওয়া জিও ব্যাগ বিলীন হয়ে গেছে। চৌমাদিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজ গাজী জানান, তার বসতভিটা নদী ভাঙনের কবলে পড়ায় বাড়ি সরিয়ে নিয়ে বাংলাবাজার এলাকায় বসবাস করছেন।

স্থানীয়রা জানান, এবারের বন্যায় চক রাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টির মধ্যে ১৩ গ্রামই বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। কেউ ঘরের মাচায় আশ্রয় নিয়েছেন, কেউ গবাদিপশু নিয়ে ছুটেছেন তুলনামূলক উঁচু জায়গায়। পানি নামতে শুরু করলেও এখন ভাঙনই প্রধান সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে ইউনিয়নের চৌমাদিয়া, আতারপাড়া, কালিদাস খালীসহ কয়েকটি গ্রাম বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ। কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিক ও গো-খাদ্য সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। বন্যায় প্রভাব পড়ে শিক্ষাজীবনেও। ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮টিতেই পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। পানি-কাদার কারণে শিক্ষার্থীরা এখনো স্কুলে ফিরতে পারেনি। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বন্যার পানিতে শুধু ঘরবাড়ি, স্কুল নয়, তলিয়ে গেছে মানুষের কর্মসংস্থানের প্রধান জায়গাÑ ফসলের মাঠও। ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর। কৃষিকাজ বন্ধ থাকায় আয় নেই। অনেক পরিবারের চুলায় নিয়মিত হাঁড়ি উঠছে না। কয়েকটি বিদ্যালয় সরিয়ে নিতে হয়েছে, কোনোটি পরিণত হয় বন্যার্তদের আশ্রয়কেন্দ্রে। আবার কোনোটির শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে যাওয়ায় পাঠদান সম্ভব হয়নি।

গবাদিপশু পালনকারীরাও রয়েছেন মহাসংকটে। মাঠ ডুবে যাওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। খড় কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। স্থানীয় বাসিন্দা রাজা ব্যাপারী বলেন, ‘নিজের বসবাস ও খাবারের চেয়ে গরু-ছাগল রাখা এবং তাদের খাদ্য জোগাড় করা বেশি বিপাকে ফেলেছে। মাঠ তলিয়ে যাওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট প্রকট। খড়ের দামও আকাশছোঁয়া। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, নদী ভাঙনের কারণে চৌমাদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আতারপাড়া ও ফতেপুর পলাশী প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার্তদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পশ্চিম চর কালীদাসখালী, লক্ষ্মীনগর ও চর কালীদাসখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে যাওয়ায় ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়নি। বন্ধ রয়েছে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদানও। ফলে ইউনিয়নের মাত্র তিনটি বিদ্যালয়ে কোনোভাবে পাঠদান চালু আছে। ইউএনও তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, বন্যায় আক্রান্ত ১১শ’র বেশি পরিবারকে সরকারি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

পদ্মায় পানি হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন

Update Time : 07:11:11 am, Friday, 25 September 2026

বাঘার চকরাজাপুর ইউনিয়নে পদ্মার পানি কমলেও দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। এরই মধ্যে বিলীন হয়েছে বসতভিটা, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন গাছপালা। ঝুঁকি এড়াতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে কয়েকটি পরিবার।

নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে গড়গড়ি ইউনিয়নের করারী নওশারা গ্রামে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় দেড়শ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে নদী পাড় এলাকা থেকে বিদ্যুতের ১৭টি খুঁটি সরিয়ে নেয়ো হয়েছে। ভাঙনে চকরাজাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীনগর গ্রামে কামরুল মোল্লার বসতভিটা ও ভাঙন রোধে দেওয়া জিও ব্যাগ বিলীন হয়ে গেছে। চৌমাদিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজ গাজী জানান, তার বসতভিটা নদী ভাঙনের কবলে পড়ায় বাড়ি সরিয়ে নিয়ে বাংলাবাজার এলাকায় বসবাস করছেন।

স্থানীয়রা জানান, এবারের বন্যায় চক রাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টির মধ্যে ১৩ গ্রামই বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। কেউ ঘরের মাচায় আশ্রয় নিয়েছেন, কেউ গবাদিপশু নিয়ে ছুটেছেন তুলনামূলক উঁচু জায়গায়। পানি নামতে শুরু করলেও এখন ভাঙনই প্রধান সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে ইউনিয়নের চৌমাদিয়া, আতারপাড়া, কালিদাস খালীসহ কয়েকটি গ্রাম বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ। কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিক ও গো-খাদ্য সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। বন্যায় প্রভাব পড়ে শিক্ষাজীবনেও। ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮টিতেই পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। পানি-কাদার কারণে শিক্ষার্থীরা এখনো স্কুলে ফিরতে পারেনি। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বন্যার পানিতে শুধু ঘরবাড়ি, স্কুল নয়, তলিয়ে গেছে মানুষের কর্মসংস্থানের প্রধান জায়গাÑ ফসলের মাঠও। ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর। কৃষিকাজ বন্ধ থাকায় আয় নেই। অনেক পরিবারের চুলায় নিয়মিত হাঁড়ি উঠছে না। কয়েকটি বিদ্যালয় সরিয়ে নিতে হয়েছে, কোনোটি পরিণত হয় বন্যার্তদের আশ্রয়কেন্দ্রে। আবার কোনোটির শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে যাওয়ায় পাঠদান সম্ভব হয়নি।

গবাদিপশু পালনকারীরাও রয়েছেন মহাসংকটে। মাঠ ডুবে যাওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। খড় কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। স্থানীয় বাসিন্দা রাজা ব্যাপারী বলেন, ‘নিজের বসবাস ও খাবারের চেয়ে গরু-ছাগল রাখা এবং তাদের খাদ্য জোগাড় করা বেশি বিপাকে ফেলেছে। মাঠ তলিয়ে যাওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট প্রকট। খড়ের দামও আকাশছোঁয়া। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, নদী ভাঙনের কারণে চৌমাদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আতারপাড়া ও ফতেপুর পলাশী প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার্তদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পশ্চিম চর কালীদাসখালী, লক্ষ্মীনগর ও চর কালীদাসখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে যাওয়ায় ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়নি। বন্ধ রয়েছে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদানও। ফলে ইউনিয়নের মাত্র তিনটি বিদ্যালয়ে কোনোভাবে পাঠদান চালু আছে। ইউএনও তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, বন্যায় আক্রান্ত ১১শ’র বেশি পরিবারকে সরকারি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।