পুরোপুরি দখলমুক্ত হয়েছে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক। হামলার চারদিনের মাথায়, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের তত্ত্বাবধানে সংস্কার শুরু হয় ভবনটিতে।
এদিকে ভাঙাচোরা স্থাপনার ভেতরে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছেন কর্মীরা। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি সহায়তা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানারটি এখন আর নেই। তার জায়গায় সাঁটানো হয়েছে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ব্যানার। তবে হামলার দগদগে ক্ষত এখনও রয়ে গেছে ভবনে। যদিও সোমবার সকাল থেকে, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় সংস্কার।
হামলার পর দু-তিনদিন ধ্বংস্তূপের বাইরে টিকাদান কার্যক্রম চালায় রাড্ডা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। সোমবার কোনোরকমে দাঁড়িয়ে থাকা ভবনের ভেতরে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়। তবে প্রসূতি মা ও শিশুদের অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের কথা জানান সেন্টারের কর্মীরা।
একজন টিকাদানকর্মী বলেন, ‘আমরা আগের মতো বাচ্চাদের টিকা দিতে পারছি না। বাচ্চাদের মায়েরা রোদের মধ্যে দাঁড়াচ্ছেন, তারা কষ্ট পাচ্ছেন।’
আরেকজন টিকাদানকর্মী বলেন, ‘এখন মূলত ইপিআই; বিশেষ করে হাম–রুবেলার টিকাটা দেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য সেবাটা আমরা এখনো পুরোপুরি দিতে পারছি না।’
হামলা-লুটপাটে প্রায় দেড় কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের। এজন্য সরকারী সহায়তা চেয়েছে তারা।
রাড্ডা ক্লিনিকের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, ‘এগুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যেন দেখে। আমাদের যেসব ইনস্ট্রুমেন্ট, ইকুইপমেন্ট, আমাদের ভবনের যে স্থায়ী সম্পত্তিগুলো নষ্ট হয়েছে– সরকারের সংশ্লিষ্ট অথরিরিটিকে নিশ্চিত করতে হবে যে, আমরা এখানে নিশ্চিতভাবে কাজ করতে পারব।’
এদিকে ক্লিনিকটি পরিদর্শনে এসে সংরক্ষিত নারী এমপি সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, হামলায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ‘যেগুলো ভেঙে পড়ে গেছে এগুলো যেন সরানো হয়। যেগুলো টিকে আছে, এগুলো পুননির্মাণ বা সংস্কার কাজে হাত দেওয়া হয়। এ ধরনের ঘটনা যেন আর না হয়, সেটার জন্য আমাদের সরকার ব্যবস্থা নেবে।’
ভবন দখলমুক্ত হলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন রাড্ডা ক্লিনিকের পরিচালক ও কর্মীরা।













