1:56 am, Wednesday, 24 June 2026

আম উপকারী ফল, কিন্তু দিনে কতটুকু পরিমাণে খাওয়া উচিত

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

এখন চলছে আমের মৌসুম। দেদার বাজারে প্রচুর পরিমাণে আম বের হয়েছে। আম দেখলে খেতে মন চায়। আম উপকারী ফল। আম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। খেলে ক্ষতিও আছে। দিনে কতগুলো আম খাওয়া চলে? সুস্থ থাকার জন্য একদিনে এক থেকে দুটির বেশি মাঝারি আকারের আম খাওয়া উচিত নয়।আর আমে ভিটামিন ‘সি’, ‘এ’ এবং রকমারি খনিজে পূর্ণ। আমের পুষ্টিগুণ অনেক। আমে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। গরমে পানির জোগান দিতে, শর্করা থাকায় দ্রুত শক্তি জোগাতে সক্ষম এ ফল। একটি বড় আম খাওয়া, কার্যত ভরপেট খাবার খাওয়ার সমান। কিন্তু এ উপকারী ফলটিও বেশি খেলে আপনার কোনো সমস্যা হতে পারে? দিনে কয়টি আম খেতে পারেন, তা জেনে নেওয়া উচিত।

হিমসাগর প্রায় শেষের পথে। তবে ফজলিসহ এখনো অনেক জাতের আম রয়েছে এ মৌসুমে। রসালো মিষ্টি এ ফলটি ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। আবার এমন আমপ্রেমীও আছেন, যারা ফলটি দেখলে লোভ সামলাতে পারেন না।

এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ জুহি কাপুর বলেছেন, আমের সংখ্যা নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো তার আকার ও ক্যালোরির পরিমাণ। বিশেষত যারা ওজন বশে রাখতে চান, তাদের ক্ষেত্রে ক্যালোরির হিসাব খুব জরুরি। আবার এ ফলে শর্করার মাত্রা যথেষ্ট। ফলে বেশি আম খেলে রক্তে শর্করার মাত্রাও বেড়ে যেতে পারে।

এ পুষ্টিবিদ বলেন, একটি ছোট আকারের আম বা বড় আমের একাংশ খেলে ক্যালোরি মিলবে ১২৫-১৩০ কিলোক্যালোরি। মাঝারি থেকে বড়মাপের আমের ক্যালোরির মাত্রা ২৫০ থেকে ৩৫০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। শর্করার পরিমাণ বা মিষ্টত্ব এবং ফাইবার আমের প্রজাতি ভেদে ভিন্ন হয়। এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক বলেছেন, কেউ দিনে ঠিক কটি আম খেতে পারেন, তা এককথায় বলা যায় না। ব্যক্তিবিশেষের শারীরিক সমস্যা ও ক্যালোরির চাহিদা এমন অনেক কিছুর উপরেই আমের সংখ্যা নির্ভর করে। তবে দিনে এক থেকে দুটির বেশি আম খাওয়ার পক্ষপাতী তিনি নন।

তবে আম খাওয়ার বিপদও আছে। আম মিষ্টি ফল। এতে প্রাকৃতিক শর্করা বা ফ্রুক্টোজের পরিমাণ থাকে যথেষ্ট। ডায়েটরি ফাইবারও থাকে। স্বল্পমাত্রায় যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো; কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত হলে তাই ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এ পুষ্টিবিদ বলেন, একবারে ২-৩টি বড় আম কেউ খেলে ফ্রুক্টোজ পরিপাকে সমস্যা হতে পারে। তাতে হজমের গোলমাল দেখা দেবে। পেটব্যথা শুরু হতে পারে। এমনকি পেট খারাপও করতে পারে। আবার রক্তে শর্করার মাত্রাও আচমকা বেড়ে যেতে পারে।

অনন্যা বলেন, আর ডায়াবেটিস রোগীরাও আম খেতে পারেন। স্ন্যাক হিসেবে আম আমরা খেতেই বলি। তবে তার মাত্রা থাকা দরকার। একটা আম, ঠিক আছে। তার বেশি নয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম

আম উপকারী ফল, কিন্তু দিনে কতটুকু পরিমাণে খাওয়া উচিত

Update Time : 07:32:33 pm, Tuesday, 23 June 2026

এখন চলছে আমের মৌসুম। দেদার বাজারে প্রচুর পরিমাণে আম বের হয়েছে। আম দেখলে খেতে মন চায়। আম উপকারী ফল। আম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। খেলে ক্ষতিও আছে। দিনে কতগুলো আম খাওয়া চলে? সুস্থ থাকার জন্য একদিনে এক থেকে দুটির বেশি মাঝারি আকারের আম খাওয়া উচিত নয়।আর আমে ভিটামিন ‘সি’, ‘এ’ এবং রকমারি খনিজে পূর্ণ। আমের পুষ্টিগুণ অনেক। আমে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। গরমে পানির জোগান দিতে, শর্করা থাকায় দ্রুত শক্তি জোগাতে সক্ষম এ ফল। একটি বড় আম খাওয়া, কার্যত ভরপেট খাবার খাওয়ার সমান। কিন্তু এ উপকারী ফলটিও বেশি খেলে আপনার কোনো সমস্যা হতে পারে? দিনে কয়টি আম খেতে পারেন, তা জেনে নেওয়া উচিত।

হিমসাগর প্রায় শেষের পথে। তবে ফজলিসহ এখনো অনেক জাতের আম রয়েছে এ মৌসুমে। রসালো মিষ্টি এ ফলটি ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। আবার এমন আমপ্রেমীও আছেন, যারা ফলটি দেখলে লোভ সামলাতে পারেন না।

এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ জুহি কাপুর বলেছেন, আমের সংখ্যা নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো তার আকার ও ক্যালোরির পরিমাণ। বিশেষত যারা ওজন বশে রাখতে চান, তাদের ক্ষেত্রে ক্যালোরির হিসাব খুব জরুরি। আবার এ ফলে শর্করার মাত্রা যথেষ্ট। ফলে বেশি আম খেলে রক্তে শর্করার মাত্রাও বেড়ে যেতে পারে।

এ পুষ্টিবিদ বলেন, একটি ছোট আকারের আম বা বড় আমের একাংশ খেলে ক্যালোরি মিলবে ১২৫-১৩০ কিলোক্যালোরি। মাঝারি থেকে বড়মাপের আমের ক্যালোরির মাত্রা ২৫০ থেকে ৩৫০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। শর্করার পরিমাণ বা মিষ্টত্ব এবং ফাইবার আমের প্রজাতি ভেদে ভিন্ন হয়। এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক বলেছেন, কেউ দিনে ঠিক কটি আম খেতে পারেন, তা এককথায় বলা যায় না। ব্যক্তিবিশেষের শারীরিক সমস্যা ও ক্যালোরির চাহিদা এমন অনেক কিছুর উপরেই আমের সংখ্যা নির্ভর করে। তবে দিনে এক থেকে দুটির বেশি আম খাওয়ার পক্ষপাতী তিনি নন।

তবে আম খাওয়ার বিপদও আছে। আম মিষ্টি ফল। এতে প্রাকৃতিক শর্করা বা ফ্রুক্টোজের পরিমাণ থাকে যথেষ্ট। ডায়েটরি ফাইবারও থাকে। স্বল্পমাত্রায় যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো; কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত হলে তাই ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এ পুষ্টিবিদ বলেন, একবারে ২-৩টি বড় আম কেউ খেলে ফ্রুক্টোজ পরিপাকে সমস্যা হতে পারে। তাতে হজমের গোলমাল দেখা দেবে। পেটব্যথা শুরু হতে পারে। এমনকি পেট খারাপও করতে পারে। আবার রক্তে শর্করার মাত্রাও আচমকা বেড়ে যেতে পারে।

অনন্যা বলেন, আর ডায়াবেটিস রোগীরাও আম খেতে পারেন। স্ন্যাক হিসেবে আম আমরা খেতেই বলি। তবে তার মাত্রা থাকা দরকার। একটা আম, ঠিক আছে। তার বেশি নয়।