1:22 pm, Saturday, 1 August 2026

বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত ইউরোপের ৫৫ দেশের

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টে ফিফার বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে উয়েফা। সংস্থাটি ঘোষণা দিয়েছে, জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত প্রস্তাব অনুমোদন পেলে বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বর্জন করবে ইউরোপের ৫৫টি সদস্যদেশ।

জরুরি বৈঠকের পর উয়েফা এক বিবৃতিতে জানায়, সদস্যদেশগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফিফার টুর্নামেন্টে ব্যক্তিমালিকানার পরিকল্পনা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কোনো উয়েফাভুক্ত জাতীয় দল ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।

এই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলেছে। কারণ, সর্বশেষ বিশ্বকাপের আট কোয়ার্টার-ফাইনালিস্টের ছয়টিই ছিল ইউরোপের দল। স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানির মতো দল ছাড়া বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক মূল্য ও আকর্ষণ বড় ধাক্কা খাবে বলে মনে করছে উয়েফা।

এর আগে ফিফা ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটার্নালের নেতৃত্বে আছেন জশুয়া কুশনার, সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে তিনি আলোচনায় রয়েছেন।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্যদেশগুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটি অনুমোদন পেলে ২০২৭-৩১ চক্রে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির অনুদান ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলার করা হবে। পাশাপাশি এককালীন আরও ২ কোটি ডলার দেওয়া হবে সমর্থনকারী সদস্যদের। তবে প্রস্তাব পাস না হলে অনুদান দাঁড়াবে ১ কোটি ডলারে, অর্থাৎ প্রতিটি সদস্যদেশ ৩ কোটি ডলার কম পাবে। এই বিষয়টিকেই চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখছে উয়েফা।

বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘জাতীয় সংস্থাগুলোর সামনে এখন এক ধরনের আল্টিমেটাম রাখা হয়েছে—হয় বিশ্বকাপের মালিকানার অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দিতে হবে, নয়তো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এটি গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ভয় দেখিয়ে সিদ্ধান্ত আদায়ের চেষ্টা।’

উয়েফার ভাষ্য, বিশ্বকাপ কোনো বিনিয়োগ পণ্য নয় এবং এর মালিকানা বিক্রির অধিকার কারও নেই। তাদের দাবি, ‘যেদিন থেকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা ফিফার প্রতিযোগিতার মালিকানায় অংশীদার হবে, সেদিন থেকেই ফুটবলের সিদ্ধান্ত খেলাটির স্বার্থে নয়, শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফার স্বার্থে নেওয়া হবে।’

উয়েফা আরও বলেছে, ‘ফুটবলের ভবিষ্যৎ এমন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না, যাদের প্রথম কাজ সর্বোচ্চ লাভ করা। বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্পদ, এটি কখনোই বিক্রির জন্য নয়।’

ফিফার ২১১ সদস্যদেশের ভোটে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর এই প্রস্তাবের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। অনুমোদনের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ফিফা কাউন্সিলের সমর্থন প্রয়োজন। তাই ইউরোপের পাশাপাশি অন্য কনফেডারেশনগুলোর সমর্থন আদায়ও এখন উয়েফার বড় চ্যালেঞ্জ।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম
Popular Post

ডিপ স্টেট নির্মূল না হলে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: জাহিদুল ইসলাম

বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত ইউরোপের ৫৫ দেশের

Update Time : 09:42:24 am, Friday, 31 July 2026

বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টে ফিফার বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে উয়েফা। সংস্থাটি ঘোষণা দিয়েছে, জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত প্রস্তাব অনুমোদন পেলে বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বর্জন করবে ইউরোপের ৫৫টি সদস্যদেশ।

জরুরি বৈঠকের পর উয়েফা এক বিবৃতিতে জানায়, সদস্যদেশগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফিফার টুর্নামেন্টে ব্যক্তিমালিকানার পরিকল্পনা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কোনো উয়েফাভুক্ত জাতীয় দল ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।

এই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলেছে। কারণ, সর্বশেষ বিশ্বকাপের আট কোয়ার্টার-ফাইনালিস্টের ছয়টিই ছিল ইউরোপের দল। স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানির মতো দল ছাড়া বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক মূল্য ও আকর্ষণ বড় ধাক্কা খাবে বলে মনে করছে উয়েফা।

এর আগে ফিফা ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটার্নালের নেতৃত্বে আছেন জশুয়া কুশনার, সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে তিনি আলোচনায় রয়েছেন।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্যদেশগুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটি অনুমোদন পেলে ২০২৭-৩১ চক্রে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির অনুদান ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলার করা হবে। পাশাপাশি এককালীন আরও ২ কোটি ডলার দেওয়া হবে সমর্থনকারী সদস্যদের। তবে প্রস্তাব পাস না হলে অনুদান দাঁড়াবে ১ কোটি ডলারে, অর্থাৎ প্রতিটি সদস্যদেশ ৩ কোটি ডলার কম পাবে। এই বিষয়টিকেই চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখছে উয়েফা।

বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘জাতীয় সংস্থাগুলোর সামনে এখন এক ধরনের আল্টিমেটাম রাখা হয়েছে—হয় বিশ্বকাপের মালিকানার অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দিতে হবে, নয়তো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এটি গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ভয় দেখিয়ে সিদ্ধান্ত আদায়ের চেষ্টা।’

উয়েফার ভাষ্য, বিশ্বকাপ কোনো বিনিয়োগ পণ্য নয় এবং এর মালিকানা বিক্রির অধিকার কারও নেই। তাদের দাবি, ‘যেদিন থেকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা ফিফার প্রতিযোগিতার মালিকানায় অংশীদার হবে, সেদিন থেকেই ফুটবলের সিদ্ধান্ত খেলাটির স্বার্থে নয়, শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফার স্বার্থে নেওয়া হবে।’

উয়েফা আরও বলেছে, ‘ফুটবলের ভবিষ্যৎ এমন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না, যাদের প্রথম কাজ সর্বোচ্চ লাভ করা। বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্পদ, এটি কখনোই বিক্রির জন্য নয়।’

ফিফার ২১১ সদস্যদেশের ভোটে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর এই প্রস্তাবের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। অনুমোদনের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ফিফা কাউন্সিলের সমর্থন প্রয়োজন। তাই ইউরোপের পাশাপাশি অন্য কনফেডারেশনগুলোর সমর্থন আদায়ও এখন উয়েফার বড় চ্যালেঞ্জ।