স্পেন প্রবাসী জামাল ঢালীর উদ্যোগে সুলতানা রাজিয়া ইতি এগ্রোফার্ম, কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা
মাদারীপুর প্রতিনিধি: রবিন চৌধুরী
বেকারত্ব দূরীকরণে উদ্যোক্তা তৈরির অনন্য উদ্যোগ
মাদারীপুরে শিবচরের পাচ্চার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হোগলার মাঠ ঢালিকান্দি এলাকায় স্পেন প্রবাসী জামাল ঢালীর উদ্যোগে গড়ে উঠেছে সুলতানা রাজিয়া ইতি এগ্রোফার্ম। অল্প পরিসরে যাত্রা শুরু করলেও মাত্র এক বছরের মধ্যেই ফার্মটি পেয়েছে ব্যাপক সাড়া ও ব্যবসায়িক সফলতা।
ফার্মটি বর্তমানে পরিচালনা করছেন মো: শফিকুল ঢালী। উদ্যোক্তার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে অল্পসংখ্যক মুরগি নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই ফার্মে বর্তমানে রয়েছে ৫ হাজারেরও বেশি মুরগি। ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু ব্যবসায়িক সফলতাই নয়, স্থানীয় বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেও কাজ করছে এগ্রোফার্মটি। উদ্যোক্তার মতে, দেশে দিন দিন বেকারত্ব বাড়ছে। ফলে শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাও হতে পারে একটি কার্যকর পথ।
স্পেন প্রবাসী উদ্যোক্তা জামাল ঢালী বলেন,“বাংলাদেশে বেকারত্ব যেভাবে বাড়ছে, তাতে চাকরি পাওয়াটাই অনেকের কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আমার মতো আপনারাও নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করুন। অল্প সময় দিয়েও কৃষি ও খামারভিত্তিক উদ্যোগ থেকে ভালো আয় করা সম্ভব। একটু পরিশ্রম ও ধৈর্য থাকলে সফলতা অবশ্যই আসবে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু মুরগির খামার নয়—গরু, ছাগল, মাছের খামার, সবজি চাষ কিংবা ফলের বাগানও করা যেতে পারে। অনেক মানুষ প্রবাসে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পরিশ্রম করেন। অথচ নিজের উদ্যোগে নিজের খামারে নিয়মিত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় দিলেও ভালো কিছু করা সম্ভব।”
জামাল ঢালী জানান, বর্তমানে তার প্রধান লক্ষ্য হলো ফার্মের পরিধি আরও বৃদ্ধি করা এবং এর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
বিশেষ করে তরুণদের কৃষি ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক উদ্যোগের দিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন উদ্যোক্তা। তার মতে, নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি একজন উদ্যোক্তা চাইলে অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন।সুলতানা রাজিয়া ইতি এগ্রোফার্ম তাই শুধু একটি মুরগির খামার নয়—এটি প্রবাসের আয়কে দেশে বিনিয়োগ করে উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে গড়ে উঠছে।
বার্তা একটাই—চাকরির জন্য অপেক্ষা নয়, সুযোগ তৈরি করতে হবে নিজের হাতেই। ছোট করে শুরু করুন, পরিশ্রম করুন, অভিজ্ঞতা অর্জন করুন এবং ধীরে ধীরে নিজের উদ্যোগকে বড় করে তুলুন।














