রাজধানীর উত্তরায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের ভেতরে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের সময় টহল পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দোতলা থেকে নিচে পড়ে বিমান বাহিনীর অন্তত তিনজন সদস্য নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হন। গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আহত বিমান বাহিনীর সদস্যদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে প্রাণ হারানো বিমান বাহিনীর সদস্যদের গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা শেষে মরদেহগুলো তাদের পরিবারের কাছে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাদের দাফনের কথা রয়েছে।
এদিকে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় ৩ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় বিমান বাহিনীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে। পুলিশ জানিয়েছে, গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরে থার্ড টার্মিনালে দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার মাহমুদ, কর্পোরাল মনিরুজ্জামান ও ল্যান্স কর্পোরাল জুবাইদুল নিহত হন ।
তাদের মরদেহ বিমান বাহিনীর কাছে হস্তাস্তর করা হয়। একই দুর্ঘটনায় কর্পোরাল মাহবুব ও এলএসি আহাদ গুরুতর আহত হন। সিনিয়র অফিসার আবুল খায়ের সামান্য আহত হন। আহতদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আইএসপিআর থেকে জানানো হবে। এ ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা বা অপমৃত্যু মামলা হয়নি।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষে গতকাল সন্ধায় জানানো হয়, সোমবার রাত আনুমানিক ৯টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় কুইক রেসপন্স ফোর্সের (কিউআরএফ) দায়িত্ব পালনকালে বিমান বাহিনীর ৭ জন সদস্য বহনকারী বিমান বাহিনীর একটি জিপ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পতিত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই বিমান বাহিনীর সদস্যগণ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), ঢাকায় নিয়ে যান।
সিএমএইচের কর্তব্যরত চিকিৎসক বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৩ জন সদস্যÑ ওয়ারেন্ট অফিসার সুলতান মাহমুদ, কর্পোরাল মনিরুজ্জামান পিয়াস এবং এলএসি মো. জুবাইদুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এ ছাড়া, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অপর ৪ সদস্য বর্তমানে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন।
আইএসপিআর জানিয়েছে, গত ৫ আগস্ট থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরসমূহে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যগণ অদ্যাবধি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীবৃন্দের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত ও সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিরলস দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
আইএসপিআর জানিয়েছে, গতকাল বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে ঢাকা সেনানিবাসস্থ বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর-উত্তম এ কে খন্দকার (কুর্মিটোলা)-এর সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে সামরিক মর্যাদায় মরহুমদের নামাজে জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নামাজে জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।
এ সময়, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান মরহুমদের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। এ ছাড়াও, অনুষ্ঠানে মরহুমদের পরিবারের সদস্যগণ, প্রাক্তন বিমান বাহিনী প্রধান, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ, সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং অন্যান্য পদবির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে মরহুমদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরবর্তীতে বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিদল যথাযথ সামরিক মর্যাদায় মরহুমদের দাফনকার্য সম্পন্ন করবে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হচ্ছে। বিমান বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, এ দুর্ঘটনায় বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
কমিটি দুর্ঘটনার তদন্ত করবে। কীভাবে কোন পরিস্থিতিতে এ দুর্ঘটনা ঘটল, কমিটি তদন্ত করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিলে সেখানে ঘটনার বিস্তারিত উঠে আসবে। তবে এতে সময় লাগবে।






