12:18 am, Monday, 9 November 2026

ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না সেটিও সংবিধানে আছে। আমরা এই সম্প্রীতি, এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করব এবং সেই ঘোষণা দিয়েছি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে এমনটা জানান তিনি।

‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষে এর আয়োজন করে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রকে সব ধর্মের ধর্ম চর্চা-ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র সেটি নিশ্চিত করবে। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না সেটিও সংবিধানে আছে।

আমরা এই সম্প্রীতি, এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করব এবং সেই ঘোষণা দিয়েছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই নাগরিক হিসেবে বসবাস করতে চাই। ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়, আমরা নাগরিকের পরিচয়ে এখানে থাকতে চাই। বাংলাদেশের সব নাগরিক মুসলিম-হিন্দু, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-নৃগোষ্ঠী সবার ধর্মীয়ভাবে সাংস্কৃতিকভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় থাকবে, পালন করবেন।

কিন্তু জাতীয়তা হিসেবে আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে থাকব, আমাদের মধ্যে সম্প্রীতি থাকবে। এই একটাই হবে আমাদের পরিচয়। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- সবার আগে বাংলাদেশ। যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তাহলে আমরা সবার আগে বাংলাদেশি, তারপর আমাদের ধর্মীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক পরিচয়, নৃতাত্ত্বিক পরিচয়। কিন্তু সবার আগে আমরা বাংলাদেশি এবং সবার জন্য বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে কেউ সংখ্যালঘু হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেবেন না। আমরা আশা করি- ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং সবাই নাগরিকত্বের ভিত্তিতে পরিচয় দেবেন। এ দেশের সমান অধিকারভুক্ত একজন নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেবেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দ ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাকরণগতভাবে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দটা ব্যবহার করি, কেননা এই শব্দটি সাহিত্য ধারণ করে গেছে যে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।

তবে ভালো হতো যদি সাম্প্রদায়িক শব্দটি আমরা ব্যবহার না করতাম। আমরা যদি বলতাম সামাজিক এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখব, তাহলেই সুষ্ঠু হতো। এ সময় সবাইকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দের বদলে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহ-অবস্থান এবং সামাজিক শান্তি এবং সম্প্রীতি শব্দগুলো ব্যবহারের আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

৪০ বছরে প্রথমবার লজ্জার রেকর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : 01:07:17 am, Saturday, 5 September 2026

ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না সেটিও সংবিধানে আছে। আমরা এই সম্প্রীতি, এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করব এবং সেই ঘোষণা দিয়েছি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে এমনটা জানান তিনি।

‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষে এর আয়োজন করে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রকে সব ধর্মের ধর্ম চর্চা-ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র সেটি নিশ্চিত করবে। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না সেটিও সংবিধানে আছে।

আমরা এই সম্প্রীতি, এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করব এবং সেই ঘোষণা দিয়েছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই নাগরিক হিসেবে বসবাস করতে চাই। ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়, আমরা নাগরিকের পরিচয়ে এখানে থাকতে চাই। বাংলাদেশের সব নাগরিক মুসলিম-হিন্দু, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-নৃগোষ্ঠী সবার ধর্মীয়ভাবে সাংস্কৃতিকভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় থাকবে, পালন করবেন।

কিন্তু জাতীয়তা হিসেবে আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে থাকব, আমাদের মধ্যে সম্প্রীতি থাকবে। এই একটাই হবে আমাদের পরিচয়। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- সবার আগে বাংলাদেশ। যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তাহলে আমরা সবার আগে বাংলাদেশি, তারপর আমাদের ধর্মীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক পরিচয়, নৃতাত্ত্বিক পরিচয়। কিন্তু সবার আগে আমরা বাংলাদেশি এবং সবার জন্য বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে কেউ সংখ্যালঘু হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেবেন না। আমরা আশা করি- ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং সবাই নাগরিকত্বের ভিত্তিতে পরিচয় দেবেন। এ দেশের সমান অধিকারভুক্ত একজন নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেবেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দ ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাকরণগতভাবে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দটা ব্যবহার করি, কেননা এই শব্দটি সাহিত্য ধারণ করে গেছে যে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।

তবে ভালো হতো যদি সাম্প্রদায়িক শব্দটি আমরা ব্যবহার না করতাম। আমরা যদি বলতাম সামাজিক এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখব, তাহলেই সুষ্ঠু হতো। এ সময় সবাইকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দের বদলে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহ-অবস্থান এবং সামাজিক শান্তি এবং সম্প্রীতি শব্দগুলো ব্যবহারের আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।