2:42 am, Monday, 9 November 2026

গোলখালী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈদ আকনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, প্রকল্পে কমিশন দাবি ও বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগের বিষয়ে গত ৩০ জুলাই গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৭ জন সাধারণ সদস্য ও ৩ জন সংরক্ষিত নারী সদস্যসহ মোট ১০ জন ইউপি সদস্য।

আবেদনের অনুলিপি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈদ আকন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত। ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব ও সরকারি অনুদানের অর্থ যথাযথভাবে সরকারি তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া গভীর ও অগভীর নলকূপ স্থাপন এবং জেলা পরিষদের অর্থায়নে মসজিদ ও মন্দির সংস্কারসহ বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ দাবি ও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন চাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, বিভিন্ন সরকারি সুবিধা ও ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নামে অসহায় মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত সভা না করে এককভাবে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও পরিচালনার অভিযোগও করা হয়েছে। এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, একটা অভিযোগ পেয়েছি।

আইসিটি অফিসারকে তদন্ত করতে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈদ আকন। তিনি বলেন, অভিযোগটি ইউএনও মহোদয় আইসিটি কর্মকর্তার কাছে তদন্তের জন্য দিয়েছেন। তদন্তে যদি কোনো বিষয়ে তিনি অভিযুক্ত হন, তাহলে দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আইনের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন।

আবু সাঈদ আরও বলেন, আর যদি আমি অভিযুক্ত না হই, তাহলে আমার বিরুদ্ধে যে কুচক্রী মহল মানহানি করার জন্য এসব করেছে, প্রশাসনের কাছে আমি তাদের বিচার চাইব। তবে তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি সরকারি টাকা পাইনি এবং আত্মসাৎ করার কোনো সুযোগ নেই। এক টাকাও আমি আত্মসাৎ করিনি। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষে অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

নরসিংদীতে বিড়ির নকল ব্যান্ডরোল জব্দ, আটক ২

গোলখালী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

Update Time : 01:09:22 am, Monday, 14 September 2026

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈদ আকনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, প্রকল্পে কমিশন দাবি ও বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগের বিষয়ে গত ৩০ জুলাই গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৭ জন সাধারণ সদস্য ও ৩ জন সংরক্ষিত নারী সদস্যসহ মোট ১০ জন ইউপি সদস্য।

আবেদনের অনুলিপি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈদ আকন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত। ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব ও সরকারি অনুদানের অর্থ যথাযথভাবে সরকারি তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া গভীর ও অগভীর নলকূপ স্থাপন এবং জেলা পরিষদের অর্থায়নে মসজিদ ও মন্দির সংস্কারসহ বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ দাবি ও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন চাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, বিভিন্ন সরকারি সুবিধা ও ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নামে অসহায় মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত সভা না করে এককভাবে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও পরিচালনার অভিযোগও করা হয়েছে। এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, একটা অভিযোগ পেয়েছি।

আইসিটি অফিসারকে তদন্ত করতে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈদ আকন। তিনি বলেন, অভিযোগটি ইউএনও মহোদয় আইসিটি কর্মকর্তার কাছে তদন্তের জন্য দিয়েছেন। তদন্তে যদি কোনো বিষয়ে তিনি অভিযুক্ত হন, তাহলে দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আইনের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন।

আবু সাঈদ আরও বলেন, আর যদি আমি অভিযুক্ত না হই, তাহলে আমার বিরুদ্ধে যে কুচক্রী মহল মানহানি করার জন্য এসব করেছে, প্রশাসনের কাছে আমি তাদের বিচার চাইব। তবে তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি সরকারি টাকা পাইনি এবং আত্মসাৎ করার কোনো সুযোগ নেই। এক টাকাও আমি আত্মসাৎ করিনি। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষে অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।