4:50 am, Monday, 28 September 2026

বাংলাদেশ একাদশে কি পরিবর্তন আনবেন কোচ থমাস ডুলি?

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

এবার কি জিদান ইউসুফ আর শুকি ইতোফুসাকে শুরুর একাদশে সুযোগ দেবেন থমাস ডুলি? নাকি সেই ‘মুখস্থ ট্যাকটিক্সে’ মাঠে নামাবেন আগের ম্যাচে বাংলাদেশকে ডোবানো শাকিল আহাদ তপুকে?

বারবার প্রতিপক্ষকে ভুল পাস দেওয়া সোহেল রানা কি পুরো ৯০ মিনিট খেলবেন? আবারও কি মাঝপথেই বদলি হয়ে মাঠ ছাড়তে হবে মধ্যমাঠের জেনারেল শমিত সোমকে?

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে যে বোকামি আর ভুলগুলো করেছিল বাংলাদেশ, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ডুলির শিষ্যরা কতটা কাজে লাগাতে পারবেন? শক্তিশালী সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আদৌ কোনো সুযোগ আছে বাংলাদেশের?

তরুণ তুর্কি মোরসালিন তো এখনো আশা দেখছেন— বাংলাদেশ আসিয়ান কাপের ফাইনালে যাবে, চ্যাম্পিয়ন হবে! মোরসালিনের এই স্বপ্ন কি বাস্তবতার ধাক্কায় হতাশায় পরিণত হবে? নাকি সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেই ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন এক পরিবর্তনের শুরুটা করবে বাংলাদেশ?

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ হারের পর কতটা বদলাবে বাংলাদেশের একাদশ, আর কতটাই বা বদলাবে খেলার ধরন? চলুন দেখে নেওয়া যাক, সোমবার সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কতটা।

প্রথম প্রশ্ন — সিঙ্গাপুর আসলে কেমন দল?

অনেকেই সিঙ্গাপুরকে মালয়েশিয়ার মতো ভয়ংকর দল মনে করছেন না। কিন্তু এখানেই বাংলাদেশের জন্য সতর্ক হওয়ার দরকার। যদিও সিঙ্গাপুর প্রথম ম্যাচে হেরেছে। তবে তাদের হারটা এসেছে আয়োজক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে। আর ম্যাচের একটা বড় সময় পর্যন্ত সিঙ্গাপুর ভালোভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।

৭০ মিনিটে সাফওয়ান বাহারুদ্দিন লাল কার্ড দেখার পর ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও বেশি চলে যায় ইন্দোনেশিয়ার হাতে। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে হারতে হয় সিঙ্গাপুরকে। অর্থাৎ স্কোরলাইন দেখেই সিঙ্গাপুরকে দুর্বল দল ভাবার সুযোগ নেই। বরং বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা হলো— সিঙ্গাপুর সংগঠিতভাবে খেলতে পারে এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা করতে পারে।

তবে বাংলাদেশের জন্য আশার জায়গাটাও কম নয়। কারণ দুই দলই প্রথম ম্যাচে হেরেছে। দুদলই জানে— আরেকটি হার তাদের গ্রুপের হিসাব অনেক কঠিন করে দিতে পারে। তাই শুরু থেকেই হয়তো কেউই অযথা ঝুঁকি নিতে চাইবে না। সে কারণে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে মাঝমাঠের লড়াই।

যেখানে বাংলাদেশের হয়ে আছেন হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জামাল ভূঁইয়ার মতো বড় নাম। এই জায়গায় বাংলাদেশ যদি নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তাহলে সিঙ্গাপুরকে পেছনে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে হামজা-শমিত জুটি বাংলাদেশের জন্য বড় অস্ত্র।

কিন্তু এখানে একটা বড় প্রশ্ন দাঁড়ায়। হামজা-শমিতদের দিয়ে ম্যাচটা কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে বাংলাদেশ? এই প্রশ্নের উত্তরে আসে শুকি ইতোফুসা, জিদান ইউসুফ কিংবা ফারহান আলী ওয়াহিদ প্রসঙ্গ।

শুকি-জিদান-ফারহানরা কি সুযোগ পাবেন একাদশে?

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ফারহান শুরু থেকে খেললেও জিদান ইউসুফ ও শুকি ইতোফুসা মাঠে নামেন দ্বিতীয়ার্ধে। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার পরই আলাদা করে নজর কাড়েন শুকি ইতোফুসা। জাপানে বেড়ে ওঠা এই তরুণ উইঙ্গারের গতি ও এক বনাম এক পরিস্থিতিতে খেলার সক্ষমতা বাংলাদেশের আক্রমণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে।

অন্যদিকে রক্ষণে শাকিল আহাদ তপুর ভুলে তিন গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধে কোচ মাঠে নামান জিদান ইউসুফকে। তিনি মাঠে নামার পরই রক্ষণ আগের তুলনায় দৃঢ় হয়ে ওঠে, বাংলাদেশও আর গোল হজম করেনি। এখন দেখার বিষয়, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে ডুলি তাঁদের কতটা সুযোগ দেন।

বাংলাদেশের আক্রমণে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— গোল আসবে কোথা থেকে? এই প্রশ্নটা নতুন নয়। বাংলাদেশ দলে স্বীকৃত কোনো প্রতিষ্ঠিত নাম্বার নাইন নেই— এটা নিয়ে ডুলিও আগেই কথা বলেছেন। তাই আক্রমণে কখনো রাকিব, কখনো মোরসালিন, কখনো ফারহান—ভিন্ন ধরনের খেলোয়াড়কে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এখানেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে। সরাসরি একজন স্ট্রাইকারকে সামনে রেখে খেলার বদলে— দুই উইংয়ে গতি, মাঝখান থেকে হামজা-শমিতের পাস, আর বক্সে মোরসালিন-রাকিবদের দ্রুত ঢুকে পড়া— এই কম্বিনেশনেই হয়তো বাংলাদেশের আক্রমণের বড় সম্ভাবনা।

আর যদি শুকি ইতোফুসাকে শুরুতে সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে ডান বা বাঁ প্রান্তে তার গতি সিঙ্গাপুরের রক্ষণকে পরীক্ষায় ফেলতে পারে।

সিঙ্গাপুর দলে অভিজ্ঞতার অভাব নেই। হারিস হারুনের মতো খেলোয়াড় দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আক্রমণে ইলহান ফান্দি। মাঝমাঠে সং উয়ি-ইয়ং। অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্য শুধু তরুণদের গতি নয়, সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ম্যাচ পড়ার ক্ষমতাও সামলাতে হবে।

বিশেষ করে ম্যাচ যদি দীর্ঘ সময় ০-০ থাকে, তখন চাপটা বাংলাদেশের ওপরই বাড়তে পারে। তখন একটি ভুল, একটি সেট-পিস কিংবা একটি কাউন্টার অ্যাটাকই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

তাহলে সিঙ্গাপুরকে কোথায় আঘাত করতে পারে বাংলাদেশ ?

সবচেয়ে বড় সুযোগ হতে পারে গতি দিয়ে। সিঙ্গাপুর যদি নিচে নেমে যায়, তখন বাংলাদেশকে বল ঘোরাতে হবে দ্রুত। আর সিঙ্গাপুর যদি সামনে উঠে আসে, তখন তাদের পেছনের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগাতে হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশকে একই ধরনের ফুটবল খেললে হবে না। পরিস্থিতি বুঝে খেলার গতি বদলাতে হবে।

মাঝমাঠে বল পেলে হামজা-শমিতকে দ্রুত সামনে খেলতে হবে। উইংয়ে জায়গা পেলে রাকিব, শুকি ইতোফুসা কিংবা ফারহানদের দিয়ে সেই জায়গায় আক্রমণ করতে হবে। আর বক্সে সুযোগ এলে— সেটা কাজে লাগানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে। যদিও বক্সের ভেতরে এই জায়গাটাতেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি উন্নতি দরকার।

আরেকটি বিষয় ভাবাবে বাংলাদেশকে। সেটা হলো সাম্প্রতিক রেকর্ড। সাম্প্রতিক সময়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ডও স্বস্তি দেওয়ার মতো নয়। ২০২৫ সালের জুনে ঢাকায় বাংলাদেশকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল সিঙ্গাপুর। এরপর ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হেরেছিল ১-০ গোলে। অর্থাৎ সর্বশেষ দুই দেখায়ই বাংলাদেশ হেরেছে।

তবে এবারের ম্যাচের প্রেক্ষাপট একেবারে আলাদা। এটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আসিয়ান ম্যাচ, আর দুই দলই প্রথম ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে। ফলে এই ম্যাচে দুদলের জন্যই তিন পয়েন্টের গুরুত্ব অনেক।

বাংলাদেশের জন্য ম্যাচের সমীকরণ

বাংলাদেশের সামনে এখন মূলত তিনটি কাজ। প্রথমত— রক্ষণে ভুল কমানো। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ যে তিনটি গোল হজম করেছে, তিনটিই রক্ষণের ভুলে। তাই সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সহজ বল হারানো চলবে না।

দ্বিতীয়ত— হামজা-শমিতকে খেলায় বেশি যুক্ত করতে হবে। মাঝমাঠে বাংলাদেশ যত বেশি নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে, আক্রমণেও তত বেশি সুযোগ তৈরি হবে।

তৃতীয়ত— উইং ব্যবহার করতে হবে। কারণ বক্সের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত নাম্বার নাইন না থাকায় সরাসরি আক্রমণের বদলে দুই প্রান্ত দিয়ে গতি তৈরি করে সিঙ্গাপুরের রক্ষণকে ভাঙার চেষ্টা করতে হতে পারে।

আর এই তিনটি কাজ ঠিকঠাক করতে পারলে, ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ভালোভাবেই থাকবে বাংলাদেশের।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

রাজধানীতে ফের ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ২

বাংলাদেশ একাদশে কি পরিবর্তন আনবেন কোচ থমাস ডুলি?

Update Time : 02:37:51 am, Monday, 28 September 2026

এবার কি জিদান ইউসুফ আর শুকি ইতোফুসাকে শুরুর একাদশে সুযোগ দেবেন থমাস ডুলি? নাকি সেই ‘মুখস্থ ট্যাকটিক্সে’ মাঠে নামাবেন আগের ম্যাচে বাংলাদেশকে ডোবানো শাকিল আহাদ তপুকে?

বারবার প্রতিপক্ষকে ভুল পাস দেওয়া সোহেল রানা কি পুরো ৯০ মিনিট খেলবেন? আবারও কি মাঝপথেই বদলি হয়ে মাঠ ছাড়তে হবে মধ্যমাঠের জেনারেল শমিত সোমকে?

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে যে বোকামি আর ভুলগুলো করেছিল বাংলাদেশ, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ডুলির শিষ্যরা কতটা কাজে লাগাতে পারবেন? শক্তিশালী সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আদৌ কোনো সুযোগ আছে বাংলাদেশের?

তরুণ তুর্কি মোরসালিন তো এখনো আশা দেখছেন— বাংলাদেশ আসিয়ান কাপের ফাইনালে যাবে, চ্যাম্পিয়ন হবে! মোরসালিনের এই স্বপ্ন কি বাস্তবতার ধাক্কায় হতাশায় পরিণত হবে? নাকি সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেই ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন এক পরিবর্তনের শুরুটা করবে বাংলাদেশ?

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ হারের পর কতটা বদলাবে বাংলাদেশের একাদশ, আর কতটাই বা বদলাবে খেলার ধরন? চলুন দেখে নেওয়া যাক, সোমবার সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কতটা।

প্রথম প্রশ্ন — সিঙ্গাপুর আসলে কেমন দল?

অনেকেই সিঙ্গাপুরকে মালয়েশিয়ার মতো ভয়ংকর দল মনে করছেন না। কিন্তু এখানেই বাংলাদেশের জন্য সতর্ক হওয়ার দরকার। যদিও সিঙ্গাপুর প্রথম ম্যাচে হেরেছে। তবে তাদের হারটা এসেছে আয়োজক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে। আর ম্যাচের একটা বড় সময় পর্যন্ত সিঙ্গাপুর ভালোভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।

৭০ মিনিটে সাফওয়ান বাহারুদ্দিন লাল কার্ড দেখার পর ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও বেশি চলে যায় ইন্দোনেশিয়ার হাতে। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে হারতে হয় সিঙ্গাপুরকে। অর্থাৎ স্কোরলাইন দেখেই সিঙ্গাপুরকে দুর্বল দল ভাবার সুযোগ নেই। বরং বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা হলো— সিঙ্গাপুর সংগঠিতভাবে খেলতে পারে এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা করতে পারে।

তবে বাংলাদেশের জন্য আশার জায়গাটাও কম নয়। কারণ দুই দলই প্রথম ম্যাচে হেরেছে। দুদলই জানে— আরেকটি হার তাদের গ্রুপের হিসাব অনেক কঠিন করে দিতে পারে। তাই শুরু থেকেই হয়তো কেউই অযথা ঝুঁকি নিতে চাইবে না। সে কারণে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে মাঝমাঠের লড়াই।

যেখানে বাংলাদেশের হয়ে আছেন হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জামাল ভূঁইয়ার মতো বড় নাম। এই জায়গায় বাংলাদেশ যদি নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তাহলে সিঙ্গাপুরকে পেছনে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে হামজা-শমিত জুটি বাংলাদেশের জন্য বড় অস্ত্র।

কিন্তু এখানে একটা বড় প্রশ্ন দাঁড়ায়। হামজা-শমিতদের দিয়ে ম্যাচটা কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে বাংলাদেশ? এই প্রশ্নের উত্তরে আসে শুকি ইতোফুসা, জিদান ইউসুফ কিংবা ফারহান আলী ওয়াহিদ প্রসঙ্গ।

শুকি-জিদান-ফারহানরা কি সুযোগ পাবেন একাদশে?

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ফারহান শুরু থেকে খেললেও জিদান ইউসুফ ও শুকি ইতোফুসা মাঠে নামেন দ্বিতীয়ার্ধে। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার পরই আলাদা করে নজর কাড়েন শুকি ইতোফুসা। জাপানে বেড়ে ওঠা এই তরুণ উইঙ্গারের গতি ও এক বনাম এক পরিস্থিতিতে খেলার সক্ষমতা বাংলাদেশের আক্রমণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে।

অন্যদিকে রক্ষণে শাকিল আহাদ তপুর ভুলে তিন গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধে কোচ মাঠে নামান জিদান ইউসুফকে। তিনি মাঠে নামার পরই রক্ষণ আগের তুলনায় দৃঢ় হয়ে ওঠে, বাংলাদেশও আর গোল হজম করেনি। এখন দেখার বিষয়, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে ডুলি তাঁদের কতটা সুযোগ দেন।

বাংলাদেশের আক্রমণে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— গোল আসবে কোথা থেকে? এই প্রশ্নটা নতুন নয়। বাংলাদেশ দলে স্বীকৃত কোনো প্রতিষ্ঠিত নাম্বার নাইন নেই— এটা নিয়ে ডুলিও আগেই কথা বলেছেন। তাই আক্রমণে কখনো রাকিব, কখনো মোরসালিন, কখনো ফারহান—ভিন্ন ধরনের খেলোয়াড়কে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এখানেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে। সরাসরি একজন স্ট্রাইকারকে সামনে রেখে খেলার বদলে— দুই উইংয়ে গতি, মাঝখান থেকে হামজা-শমিতের পাস, আর বক্সে মোরসালিন-রাকিবদের দ্রুত ঢুকে পড়া— এই কম্বিনেশনেই হয়তো বাংলাদেশের আক্রমণের বড় সম্ভাবনা।

আর যদি শুকি ইতোফুসাকে শুরুতে সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে ডান বা বাঁ প্রান্তে তার গতি সিঙ্গাপুরের রক্ষণকে পরীক্ষায় ফেলতে পারে।

সিঙ্গাপুর দলে অভিজ্ঞতার অভাব নেই। হারিস হারুনের মতো খেলোয়াড় দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আক্রমণে ইলহান ফান্দি। মাঝমাঠে সং উয়ি-ইয়ং। অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্য শুধু তরুণদের গতি নয়, সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ম্যাচ পড়ার ক্ষমতাও সামলাতে হবে।

বিশেষ করে ম্যাচ যদি দীর্ঘ সময় ০-০ থাকে, তখন চাপটা বাংলাদেশের ওপরই বাড়তে পারে। তখন একটি ভুল, একটি সেট-পিস কিংবা একটি কাউন্টার অ্যাটাকই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

তাহলে সিঙ্গাপুরকে কোথায় আঘাত করতে পারে বাংলাদেশ ?

সবচেয়ে বড় সুযোগ হতে পারে গতি দিয়ে। সিঙ্গাপুর যদি নিচে নেমে যায়, তখন বাংলাদেশকে বল ঘোরাতে হবে দ্রুত। আর সিঙ্গাপুর যদি সামনে উঠে আসে, তখন তাদের পেছনের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগাতে হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশকে একই ধরনের ফুটবল খেললে হবে না। পরিস্থিতি বুঝে খেলার গতি বদলাতে হবে।

মাঝমাঠে বল পেলে হামজা-শমিতকে দ্রুত সামনে খেলতে হবে। উইংয়ে জায়গা পেলে রাকিব, শুকি ইতোফুসা কিংবা ফারহানদের দিয়ে সেই জায়গায় আক্রমণ করতে হবে। আর বক্সে সুযোগ এলে— সেটা কাজে লাগানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে। যদিও বক্সের ভেতরে এই জায়গাটাতেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি উন্নতি দরকার।

আরেকটি বিষয় ভাবাবে বাংলাদেশকে। সেটা হলো সাম্প্রতিক রেকর্ড। সাম্প্রতিক সময়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ডও স্বস্তি দেওয়ার মতো নয়। ২০২৫ সালের জুনে ঢাকায় বাংলাদেশকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল সিঙ্গাপুর। এরপর ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হেরেছিল ১-০ গোলে। অর্থাৎ সর্বশেষ দুই দেখায়ই বাংলাদেশ হেরেছে।

তবে এবারের ম্যাচের প্রেক্ষাপট একেবারে আলাদা। এটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আসিয়ান ম্যাচ, আর দুই দলই প্রথম ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে। ফলে এই ম্যাচে দুদলের জন্যই তিন পয়েন্টের গুরুত্ব অনেক।

বাংলাদেশের জন্য ম্যাচের সমীকরণ

বাংলাদেশের সামনে এখন মূলত তিনটি কাজ। প্রথমত— রক্ষণে ভুল কমানো। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ যে তিনটি গোল হজম করেছে, তিনটিই রক্ষণের ভুলে। তাই সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সহজ বল হারানো চলবে না।

দ্বিতীয়ত— হামজা-শমিতকে খেলায় বেশি যুক্ত করতে হবে। মাঝমাঠে বাংলাদেশ যত বেশি নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে, আক্রমণেও তত বেশি সুযোগ তৈরি হবে।

তৃতীয়ত— উইং ব্যবহার করতে হবে। কারণ বক্সের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত নাম্বার নাইন না থাকায় সরাসরি আক্রমণের বদলে দুই প্রান্ত দিয়ে গতি তৈরি করে সিঙ্গাপুরের রক্ষণকে ভাঙার চেষ্টা করতে হতে পারে।

আর এই তিনটি কাজ ঠিকঠাক করতে পারলে, ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ভালোভাবেই থাকবে বাংলাদেশের।