6:56 am, Saturday, 7 November 2026

ব্রাজিল-উরুগুয়ে ম্যাচ আয়োজন করে আর্থিক সংকটে ভারত

ব্রাজিল-উরুগুয়ে ম্যাচ আয়োজন করে আর্থিক সংকটে ভারত

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও উরুগুয়েকে দেশে এনে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের স্বপ্ন দেখেছিল ভারত। মাঠে দুই দলের তারকাদের ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনাও ছিল। কিন্তু সেই আয়োজন শেষ হতে না হতেই বড় আর্থিক সংকটে পড়েছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)।

ব্রাজিল ও উরুগুয়ের ফুটবল ফেডারেশনকে এখনো প্রায় ২৩ কোটি ৭০ লাখ ভারতীয় রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা) পরিশোধ করতে পারেনি সংস্থাটি। নির্ধারিত সময়ে পাওনা না পেলে দুই দেশ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সালিশি আদালতের (সিএএস) দ্বারস্থ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত অক্টোবরে কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল ভারত।

৩ অক্টোবর ব্রাজিলের কাছে ৪-০ গোলে এবং ৬ অক্টোবর উরুগুয়ের কাছে ৬-১ গোলে হারে স্বাগতিকরা। এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুতে পানামার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল তারা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাংবাদিক মার্কাস মারগুলহাওয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাজিলের কাছে প্রায় ১৯ কোটি এবং উরুগুয়ের কাছে ৪ কোটি ৭০ লাখ রুপি বকেয়া রয়েছে এআইএফএফের।

দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশন তাদের নির্ধারিত উপস্থিতি ফির অর্ধেক অর্থ পেয়েছে। তবে পানামার পাওনা পুরোপুরি পরিশোধ করেছে ভারত। চুক্তির গোপনীয়তার কারণে পাওনার অঙ্ক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমে আসা হিসাব সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে। বকেয়া অর্থ পরিশোধে সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে এআইএফএফ। কিন্তু অর্থের সংস্থান করতে গিয়ে ফেডারেশনের অভ্যন্তরেই তৈরি হয়েছে মতবিরোধ।

সংস্থার সংরক্ষিত তহবিল বা স্থায়ী আমানত ভেঙে পাওনা মেটানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। তবে অন্য কর্মকর্তাদের আপত্তিতে আপাতত সেই পরিকল্পনা আটকে গেছে। গত ১ নভেম্বর ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এআইএফএফের বিশেষ সাধারণ সভায় প্রায় ২০ কোটি রুপির স্থায়ী আমানত ভেঙে ব্রাজিল ও উরুগুয়ের পাওনা পরিশোধের প্রস্তাব দেন চৌবে। পরে বাইরের উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই টাকা আবার তহবিলে ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তার।

কিন্তু ফেডারেশনের অন্য কর্মকর্তারা এতে আপত্তি জানান। তাদের যুক্তি, জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া সংরক্ষিত তহবিল ব্যবহার করা উচিত নয়। এ ছাড়া স্থায়ী আমানতের অর্থ ব্যয় না করার বিষয়ে নির্বাহী কমিটির আগের সিদ্ধান্তও রয়েছে। ফেডারেশনের সহসভাপতি এন এ হারিস সভায় সেই সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সাবেক সভাপতি প্রফুল প্যাটেলও আমানত ভাঙার বিরোধিতা করেন।

বিভিন্ন রাজ্য ফুটবল সংস্থার প্রতিনিধিরাও তাদের সঙ্গে একমত হন। ফলে ২০ কোটি রুপির আমানত ব্যবহারের প্রস্তাব কার্যকর হয়নি। অথচ ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মোট পাওনা প্রায় ২৩ কোটি ৭০ লাখ রুপি; অর্থাৎ পুরো আমানত ভাঙলেও বকেয়া সম্পূর্ণ পরিশোধ করা সম্ভব হতো না। শেষ পর্যন্ত হারিসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটি বকেয়া অর্থের পরিমাণ, পরিশোধের সময়সীমা এবং সম্ভাব্য সমাধানের পথ খতিয়ে দেখবে।

এরপর বিষয়টি আবার নির্বাহী কমিটির সভায় তোলা হবে। এদিকে পাওনা পরিশোধে দেরি হলে আইনি জটিলতায় পড়তে পারে ভারতীয় ফুটবল। দেশটির সাবেক ফুটবল কর্মকর্তা সুব্রত দত্তের আশঙ্কা, নির্ধারিত সময়ে অর্থ না পেলে ব্রাজিল ও উরুগুয়ে সিএএসের দ্বারস্থ হতে পারে। ন্যাশনাল হেরাল্ডকে তিনি বলেন, প্রীতি ম্যাচের পাওনা মেটাতে শেষ পর্যন্ত স্থায়ী আমানত ভাঙতে হলে এআইএফএফের কার্যক্রমে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ে পাওনা না পেলে ব্রাজিল ও উরুগুয়ে ক্রীড়া সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ব্রাজিল কিংবা উরুগুয়ের ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করার ঘোষণা দেয়নি। ফলে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি এখনো সম্ভাবনার পর্যায়েই রয়েছে। আর্থিক সংকটের বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে টিকিট বিক্রি থেকে প্রত্যাশিত আয় না হওয়াকে।

এআইএফএফ প্রাথমিকভাবে তিনটি ম্যাচের টিকিট বিক্রি থেকে ৩০ থেকে ৪০ কোটি রুপি আয়ের আশা করেছিল। কিন্তু টিকিটের উচ্চমূল্যের কারণে দর্শকদের আগ্রহ প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। পরে কলকাতার তিন জনপ্রিয় ক্লাব মোহনবাগান, ইস্ট বেঙ্গল ও মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের সমর্থকদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়। ব্রাজিল ম্যাচের টিকিটে একটি কিনলে আরেকটি বিনা মূল্যে দেওয়ার প্রস্তাবও চালু করা হয়েছিল।

তাতেও কাক্সিক্ষত আয় হয়নি। এর বাইরে টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া ২৫ কোটি রুপির অগ্রিমের একটি অংশও ফেরত দিতে হতে পারে ফেডারেশনকে। চুক্তি অনুযায়ী, এই অর্থ ছিল সমন্বয়যোগ্য অগ্রিম। প্রত্যাশিত টিকিট বিক্রি না হওয়ায় সেই হিসাবেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের মোট ব্যয় ৮০ থেকে ৮৫ কোটি রুপি পর্যন্ত হতে পারে।

তবে এই পুরো অর্থ ফেডারেশনের লোকসান বলা যাবে না। টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য খাত থেকে আয়ও হয়েছে। প্রকৃত ঘাটতির পরিমাণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বড় অঙ্কের এই দেনা ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতীয় ফুটবলের ঘরোয়া ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়েও। সন্তোষ ট্রফির মতো ঘরোয়া প্রতিযোগিতা আয়োজন, বয়সভিত্তিক ফুটবল এবং তৃণমূল পর্যায়ে খেলাটির উন্নয়নে অর্থায়ন কীভাবে অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফেডারেশনের সদস্যরা।

তাদের আশঙ্কা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ের পাওনা মেটাতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এসব কার্যক্রমের অর্থসংস্থান ব্যাহত হতে পারে। অথচ দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে দেশে আনার সময় ফেডারেশনের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়বে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি কয়েকজন কর্মকর্তার। এখন বকেয়া পরিশোধে অর্থের সংস্থান করতে না পারায় পুরো আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে। পিটিআইকে তিনি বলেছেন, বিষয়টি ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ সভার।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

ব্রাজিল-উরুগুয়ে ম্যাচ আয়োজন করে আর্থিক সংকটে ভারত

Update Time : 06:31:17 am, Saturday, 7 November 2026

বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও উরুগুয়েকে দেশে এনে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের স্বপ্ন দেখেছিল ভারত। মাঠে দুই দলের তারকাদের ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনাও ছিল। কিন্তু সেই আয়োজন শেষ হতে না হতেই বড় আর্থিক সংকটে পড়েছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)।

ব্রাজিল ও উরুগুয়ের ফুটবল ফেডারেশনকে এখনো প্রায় ২৩ কোটি ৭০ লাখ ভারতীয় রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা) পরিশোধ করতে পারেনি সংস্থাটি। নির্ধারিত সময়ে পাওনা না পেলে দুই দেশ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সালিশি আদালতের (সিএএস) দ্বারস্থ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত অক্টোবরে কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল ভারত।

৩ অক্টোবর ব্রাজিলের কাছে ৪-০ গোলে এবং ৬ অক্টোবর উরুগুয়ের কাছে ৬-১ গোলে হারে স্বাগতিকরা। এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুতে পানামার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল তারা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাংবাদিক মার্কাস মারগুলহাওয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাজিলের কাছে প্রায় ১৯ কোটি এবং উরুগুয়ের কাছে ৪ কোটি ৭০ লাখ রুপি বকেয়া রয়েছে এআইএফএফের।

দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশন তাদের নির্ধারিত উপস্থিতি ফির অর্ধেক অর্থ পেয়েছে। তবে পানামার পাওনা পুরোপুরি পরিশোধ করেছে ভারত। চুক্তির গোপনীয়তার কারণে পাওনার অঙ্ক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমে আসা হিসাব সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে। বকেয়া অর্থ পরিশোধে সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে এআইএফএফ। কিন্তু অর্থের সংস্থান করতে গিয়ে ফেডারেশনের অভ্যন্তরেই তৈরি হয়েছে মতবিরোধ।

সংস্থার সংরক্ষিত তহবিল বা স্থায়ী আমানত ভেঙে পাওনা মেটানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। তবে অন্য কর্মকর্তাদের আপত্তিতে আপাতত সেই পরিকল্পনা আটকে গেছে। গত ১ নভেম্বর ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এআইএফএফের বিশেষ সাধারণ সভায় প্রায় ২০ কোটি রুপির স্থায়ী আমানত ভেঙে ব্রাজিল ও উরুগুয়ের পাওনা পরিশোধের প্রস্তাব দেন চৌবে। পরে বাইরের উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই টাকা আবার তহবিলে ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তার।

কিন্তু ফেডারেশনের অন্য কর্মকর্তারা এতে আপত্তি জানান। তাদের যুক্তি, জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া সংরক্ষিত তহবিল ব্যবহার করা উচিত নয়। এ ছাড়া স্থায়ী আমানতের অর্থ ব্যয় না করার বিষয়ে নির্বাহী কমিটির আগের সিদ্ধান্তও রয়েছে। ফেডারেশনের সহসভাপতি এন এ হারিস সভায় সেই সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সাবেক সভাপতি প্রফুল প্যাটেলও আমানত ভাঙার বিরোধিতা করেন।

বিভিন্ন রাজ্য ফুটবল সংস্থার প্রতিনিধিরাও তাদের সঙ্গে একমত হন। ফলে ২০ কোটি রুপির আমানত ব্যবহারের প্রস্তাব কার্যকর হয়নি। অথচ ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মোট পাওনা প্রায় ২৩ কোটি ৭০ লাখ রুপি; অর্থাৎ পুরো আমানত ভাঙলেও বকেয়া সম্পূর্ণ পরিশোধ করা সম্ভব হতো না। শেষ পর্যন্ত হারিসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটি বকেয়া অর্থের পরিমাণ, পরিশোধের সময়সীমা এবং সম্ভাব্য সমাধানের পথ খতিয়ে দেখবে।

এরপর বিষয়টি আবার নির্বাহী কমিটির সভায় তোলা হবে। এদিকে পাওনা পরিশোধে দেরি হলে আইনি জটিলতায় পড়তে পারে ভারতীয় ফুটবল। দেশটির সাবেক ফুটবল কর্মকর্তা সুব্রত দত্তের আশঙ্কা, নির্ধারিত সময়ে অর্থ না পেলে ব্রাজিল ও উরুগুয়ে সিএএসের দ্বারস্থ হতে পারে। ন্যাশনাল হেরাল্ডকে তিনি বলেন, প্রীতি ম্যাচের পাওনা মেটাতে শেষ পর্যন্ত স্থায়ী আমানত ভাঙতে হলে এআইএফএফের কার্যক্রমে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ে পাওনা না পেলে ব্রাজিল ও উরুগুয়ে ক্রীড়া সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ব্রাজিল কিংবা উরুগুয়ের ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করার ঘোষণা দেয়নি। ফলে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি এখনো সম্ভাবনার পর্যায়েই রয়েছে। আর্থিক সংকটের বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে টিকিট বিক্রি থেকে প্রত্যাশিত আয় না হওয়াকে।

এআইএফএফ প্রাথমিকভাবে তিনটি ম্যাচের টিকিট বিক্রি থেকে ৩০ থেকে ৪০ কোটি রুপি আয়ের আশা করেছিল। কিন্তু টিকিটের উচ্চমূল্যের কারণে দর্শকদের আগ্রহ প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। পরে কলকাতার তিন জনপ্রিয় ক্লাব মোহনবাগান, ইস্ট বেঙ্গল ও মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের সমর্থকদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়। ব্রাজিল ম্যাচের টিকিটে একটি কিনলে আরেকটি বিনা মূল্যে দেওয়ার প্রস্তাবও চালু করা হয়েছিল।

তাতেও কাক্সিক্ষত আয় হয়নি। এর বাইরে টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া ২৫ কোটি রুপির অগ্রিমের একটি অংশও ফেরত দিতে হতে পারে ফেডারেশনকে। চুক্তি অনুযায়ী, এই অর্থ ছিল সমন্বয়যোগ্য অগ্রিম। প্রত্যাশিত টিকিট বিক্রি না হওয়ায় সেই হিসাবেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের মোট ব্যয় ৮০ থেকে ৮৫ কোটি রুপি পর্যন্ত হতে পারে।

তবে এই পুরো অর্থ ফেডারেশনের লোকসান বলা যাবে না। টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য খাত থেকে আয়ও হয়েছে। প্রকৃত ঘাটতির পরিমাণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বড় অঙ্কের এই দেনা ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতীয় ফুটবলের ঘরোয়া ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়েও। সন্তোষ ট্রফির মতো ঘরোয়া প্রতিযোগিতা আয়োজন, বয়সভিত্তিক ফুটবল এবং তৃণমূল পর্যায়ে খেলাটির উন্নয়নে অর্থায়ন কীভাবে অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফেডারেশনের সদস্যরা।

তাদের আশঙ্কা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ের পাওনা মেটাতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এসব কার্যক্রমের অর্থসংস্থান ব্যাহত হতে পারে। অথচ দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে দেশে আনার সময় ফেডারেশনের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়বে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি কয়েকজন কর্মকর্তার। এখন বকেয়া পরিশোধে অর্থের সংস্থান করতে না পারায় পুরো আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে। পিটিআইকে তিনি বলেছেন, বিষয়টি ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ সভার।