11:45 pm, Friday, 21 August 2026

ছয় মাসের মাথায় আকার বাড়ল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় আকার বাড়ল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যার পর মন্ত্রিসভায় প্রথমবারের মতো রদবদল হলো। এতে নতুন করে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ছয়জন।

এদের মধ্যে একজন প্রতিমন্ত্রীকে পদোন্নতি দিয়ে মন্ত্রী করা হয়েছে। গতকাল সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মন্ত্রিসভার নতুন ৬ সদস্য। এদিন সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নতুন করে মন্ত্রী পদে শপথ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এমপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি, বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী ও রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। কে কোন মন্ত্রণালয়ে : মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের মধ্যে ড. আবদুল মঈন খানকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী, সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী, রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী, মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এবং হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

নতুন দায়িত্বে দুই মন্ত্রী : এ ছাড়া গত ছয় মাস সরকারের তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জহিরউদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। একনজরে ৬ নেতার রাজনৈতিক পথচলা : ড. আবদুল মঈন খান : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি অর্থনীতি ও প্রশাসনিক বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। চলতি বছরের জুনেও তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিএনপির অন্যতম তাত্ত্বিক ও মার্জিত রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত ড. আব্দুল মঈন খান। তার বাবা সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুল মোমেন খান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের সাবেক এই অধ্যাপক সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত। ড. আবদুল মঈন খান ইতিপূর্বে বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয়তা এবং কূটনৈতিক মহলে যোগাযোগ তাকে বিএনপির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ : বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান একজন সুপরিচিত রাজনীতিবিদ। তার রাজনৈতিক জীবন মূলত পারিবারিক ঐতিহ্য, দলীয় নেতৃত্ব এবং সংসদীয় কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য অনুযায়ী বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী ছিলেন।

তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার দাদা ঘিউর রহমানও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত মুখ ছিলেন। এই পারিবারিক পথ ধরেই পার্থ রাজনীতিতে আসেন। সাচিং প্রু জেরী : বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী বোমাং রাজপরিবারের সন্তান সাচিং প্রু জেরী। তার বাবা অং শৈ প্রু চৌধুরীও বোমাং রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তৎকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

পারিবারিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবেও পরিচিতি রয়েছে জেরীর। জেরী বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির বান্দরবান জেলা শাখার আহ্বায়ক। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বান্দরবান আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি বান্দরবান আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৯ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বান্দরবান আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বান্দরবান-৩০০ আসন থেকে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাচিং প্রু জেরী। নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

নির্বাচনের আগে তিনি বান্দরবানের প্রধান সমস্যা হিসেবে পানি সংকটের স্থায়ী সমাধানের কথা তুলে ধরেছিলেন। শামীম কায়সার লিংকন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন রাজনীতিবিদ ও গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। পেশায় ব্যবসায়ী লিংকন এমবিএ অধ্যয়নরত অবস্থায় তাঁর বাবার মৃত্যুর পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০৬ সালে উপনির্বাচনে গাইবান্ধা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন।

পরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৪ আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। হুমায়ুন কবির : বর্তমানে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হুমায়ুন কবির।

একই সঙ্গে তিনি বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক যুগ্ম মহাসচিবও। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্রিটিশ রাজনীতিতেও অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। লন্ডনের মেয়রের দপ্তরে কৌশল সহকারী এবং পরে লিউইশাম এক্সিকিউটিভ মেয়রের কার্যালয়ে কেবিনেট উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি বাংলাদেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন।

এর আগে লন্ডনে অবস্থানকালে বিএনপির আন্তর্জাতিক কর্মকৌশল প্রণয়ন ও কূটনৈতিক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২২ অক্টোবর ২০২৫ সালে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক-বিষয়ক) পদে দায়িত্ব পান তিনি। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিবিদ। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ। এর আগে জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়ে জামালপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

প্রথম মেয়াদে সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি শিক্ষা ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ নেন। প্রসঙ্গত, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে দেশের নবনির্বাচিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথগ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

বান্দরবানে আনন্দের জোয়ার, পূর্ণ মন্ত্রী হলেন রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরি

ছয় মাসের মাথায় আকার বাড়ল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার

Update Time : 10:40:37 pm, Friday, 21 August 2026

সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় আকার বাড়ল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যার পর মন্ত্রিসভায় প্রথমবারের মতো রদবদল হলো। এতে নতুন করে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ছয়জন।

এদের মধ্যে একজন প্রতিমন্ত্রীকে পদোন্নতি দিয়ে মন্ত্রী করা হয়েছে। গতকাল সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মন্ত্রিসভার নতুন ৬ সদস্য। এদিন সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নতুন করে মন্ত্রী পদে শপথ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এমপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি, বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী ও রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। কে কোন মন্ত্রণালয়ে : মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের মধ্যে ড. আবদুল মঈন খানকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী, সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী, রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী, মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এবং হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

নতুন দায়িত্বে দুই মন্ত্রী : এ ছাড়া গত ছয় মাস সরকারের তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জহিরউদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। একনজরে ৬ নেতার রাজনৈতিক পথচলা : ড. আবদুল মঈন খান : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি অর্থনীতি ও প্রশাসনিক বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। চলতি বছরের জুনেও তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিএনপির অন্যতম তাত্ত্বিক ও মার্জিত রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত ড. আব্দুল মঈন খান। তার বাবা সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুল মোমেন খান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের সাবেক এই অধ্যাপক সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত। ড. আবদুল মঈন খান ইতিপূর্বে বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয়তা এবং কূটনৈতিক মহলে যোগাযোগ তাকে বিএনপির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ : বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান একজন সুপরিচিত রাজনীতিবিদ। তার রাজনৈতিক জীবন মূলত পারিবারিক ঐতিহ্য, দলীয় নেতৃত্ব এবং সংসদীয় কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য অনুযায়ী বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী ছিলেন।

তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার দাদা ঘিউর রহমানও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত মুখ ছিলেন। এই পারিবারিক পথ ধরেই পার্থ রাজনীতিতে আসেন। সাচিং প্রু জেরী : বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী বোমাং রাজপরিবারের সন্তান সাচিং প্রু জেরী। তার বাবা অং শৈ প্রু চৌধুরীও বোমাং রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তৎকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

পারিবারিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবেও পরিচিতি রয়েছে জেরীর। জেরী বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির বান্দরবান জেলা শাখার আহ্বায়ক। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বান্দরবান আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি বান্দরবান আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৯ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বান্দরবান আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বান্দরবান-৩০০ আসন থেকে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাচিং প্রু জেরী। নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

নির্বাচনের আগে তিনি বান্দরবানের প্রধান সমস্যা হিসেবে পানি সংকটের স্থায়ী সমাধানের কথা তুলে ধরেছিলেন। শামীম কায়সার লিংকন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন রাজনীতিবিদ ও গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। পেশায় ব্যবসায়ী লিংকন এমবিএ অধ্যয়নরত অবস্থায় তাঁর বাবার মৃত্যুর পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০৬ সালে উপনির্বাচনে গাইবান্ধা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন।

পরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৪ আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। হুমায়ুন কবির : বর্তমানে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হুমায়ুন কবির।

একই সঙ্গে তিনি বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক যুগ্ম মহাসচিবও। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্রিটিশ রাজনীতিতেও অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। লন্ডনের মেয়রের দপ্তরে কৌশল সহকারী এবং পরে লিউইশাম এক্সিকিউটিভ মেয়রের কার্যালয়ে কেবিনেট উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি বাংলাদেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন।

এর আগে লন্ডনে অবস্থানকালে বিএনপির আন্তর্জাতিক কর্মকৌশল প্রণয়ন ও কূটনৈতিক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২২ অক্টোবর ২০২৫ সালে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক-বিষয়ক) পদে দায়িত্ব পান তিনি। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিবিদ। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ। এর আগে জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়ে জামালপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

প্রথম মেয়াদে সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি শিক্ষা ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ নেন। প্রসঙ্গত, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে দেশের নবনির্বাচিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথগ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান।