1:08 pm, Saturday, 29 August 2026

রাজশাহীতে আলুর হিমাগার ভাড়া কমানোর দাবিতে মানববন্ধন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

আলুর ন্যায্য দাম না পাওয়া এবং হিমাগারে সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লোকসানে পড়েছেন রাজশাহীর কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তারা।

বৃহস্পতিবার পবা উপজেলার তকিপুরে জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কার্যালয়ের সামনে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে এ মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বস্তার নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দিয়ে প্রতি কেজি আলুর সর্বোচ্চ সংরক্ষণ ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। এ সুপারিশের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা কৃষক ও ব্যবসায়ীরা মেনে নেবেন না।

প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের পাশাপাশি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তারা। জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তারা হিমাগারে আলু সংরক্ষণের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন আলু উৎপাদনকারী জেলায় যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে সুপারিশ কমিটি গঠন করা হয়।

জেলা কমিটিও একটি সুপারিশ প্রতিবেদন দিয়েছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, জেলা সুপারিশ কমিটির প্রতিবেদনে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ৫ কেজি আলু বাদ দিয়ে প্রতি কেজিতে ৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য আলু উৎপাদনকারী জেলার সুপারিশ বিবেচনায় গড় ভাড়া ৫ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত হতে পারে। জাতীয় স্বার্থে তারা এই হার পর্যন্ত মেনে নিতে প্রস্তুত।

তবে এর বেশি ভাড়া নির্ধারণ করা হলে তা তারা মানবেন না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজশাহী ও রংপুর দেশের গুরুত্বপূর্ণ আলু উৎপাদন অঞ্চল হলেও হিমাগারের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে গঠিত জাতীয় কমিটিতে এ দুই অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। ফলে জাতীয় পর্যায়ে ভাড়া নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় তাদের মতামত যথাযথভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়নি। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চলতি মৌসুমে সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

একই সঙ্গে বাজারে আলুর দাম কম থাকায় কৃষকরা এমনিতেই চাপে রয়েছেন। এর মধ্যে হিমাগারের ভাড়া বেশি হলে তাদের লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়বে। সমিতির সহসভাপতি ও আলুচাষি মিজানুর রহমান মিলন বলেন, হিমাগারের অস্বাভাবিক ভাড়ার কারণে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়ছেন। যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। সমিতির সদস্য আলুচাষি মিঠু হাজী বলেন, হিমাগারের ভাড়া বাড়ার প্রভাব শুধু কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ওপর নয়, শেষ পর্যন্ত আলুর বাজারদর ও ভোক্তার ওপরও পড়ে।

তাই কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা তিন পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা প্রয়োজন। মানববন্ধনে সংগঠনের অন্যান্য নেতা, সদস্য ও আলুচাষিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দ্রুত জেলা সুপারিশ বাস্তবায়ন করে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া চূড়ান্ত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

রাজশাহীতে আলুর হিমাগার ভাড়া কমানোর দাবিতে মানববন্ধন

Update Time : 08:51:32 am, Friday, 28 August 2026

আলুর ন্যায্য দাম না পাওয়া এবং হিমাগারে সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লোকসানে পড়েছেন রাজশাহীর কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তারা।

বৃহস্পতিবার পবা উপজেলার তকিপুরে জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কার্যালয়ের সামনে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে এ মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বস্তার নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দিয়ে প্রতি কেজি আলুর সর্বোচ্চ সংরক্ষণ ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। এ সুপারিশের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা কৃষক ও ব্যবসায়ীরা মেনে নেবেন না।

প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের পাশাপাশি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তারা। জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তারা হিমাগারে আলু সংরক্ষণের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন আলু উৎপাদনকারী জেলায় যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে সুপারিশ কমিটি গঠন করা হয়।

জেলা কমিটিও একটি সুপারিশ প্রতিবেদন দিয়েছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, জেলা সুপারিশ কমিটির প্রতিবেদনে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ৫ কেজি আলু বাদ দিয়ে প্রতি কেজিতে ৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য আলু উৎপাদনকারী জেলার সুপারিশ বিবেচনায় গড় ভাড়া ৫ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত হতে পারে। জাতীয় স্বার্থে তারা এই হার পর্যন্ত মেনে নিতে প্রস্তুত।

তবে এর বেশি ভাড়া নির্ধারণ করা হলে তা তারা মানবেন না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজশাহী ও রংপুর দেশের গুরুত্বপূর্ণ আলু উৎপাদন অঞ্চল হলেও হিমাগারের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে গঠিত জাতীয় কমিটিতে এ দুই অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। ফলে জাতীয় পর্যায়ে ভাড়া নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় তাদের মতামত যথাযথভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়নি। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চলতি মৌসুমে সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

একই সঙ্গে বাজারে আলুর দাম কম থাকায় কৃষকরা এমনিতেই চাপে রয়েছেন। এর মধ্যে হিমাগারের ভাড়া বেশি হলে তাদের লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়বে। সমিতির সহসভাপতি ও আলুচাষি মিজানুর রহমান মিলন বলেন, হিমাগারের অস্বাভাবিক ভাড়ার কারণে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়ছেন। যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। সমিতির সদস্য আলুচাষি মিঠু হাজী বলেন, হিমাগারের ভাড়া বাড়ার প্রভাব শুধু কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ওপর নয়, শেষ পর্যন্ত আলুর বাজারদর ও ভোক্তার ওপরও পড়ে।

তাই কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা তিন পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা প্রয়োজন। মানববন্ধনে সংগঠনের অন্যান্য নেতা, সদস্য ও আলুচাষিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দ্রুত জেলা সুপারিশ বাস্তবায়ন করে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া চূড়ান্ত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন।