9:58 pm, Sunday, 8 November 2026

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় চরম বিপাকে বন্দর আব্বাসের জেলেরা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েনে যেমন চাপে আছে বৈশ্বিক অর্থনীতি, তেমনি এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে খোদ ইরানের অর্থনীতিতেও। বিপাকে আছে দেশটির উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাসের মাছ ব্যবসায়ীরা। কমেছে সমুদ্রে যাওয়া জেলের সংখ্যা, ফলে মাছের সরবরাহও অনেক কম। আর জ্বালানি সংকটে দাম বাড়ছে জাল, নৌকাসহ মাছ ধরার সরঞ্জামের।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ইরানের উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাস। মাছের বাজারে প্রতিদিনের হিসাবটা এখন বদলে গেছে। মাছ ব্যবসায়ীদের হাতে আসা মাছের পরিমাণই বলে দিচ্ছে বাজারে মাছের যোগানের ঘাটতি।

হরমুজ প্রণালির চলমান উত্তেজনায় নিরাপত্তাজনিত কারণে জেলেদের নৌকা নিয়ে বের হওয়া একেবারেই কমে গেছে। আর যারাই বের হচ্ছেন, তাদের জন্যও বড় সমস্যা জ্বালানির সংকট।

ইরানের মাছ ব্যবসায়ী আলী দারিয়ানাভার্ড বলেন, ‘যুদ্ধ আমাদের মাছ ধরার সুযোগ সীমিত করে দিয়েছে। জেলেরা এখন খুব কমই সমুদ্রে যাচ্ছেন। তার ওপর নৌকাগুলোতে আগের মতো জ্বালানি পৌঁছাচ্ছে না। ফলে মাছ ধরা কমেছে, আর মাছের দামও বেড়ে যাচ্ছে।’

এদিকে, ক্রমাগত বাড়ছে মাছ ধরার খরচ। জাল থেকে শুরু করে নৌকার বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপটা বাড়ছেই।

দেশটির আরেক মাছ ব্যবসায়ী আহমাদ আবেদি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় আমরা গর্বিত। তবে এর প্রভাবে আমাদের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার ওপর জাল ও নৌকার সরঞ্জামের মতো জিনিসপত্রের দামও অনেক বেড়ে গেছে।’

মাছ বাজারের এ সংকটের পেছনে রয়েছে, বন্দর আব্বাসের ভৌগোলিক অবস্থান। শহরটি হরমুজ প্রণালির তীরেই। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সমুদ্রপথটি ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণে। তা সত্ত্বেও, জ্বালানি সরবরাহ ও নৌ চলাচল ব্যহত হওয়ায় তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ।

এর প্রভাব শুধু স্থানীয় বাজারেই থেমে নেই। হরমুজ দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যহত হওয়ায় স্থবির বিশ্ববাজার। তবে সম্প্রতি ইরান ও কাতারের মধ্যেকার আলোচনা থেকে প্রণালিটি খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হলেও, নতুন কোরে বন্দর আব্বাসসহ আশেপাশের কয়েকটি এলাকায় মার্কিন হামলার জেরে তা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

৪০ বছরে প্রথমবার লজ্জার রেকর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় চরম বিপাকে বন্দর আব্বাসের জেলেরা

Update Time : 05:15:50 pm, Thursday, 3 September 2026

হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েনে যেমন চাপে আছে বৈশ্বিক অর্থনীতি, তেমনি এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে খোদ ইরানের অর্থনীতিতেও। বিপাকে আছে দেশটির উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাসের মাছ ব্যবসায়ীরা। কমেছে সমুদ্রে যাওয়া জেলের সংখ্যা, ফলে মাছের সরবরাহও অনেক কম। আর জ্বালানি সংকটে দাম বাড়ছে জাল, নৌকাসহ মাছ ধরার সরঞ্জামের।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ইরানের উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাস। মাছের বাজারে প্রতিদিনের হিসাবটা এখন বদলে গেছে। মাছ ব্যবসায়ীদের হাতে আসা মাছের পরিমাণই বলে দিচ্ছে বাজারে মাছের যোগানের ঘাটতি।

হরমুজ প্রণালির চলমান উত্তেজনায় নিরাপত্তাজনিত কারণে জেলেদের নৌকা নিয়ে বের হওয়া একেবারেই কমে গেছে। আর যারাই বের হচ্ছেন, তাদের জন্যও বড় সমস্যা জ্বালানির সংকট।

ইরানের মাছ ব্যবসায়ী আলী দারিয়ানাভার্ড বলেন, ‘যুদ্ধ আমাদের মাছ ধরার সুযোগ সীমিত করে দিয়েছে। জেলেরা এখন খুব কমই সমুদ্রে যাচ্ছেন। তার ওপর নৌকাগুলোতে আগের মতো জ্বালানি পৌঁছাচ্ছে না। ফলে মাছ ধরা কমেছে, আর মাছের দামও বেড়ে যাচ্ছে।’

এদিকে, ক্রমাগত বাড়ছে মাছ ধরার খরচ। জাল থেকে শুরু করে নৌকার বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপটা বাড়ছেই।

দেশটির আরেক মাছ ব্যবসায়ী আহমাদ আবেদি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় আমরা গর্বিত। তবে এর প্রভাবে আমাদের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার ওপর জাল ও নৌকার সরঞ্জামের মতো জিনিসপত্রের দামও অনেক বেড়ে গেছে।’

মাছ বাজারের এ সংকটের পেছনে রয়েছে, বন্দর আব্বাসের ভৌগোলিক অবস্থান। শহরটি হরমুজ প্রণালির তীরেই। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সমুদ্রপথটি ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণে। তা সত্ত্বেও, জ্বালানি সরবরাহ ও নৌ চলাচল ব্যহত হওয়ায় তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ।

এর প্রভাব শুধু স্থানীয় বাজারেই থেমে নেই। হরমুজ দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যহত হওয়ায় স্থবির বিশ্ববাজার। তবে সম্প্রতি ইরান ও কাতারের মধ্যেকার আলোচনা থেকে প্রণালিটি খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হলেও, নতুন কোরে বন্দর আব্বাসসহ আশেপাশের কয়েকটি এলাকায় মার্কিন হামলার জেরে তা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে।