10:20 pm, Sunday, 8 November 2026

চবি শাখা ছাত্রশিবিরের ৫ দফা দাবি এবং সংবাদ সম্মেলন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

শতভাগ আবাসন, চাকসু ও সিনেট নির্বাচন, আবাসন ভাতাসহ ৫ দফা দাবি এবং ছাত্রদল কর্তৃক অবৈধ সিট দখলের অপচেষ্টার প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রশিবির। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে শাখা ছাত্রশিবির।

বিশ্ববিদ্যালয় সেক্রেটারি হাবিব উল্যাহ খালেদের সঞ্চালনায় এতে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি। লিখিত বক্তব্যে ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময়ে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অথচ প্রতিষ্ঠার প্রায় ছয় দশক পরও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এটি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; এটি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার একটি দীর্ঘস্থায়ী বৈষম্য এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার বাস্তব চিত্র। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও গত ৬০ বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ শতাংশেরও কম শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা আছে। প্রায় ৮০ শতাংশের অধিক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী অস্বাস্থকর কটেজ, মেস ও শহরে উচ্চ ভাড়া বহন করে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে।

অথচ, জুলাই পরবর্তী সকল প্রশাসনকে শিক্ষার্থীরা বারবার শতভাগ আবাসনের দাবি দিয়ে আসছিল। কিন্তু প্রশাসন এখন পর্যন্ত শতভাগ আবাসনের নির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপ দিতে পারেনি। আমরা আজকের সংবাদ সম্মেলন থেকে অফিসিয়ালি পুনরায় শতভাগ আবাসনের দাবি উত্থাপন করছি। আশা করব আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শতভাগ আবাসনের একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরবে।

পাশাপাশি শতভাগ আবাসন ব্যবস্থাপনার পূর্ব পর্যন্ত অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের আবাসনের দুর্ভোগ কমাতে আবাসন ভাতা চালুর জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বজন প্রীতি মুক্ত করণের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে হলের সিট বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। সম্প্রতি ছাত্রদল কর্তৃক অবৈধভাবে সিট দখলের অপচেষ্টা এবং বিভিন্ন হলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের সুপারিশের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হলে অবৈধভাবে অবস্থানের তথ্য উঠে আসছে।

তিনি আরও বলেন, পরিবহন সংকটও আবাসন সংকটের অংশ। আবাসন সংকটের কারণে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হয়। ফলে তাদের জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। এসময়, লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন চবি শাখা ছাত্রশিবির। ১. শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

২. শতভাগ আবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আবাসন ভাতা চালু করতে হবে। ৩. পরিবহন ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করতে হবে। ৪. অটোমেশন প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে মেধার ভিত্তিতে হলের সিট বণ্টন করতে হবে। ৫. অবিলম্বে চাকসু ও সিনেট নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করতে হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

৪০ বছরে প্রথমবার লজ্জার রেকর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

চবি শাখা ছাত্রশিবিরের ৫ দফা দাবি এবং সংবাদ সম্মেলন

Update Time : 08:36:12 pm, Thursday, 3 September 2026

শতভাগ আবাসন, চাকসু ও সিনেট নির্বাচন, আবাসন ভাতাসহ ৫ দফা দাবি এবং ছাত্রদল কর্তৃক অবৈধ সিট দখলের অপচেষ্টার প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রশিবির। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে শাখা ছাত্রশিবির।

বিশ্ববিদ্যালয় সেক্রেটারি হাবিব উল্যাহ খালেদের সঞ্চালনায় এতে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি। লিখিত বক্তব্যে ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময়ে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অথচ প্রতিষ্ঠার প্রায় ছয় দশক পরও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এটি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; এটি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার একটি দীর্ঘস্থায়ী বৈষম্য এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার বাস্তব চিত্র। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও গত ৬০ বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ শতাংশেরও কম শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা আছে। প্রায় ৮০ শতাংশের অধিক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী অস্বাস্থকর কটেজ, মেস ও শহরে উচ্চ ভাড়া বহন করে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে।

অথচ, জুলাই পরবর্তী সকল প্রশাসনকে শিক্ষার্থীরা বারবার শতভাগ আবাসনের দাবি দিয়ে আসছিল। কিন্তু প্রশাসন এখন পর্যন্ত শতভাগ আবাসনের নির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপ দিতে পারেনি। আমরা আজকের সংবাদ সম্মেলন থেকে অফিসিয়ালি পুনরায় শতভাগ আবাসনের দাবি উত্থাপন করছি। আশা করব আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শতভাগ আবাসনের একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরবে।

পাশাপাশি শতভাগ আবাসন ব্যবস্থাপনার পূর্ব পর্যন্ত অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের আবাসনের দুর্ভোগ কমাতে আবাসন ভাতা চালুর জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বজন প্রীতি মুক্ত করণের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে হলের সিট বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। সম্প্রতি ছাত্রদল কর্তৃক অবৈধভাবে সিট দখলের অপচেষ্টা এবং বিভিন্ন হলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের সুপারিশের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হলে অবৈধভাবে অবস্থানের তথ্য উঠে আসছে।

তিনি আরও বলেন, পরিবহন সংকটও আবাসন সংকটের অংশ। আবাসন সংকটের কারণে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হয়। ফলে তাদের জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। এসময়, লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন চবি শাখা ছাত্রশিবির। ১. শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

২. শতভাগ আবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আবাসন ভাতা চালু করতে হবে। ৩. পরিবহন ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করতে হবে। ৪. অটোমেশন প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে মেধার ভিত্তিতে হলের সিট বণ্টন করতে হবে। ৫. অবিলম্বে চাকসু ও সিনেট নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করতে হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।