10:31 am, Friday, 9 October 2026

তেলের দাম বাড়ার পর কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাসুল বৃদ্ধি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ফুয়েল সারচার্জ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে বেসরকারি ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা। কর্মকর্তাদের দাবি, এটি বাড়তি মাসুল নয়, শুধু জ্বালানির মূল্য সমন্বয়। তবে কোনো আলোচনা ছাড়াই দাম বাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ব্যবহারকারীরা।

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সম্প্রসারিত বন্দর হিসেবে কাজ করছে ২১টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপো। এসব ডিপোতে শতভাগ রপ্তানিপণ্য ও ২৫ শতাংশ আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং হয়।

প্রতিদিন ২১টি ডিপোতে অভ্যন্তরীণ যন্ত্রপাতি ও পরিবহণ পরিচালনায় গড়ে ৮০ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। ডিপো মালিকদের দাবি, ডিজেলের দাম বাড়ায় পরিচালন ব্যয় একলাফে ১৭ ভাগ বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ডিজেল-সংশ্লিষ্ট ৬ খাতে ১৯ ধরনের সেবার মাসুল বাড়িয়ে সমন্বয় করা হয়েছে।

বিকডা’র সচিব রুহুল আমিন শিকদার বলেন, ‘বিকডা তার সদস্যেরকে বলেছে যে, তারা যেন তাদের স্ব স্ব ক্লায়েন্টদেরকে লিখিতভাবে এই বর্ধিত চার্জের কথা, বা ফুয়েল সারচার্জের হিসেবে তাদেরকে অবহিত করে। এটা কোনো মূল্যবৃদ্ধি নয়, এটা হচ্ছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চার্জের সমন্বয়।’

ইরান-ইউক্রেন যুদ্ধ, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীর সংকট এবং বিশ্ব অর্থনীতির নাজুক পরিস্থিতিতে জাহাজভাড়া বৃদ্ধির চাপে দেশের আমদানি-রপ্তানি খাত এমনিতেই সংকটে। এর মধ্যে কোনো আলোচনা ছাড়াই ডিপোর মাসুল বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ আমদানি-রপ্তানিকারকরা।

সিএন্ডএফ এজেন্ট কাজী মাহমুদ ইমাম বলেন, ‘এক্সপোর্টাররা চাপের মধ্যে আছেন যে, সঠিক সময়ে তাদের পণ্য আসছে না। আসলেও ইমপোর্টাররা দিন দিন কস্ট অব ম্যানুফ্যাকচার কমিয়ে দিচ্ছে। তো সব মিলিয়ে তারাও চাপের মধ্যে আছেন। এই সময় যদি সাড়ে ৮ শতাংশ চার্জ বেশি দিতে হয়, এটার বড় প্রভাব পড়বে।’

বিজিএমইএ-এর সাবেক পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ বলেন, ‘এটার প্রভাব দেশের সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে। এটার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ছে। সরকার হয়তো চিন্তা করছে যে, আমরা ভর্তুকি দেব কেন। কিন্তু আমরা যারা ম্যানুফ্যাকচারিং করি, আমাদের পিছিয়ে যাওয়া কোনো পথ নাই।’

বাড়তি মাসুলের ফলে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতে প্রতিযোগী দেশগুলোর কাছে অর্ডার হারানোর আশঙ্কা করছে বিজিএমইএ।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

ছয় মাসে চার লাখেরও বেশি কর্মী বিদেশে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ

তেলের দাম বাড়ার পর কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাসুল বৃদ্ধি

Update Time : 12:29:05 am, Wednesday, 23 September 2026

সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ফুয়েল সারচার্জ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে বেসরকারি ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা। কর্মকর্তাদের দাবি, এটি বাড়তি মাসুল নয়, শুধু জ্বালানির মূল্য সমন্বয়। তবে কোনো আলোচনা ছাড়াই দাম বাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ব্যবহারকারীরা।

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সম্প্রসারিত বন্দর হিসেবে কাজ করছে ২১টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপো। এসব ডিপোতে শতভাগ রপ্তানিপণ্য ও ২৫ শতাংশ আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং হয়।

প্রতিদিন ২১টি ডিপোতে অভ্যন্তরীণ যন্ত্রপাতি ও পরিবহণ পরিচালনায় গড়ে ৮০ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। ডিপো মালিকদের দাবি, ডিজেলের দাম বাড়ায় পরিচালন ব্যয় একলাফে ১৭ ভাগ বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ডিজেল-সংশ্লিষ্ট ৬ খাতে ১৯ ধরনের সেবার মাসুল বাড়িয়ে সমন্বয় করা হয়েছে।

বিকডা’র সচিব রুহুল আমিন শিকদার বলেন, ‘বিকডা তার সদস্যেরকে বলেছে যে, তারা যেন তাদের স্ব স্ব ক্লায়েন্টদেরকে লিখিতভাবে এই বর্ধিত চার্জের কথা, বা ফুয়েল সারচার্জের হিসেবে তাদেরকে অবহিত করে। এটা কোনো মূল্যবৃদ্ধি নয়, এটা হচ্ছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চার্জের সমন্বয়।’

ইরান-ইউক্রেন যুদ্ধ, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীর সংকট এবং বিশ্ব অর্থনীতির নাজুক পরিস্থিতিতে জাহাজভাড়া বৃদ্ধির চাপে দেশের আমদানি-রপ্তানি খাত এমনিতেই সংকটে। এর মধ্যে কোনো আলোচনা ছাড়াই ডিপোর মাসুল বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ আমদানি-রপ্তানিকারকরা।

সিএন্ডএফ এজেন্ট কাজী মাহমুদ ইমাম বলেন, ‘এক্সপোর্টাররা চাপের মধ্যে আছেন যে, সঠিক সময়ে তাদের পণ্য আসছে না। আসলেও ইমপোর্টাররা দিন দিন কস্ট অব ম্যানুফ্যাকচার কমিয়ে দিচ্ছে। তো সব মিলিয়ে তারাও চাপের মধ্যে আছেন। এই সময় যদি সাড়ে ৮ শতাংশ চার্জ বেশি দিতে হয়, এটার বড় প্রভাব পড়বে।’

বিজিএমইএ-এর সাবেক পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ বলেন, ‘এটার প্রভাব দেশের সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে। এটার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ছে। সরকার হয়তো চিন্তা করছে যে, আমরা ভর্তুকি দেব কেন। কিন্তু আমরা যারা ম্যানুফ্যাকচারিং করি, আমাদের পিছিয়ে যাওয়া কোনো পথ নাই।’

বাড়তি মাসুলের ফলে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতে প্রতিযোগী দেশগুলোর কাছে অর্ডার হারানোর আশঙ্কা করছে বিজিএমইএ।