বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে পলিথিনে ঢাকা জরাজীর্ণ গোলপাতার ছাপড়াঘরে চলছে পশ্চিম তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। চরম প্রতিকূল পরিবেশ ও নানা সংকটের মধ্য দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষালয়ে এসে পাঠগ্রহণ করছে শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টির নিজস্ব কোনো পাকা ভবন নেই। ২০২২ সালে পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও নতুন কোনো ভবন নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে পলিথিন টাঙিয়ে তৈরি করা গোলপাতার ছাপড়াঘরেই শিশুদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকেরা। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ মেলেনি।
শুধু ভবন সংকটই নয়, বিদ্যালয়টিতে রয়েছে তীব্র শিক্ষক সংকট। ছয়টি শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। ২০২৪ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষক রোজিনা আক্তার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এর ওপর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে সহকারী শিক্ষকের আরও দুটি পদ খালি রয়েছে। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে মাত্র তিনজন শিক্ষককে নিয়ে দুই শিফটে তিনটি শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
শ্রেণিকক্ষে নেই কোনো বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা। গোলপাতার ছাউনির ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে যায়। তখন বাধ্য হয়ে ছোট্ট একটিমাত্র অফিস কক্ষেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে আশ্রয় নিতে হয়। এমনকি সেই কক্ষেই চলে পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষার্থীরা জানায়, রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে এভাবে আর কত দিন ক্লাস করতে হবে, তারা জানে না।
দ্রুত একটি নিরাপদ পাকা ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছে তারা। অভিভাবকদের অভিযোগ, পড়াশোনার মান ভালো হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাঠদান চলায় অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোজিনা আক্তার বলেন, পুরোনো ভবন অপসারণের পর ২০২৩ সালে ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দ থেকে শুধু একটি ছোট টিনশেড অফিস কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছিল।
বর্তমানে সেখানে বসে দাপ্তরিক কাজ করতে হয় এবং বৃষ্টির সময় শিক্ষার্থীদেরও ওই একই কক্ষে এনে ক্লাস ও পরীক্ষা নিতে হয়। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাসরীন আক্তার জানান, বিদ্যালয়টির ভবন সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, পরবর্তী বরাদ্দ এলেই বিদ্যালয়টি নতুন ভবন নির্মাণের তালিকায় স্থান পাবে।













