9:12 am, Monday, 5 October 2026

আইফোন ডুওতে ওয়াকম্যানের অভিজ্ঞতা এনে দিচ্ছে নতুন অ্যাপ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

অ্যাপলের নতুন ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন আইফোন ডুও বাজারে আসার আগেই আলোচনায় এসেছে। স্বাধীন ডেভেলপার বিদিত ভার্গভ তৈরি করেছেন ডুও-ম্যান নামের একটি অ্যাপ, যা আইফোন ডুওকে অনেকটা পুরোনো দিনের ওয়াকম্যানের মতো ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা দেবে।

ডিভাইসটির দুই পর্দার সুবিধা কাজে লাগিয়ে তৈরি করা এই অ্যাপ প্রযুক্তির সঙ্গে পুরোনো দিনের সংগীত শোনার স্মৃতিকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনছে। আইফোন ডুওতে রয়েছে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির ভাঁজযোগ্য অভ্যন্তরীণ পর্দা এবং ফোন বন্ধ করলে সামনে থাকে ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চির পর্দা। ডুও-ম্যান অ্যাপ এই দুই পর্দাকে এমনভাবে ব্যবহার করে, যাতে ফোন খুলে গান নির্বাচন করা এবং ক্যাসেট ঢোকানোর মতো অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

এরপর ফোনটি ভাঁজ করে বন্ধ করলেই শুরু হবে গান শোনা। বাস্তবে অবশ্য কোনো ক্যাসেট বা যান্ত্রিক বোতাম থাকছে না। তবে অভিজ্ঞতাকে যতটা সম্ভব বাস্তবসম্মত করতে আসল ওয়াকম্যানের বোতাম চাপার শব্দ এবং ক্যাসেটের হালকা স্ট্যাটিক শব্দ রেকর্ড করে অ্যাপে যুক্ত করেছেন নির্মাতা। ফলে ডিজিটাল পর্দায় তৈরি হলেও ব্যবহারের সময় পুরোনো দিনের ক্যাসেট প্লেয়ারের আবহ পাওয়া যাবে।

বিদিত ভার্গভ নিজেও দীর্ঘদিনের ওয়াকম্যানপ্রেমী। তিনি জানান, একটি হ্যাকাথনের জন্য নতুন ধারণা খুঁজতে গিয়ে এমন কিছু পুরোনো যন্ত্রের কথা ভাবছিলেন, যেগুলোর সঙ্গে ভাঁজ বা হিঞ্জের সম্পর্ক রয়েছে। ওয়াকম্যানের ক্যাসেট ঢোকানোর জন্য দরজা খোলার বিষয়টি তার নজরে আসে। সেখান থেকেই আইফোন ডুওর ভাঁজ হওয়ার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ওয়াকম্যানের অভিজ্ঞতাকে মিলিয়ে দেওয়ার ধারণা তৈরি হয়।

অ্যাপটি প্রথমে একটি হ্যাকাথন প্রকল্প হিসেবেই তৈরি করা হয়েছিল। চলতি সপ্তাহান্তে বিট্রিগ আয়োজিত হ্যাকাথনে এটি প্রদর্শন করেন ভার্গভ এবং সেখানে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অ্যাপটির ভিডিও প্রকাশ করলে সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টটি ১৮ লাখের বেশি ভিউ এবং প্রায় ১০ হাজার লাইক পাওয়ার পর নির্মাতা এটিকে শুধু পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে না রেখে পূর্ণাঙ্গ অ্যাপে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেন।

ভবিষ্যতে ডুও-ম্যান অ্যাপে অ্যাপল মিউজিক এবং ফোনে সংরক্ষিত স্থানীয় মিউজিক ফাইল ব্যবহারের সুবিধা থাকবে। এমনকি অ্যাপল পেন্সিল ব্যবহার করে ভার্চুয়াল ক্যাসেটের ফিতা ‘রোল’ করার মতো একটি ফিচারও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরোনো ওয়াকম্যানের মতো ফাস্ট-ফরোয়ার্ড ও রিওয়াইন্ড করার অভিজ্ঞতাও তৈরি করার পরিকল্পনা করছেন নির্মাতা।

ভবিষ্যতে স্পটিফাই সমর্থন যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ডুও-ম্যানের জনপ্রিয়তার পেছনে শুধু নতুন আইফোনের আকর্ষণ নয়, প্রযুক্তিতে ফিরে আসা নস্টালজিয়ার প্রবণতাও কাজ করছে। তরুণদের মধ্যে পুরোনো ধাঁচের প্রযুক্তি নতুন করে জনপ্রিয় হচ্ছে। ডিজিটাল ক্যামেরা, ফ্লিপ ফোন, সিডি, ল্যান্ডলাইন ফোনের পাশাপাশি ক্যাসেট প্লেয়ারও আবার আগ্রহ তৈরি করছে।

নতুন প্রযুক্তির মধ্যে পুরোনো প্রযুক্তির নকশা ও ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ফিরিয়ে আনার প্রবণতা তাই ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। আইওএস ডেভেলপারদের সৃজনশীলতারও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে ডুও-ম্যান। অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর ও ডেভেলপার টুলের কারণে নতুন ধারণা দ্রুত অ্যাপে রূপ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে নতুন কোনো আইফোন প্রযুক্তি বাজারে আসার আগেই সেটিকে ঘিরে পরীক্ষামূলক ও সৃজনশীল অ্যাপ তৈরির প্রবণতা দেখা যায়।

বিদিত ভার্গভ এর আগেও একাধিক অ্যাপ তৈরি করেছেন। তার তৈরি অভিধান ও শব্দভান্ডার তৈরির অ্যাপ, চলচ্চিত্রের সুপারিশ ও ট্র্যাকিং অ্যাপ এবং সময় অঞ্চল রূপান্তরের অ্যাপ রয়েছে। তবে আইফোন ডুওকে ভার্চুয়াল ওয়াকম্যানে পরিণত করার ডুও-ম্যান প্রকল্পটি তাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। আইফোন ডুওর বিক্রি শুরু হওয়ার আগেই এমন একটি অ্যাপের আবির্ভাব দেখিয়ে দিচ্ছে, নতুন হার্ডওয়্যারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য কীভাবে ডেভেলপারদের সৃজনশীলতার দরজা খুলে দিতে পারে।

একই সঙ্গে পুরোনো দিনের ক্যাসেট, বোতামের শব্দ আর ওয়াকম্যানের স্মৃতিকে আধুনিক ভাঁজযোগ্য ফোনের পর্দায় ফিরিয়ে এনে ডুও-ম্যান প্রযুক্তি ও নস্টালজিয়ার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন তৈরি করেছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস: সীমিত প্রাপ্তিতেও জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছেন শিক্ষকেরা

আইফোন ডুওতে ওয়াকম্যানের অভিজ্ঞতা এনে দিচ্ছে নতুন অ্যাপ

Update Time : 05:51:12 am, Sunday, 4 October 2026

অ্যাপলের নতুন ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন আইফোন ডুও বাজারে আসার আগেই আলোচনায় এসেছে। স্বাধীন ডেভেলপার বিদিত ভার্গভ তৈরি করেছেন ডুও-ম্যান নামের একটি অ্যাপ, যা আইফোন ডুওকে অনেকটা পুরোনো দিনের ওয়াকম্যানের মতো ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা দেবে।

ডিভাইসটির দুই পর্দার সুবিধা কাজে লাগিয়ে তৈরি করা এই অ্যাপ প্রযুক্তির সঙ্গে পুরোনো দিনের সংগীত শোনার স্মৃতিকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনছে। আইফোন ডুওতে রয়েছে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির ভাঁজযোগ্য অভ্যন্তরীণ পর্দা এবং ফোন বন্ধ করলে সামনে থাকে ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চির পর্দা। ডুও-ম্যান অ্যাপ এই দুই পর্দাকে এমনভাবে ব্যবহার করে, যাতে ফোন খুলে গান নির্বাচন করা এবং ক্যাসেট ঢোকানোর মতো অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

এরপর ফোনটি ভাঁজ করে বন্ধ করলেই শুরু হবে গান শোনা। বাস্তবে অবশ্য কোনো ক্যাসেট বা যান্ত্রিক বোতাম থাকছে না। তবে অভিজ্ঞতাকে যতটা সম্ভব বাস্তবসম্মত করতে আসল ওয়াকম্যানের বোতাম চাপার শব্দ এবং ক্যাসেটের হালকা স্ট্যাটিক শব্দ রেকর্ড করে অ্যাপে যুক্ত করেছেন নির্মাতা। ফলে ডিজিটাল পর্দায় তৈরি হলেও ব্যবহারের সময় পুরোনো দিনের ক্যাসেট প্লেয়ারের আবহ পাওয়া যাবে।

বিদিত ভার্গভ নিজেও দীর্ঘদিনের ওয়াকম্যানপ্রেমী। তিনি জানান, একটি হ্যাকাথনের জন্য নতুন ধারণা খুঁজতে গিয়ে এমন কিছু পুরোনো যন্ত্রের কথা ভাবছিলেন, যেগুলোর সঙ্গে ভাঁজ বা হিঞ্জের সম্পর্ক রয়েছে। ওয়াকম্যানের ক্যাসেট ঢোকানোর জন্য দরজা খোলার বিষয়টি তার নজরে আসে। সেখান থেকেই আইফোন ডুওর ভাঁজ হওয়ার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ওয়াকম্যানের অভিজ্ঞতাকে মিলিয়ে দেওয়ার ধারণা তৈরি হয়।

অ্যাপটি প্রথমে একটি হ্যাকাথন প্রকল্প হিসেবেই তৈরি করা হয়েছিল। চলতি সপ্তাহান্তে বিট্রিগ আয়োজিত হ্যাকাথনে এটি প্রদর্শন করেন ভার্গভ এবং সেখানে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অ্যাপটির ভিডিও প্রকাশ করলে সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টটি ১৮ লাখের বেশি ভিউ এবং প্রায় ১০ হাজার লাইক পাওয়ার পর নির্মাতা এটিকে শুধু পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে না রেখে পূর্ণাঙ্গ অ্যাপে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেন।

ভবিষ্যতে ডুও-ম্যান অ্যাপে অ্যাপল মিউজিক এবং ফোনে সংরক্ষিত স্থানীয় মিউজিক ফাইল ব্যবহারের সুবিধা থাকবে। এমনকি অ্যাপল পেন্সিল ব্যবহার করে ভার্চুয়াল ক্যাসেটের ফিতা ‘রোল’ করার মতো একটি ফিচারও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরোনো ওয়াকম্যানের মতো ফাস্ট-ফরোয়ার্ড ও রিওয়াইন্ড করার অভিজ্ঞতাও তৈরি করার পরিকল্পনা করছেন নির্মাতা।

ভবিষ্যতে স্পটিফাই সমর্থন যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ডুও-ম্যানের জনপ্রিয়তার পেছনে শুধু নতুন আইফোনের আকর্ষণ নয়, প্রযুক্তিতে ফিরে আসা নস্টালজিয়ার প্রবণতাও কাজ করছে। তরুণদের মধ্যে পুরোনো ধাঁচের প্রযুক্তি নতুন করে জনপ্রিয় হচ্ছে। ডিজিটাল ক্যামেরা, ফ্লিপ ফোন, সিডি, ল্যান্ডলাইন ফোনের পাশাপাশি ক্যাসেট প্লেয়ারও আবার আগ্রহ তৈরি করছে।

নতুন প্রযুক্তির মধ্যে পুরোনো প্রযুক্তির নকশা ও ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ফিরিয়ে আনার প্রবণতা তাই ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। আইওএস ডেভেলপারদের সৃজনশীলতারও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে ডুও-ম্যান। অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর ও ডেভেলপার টুলের কারণে নতুন ধারণা দ্রুত অ্যাপে রূপ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে নতুন কোনো আইফোন প্রযুক্তি বাজারে আসার আগেই সেটিকে ঘিরে পরীক্ষামূলক ও সৃজনশীল অ্যাপ তৈরির প্রবণতা দেখা যায়।

বিদিত ভার্গভ এর আগেও একাধিক অ্যাপ তৈরি করেছেন। তার তৈরি অভিধান ও শব্দভান্ডার তৈরির অ্যাপ, চলচ্চিত্রের সুপারিশ ও ট্র্যাকিং অ্যাপ এবং সময় অঞ্চল রূপান্তরের অ্যাপ রয়েছে। তবে আইফোন ডুওকে ভার্চুয়াল ওয়াকম্যানে পরিণত করার ডুও-ম্যান প্রকল্পটি তাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। আইফোন ডুওর বিক্রি শুরু হওয়ার আগেই এমন একটি অ্যাপের আবির্ভাব দেখিয়ে দিচ্ছে, নতুন হার্ডওয়্যারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য কীভাবে ডেভেলপারদের সৃজনশীলতার দরজা খুলে দিতে পারে।

একই সঙ্গে পুরোনো দিনের ক্যাসেট, বোতামের শব্দ আর ওয়াকম্যানের স্মৃতিকে আধুনিক ভাঁজযোগ্য ফোনের পর্দায় ফিরিয়ে এনে ডুও-ম্যান প্রযুক্তি ও নস্টালজিয়ার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন তৈরি করেছে।