যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই ইউক্রেনের খারকিভে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া—এমন অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
তার দাবি, রাশিয়ার হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে এখনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি মস্কো। জেলেনস্কি বলেন, ট্রাম্পের ঘোষণার কথা তিনি গণমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছেন। ইউক্রেন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে প্রস্তুত, তবে রাশিয়াকেও একই পদক্ষেপ নিতে হবে। দুই পক্ষ সম্মত হলে এটি যুদ্ধ অবসানের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের ঘোষণার পরও হামলা অব্যাহত থাকার প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, ‘এটা স্পষ্ট, পুতিন ট্রুথ সোশ্যাল পড়েন না। ’ উল্লেখ্য, ট্রুথ সোশ্যাল ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাফটোগাজ জানিয়েছে, রাতভর রুশ হামলায় খারকিভের একটি গ্যাস উৎপাদন স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। জেটচালিত ড্রোনের আঘাতে গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। দেশটির বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান উক্রেনেরগো জানিয়েছে, রুশ হামলায় খারকিভ, দোনেৎস্ক ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের ওপর চাপ কমাতে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এদিকে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেছেন, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর খারকিভের জ্বালানি অবকাঠামোয় রুশ হামলা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা বন্ধের প্রস্তাবের জবাবে রাশিয়ার এমন পদক্ষেপ উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে জানানোর মতো কিছু থাকলে তা জানানো হবে। ইউক্রেনে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাশিয়া যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ী শান্তি চায়।
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে প্রতি শীতেই দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। আসন্ন শীতের আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়ার তেল অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা বন্ধের ওপর জোর দিয়েছেন।
একই সঙ্গে রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহের একটি চুক্তির কথাও সামনে এসেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এ চুক্তির সমালোচনা করে একে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের জন্য উপহার বলে অভিহিত করেছেন। এদিকে, যুদ্ধ চলাকালে নিরাপত্তার কারণে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জেলেনস্কি। তবে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি হলে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের পথ খুঁজতে পার্লামেন্টের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানান তিনি।




















